আরিয়ান আর তানভীরের নিখোঁজ হওয়ার পর পুরো এলাকা আতঙ্কে ভরে গেল। বাড়িটা ভাঙার সিদ্ধান্ত নিল গ্রামবাসী।
ভোরে কয়েকজন লোক সাহস করে উপরের ঘরে ঢুকল। আয়নাটা আগের মতোই দেয়ালে ঝুলছে। কিন্তু এবার কাচের ভেতরটা অদ্ভুত কুয়াশায় ঢাকা।
হঠাৎ একজন বৃদ্ধ এগিয়ে এলেন। তিনি বললেন, বহু বছর আগে এই বাড়ির মালিক ছিলেন এক অদ্ভুত কারিগর। তিনি নাকি এমন একটি আয়না বানিয়েছিলেন, যা মানুষের “প্রতিচ্ছবি” নয়—তার “অন্তরের ভয়” ধরে রাখে।
যারা নিজের ভয়ের মুখোমুখি হতে পারে না, আয়নাটা তাদের ভেতরে টেনে নেয়।
লোকজন আয়নাটা নামিয়ে ভাঙার চেষ্টা করল। কিন্তু হাতুড়ির আঘাতেও কিছু হলো না। ঠিক তখন কাচের ভেতর থেকে স্পষ্ট দেখা গেল—আরিয়ান আর তানভীর হাত তুলে কিছু বলতে চাইছে।
বৃদ্ধ চিৎকার করে বললেন,
“ওদের ভয়টাই আয়নার শক্তি! যদি কেউ ভয় না পায়, আয়নাটা নিজেই ভেঙে যাবে!”
সবাই পিছিয়ে গেল। এক ছোট ছেলে, রিদয়, এগিয়ে এলো। সে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে শান্ত গলায় বলল,
“আমি ভয় পাই না। তুমি শুধু কাচ, এর বেশি কিছু না।”
কয়েক সেকেন্ড নীরবতা। তারপর হঠাৎ বিকট শব্দে আয়নাটা ফেটে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেল।
ঘরের মেঝেতে অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিল আরিয়ান আর তানভীর।
কিন্তু গল্প এখানেই শেষ নয়…
ভাঙা কাচের এক ছোট টুকরো কোণে পড়ে ছিল।
আর সেই টুকরোর ভেতরে—মৃদু হাসি মুখে দাঁড়িয়ে ছিল আরেকটি ছায়া…
রহস্য কি সত্যিই শেষ হলো? 👀