অন্ধকার ঘরের শব্দ – দ্বিতীয় পর্ব”
আরিয়ান নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই তার সবচেয়ে কাছের বন্ধু তানভীর বিশ্বাস করতে পারছিল না। সে জানত, আরিয়ান ভয় পেলে পালিয়ে যেত—কিন্তু এভাবে হারিয়ে যাওয়ার কথা না।
সবাই নিষেধ করলেও তানভীর এক বিকেলে সেই পুরোনো বাড়ির সামনে এসে দাঁড়াল। দরজাটা আগের মতোই অর্ধেক খোলা। ভেতরে ঢুকতেই কেমন ঠান্ডা অনুভূতি।
সে সরাসরি উপরের ঘরে গেল। ঘরটা খালি… শুধু সেই পুরোনো আয়নাটা। আয়নার সামনে পড়ে আছে আরিয়ানের মোবাইল।
তানভীর মোবাইলটা তুলতেই স্ক্রিন নিজে থেকেই জ্বলে উঠল। হঠাৎ আয়নায় কিছু নড়াচড়া দেখা গেল।
সে তাকিয়ে দেখে—আয়নার ভেতরে দাঁড়িয়ে আছে আরিয়ান! তার চোখে অদ্ভুত শূন্যতা। সে ঠোঁট নাড়ছে, কিন্তু কোনো শব্দ শোনা যাচ্ছে না।
হঠাৎ আয়নার ভেতরের আরিয়ান হাত তুলে কাচে ঠুকতে লাগল। এবার স্পষ্ট শোনা গেল—
“বের হতে দাও… এটা ফাঁদ…”
তানভীর ভয়ে কেঁপে উঠল। ঠিক তখনই আয়নায় তার নিজের প্রতিচ্ছবি বদলে গেল। সে দেখল, আয়নার ভেতরে সে হাসছে… কিন্তু তার মুখ স্থির।
ঘরের দরজা ধীরে ধীরে বন্ধ হতে লাগল। আয়নার কাচে নতুন করে ফাটল ধরল।
শেষ মুহূর্তে তানভীর দৌড়ে আয়নাটা ভাঙতে গেল…
পরদিন সকালে লোকজন দেখল—বাড়িটার উপরের ঘরে আয়নাটা সম্পূর্ণ অক্ষত।
কিন্তু এখন আয়নার ভেতরে দু’জন দাঁড়িয়ে আছে—আরিয়ান আর তানভীর।
আর আয়নার সামনে পড়ে আছে আরেকটা মোবাইল…