Posts

গল্প

ছোট সোনামণিদের খেলনার আকর্ষণীয় বস্তু

February 20, 2026

Morshedafariha81

32
View

ভূমিকা  ঃ        একটি শিশু বেড়ে উঠার জন্য খেলাধুলা অপরিহার্য বিষয়। শিশুর মানসিক বিকাস ও                        শারীরিক বিকাসে দিনের একটি সময় খেলাধুলা হতে পারে তার মূল বিকাসশক্তি । শিশুর খেলার জন্য থাকতে পারে নানা মাধ্যম। হতে পারে তা খেলনার নানা বস্তু বা মাঠ জুড়ে বিভিন্ন মাঠ পর্যায়ের খেলা। যদি গৃহ বান্দব খেলা হয় তাহলে তাদের হাতে যেকোন খেলনা দিলে তা তাদের জন্য কতখানি নিরাপদ বিবেচনার বিষয়। বাজারে বিক্রি করা নানা প্লাস্টিক জাতীয় খেলনা তাদের আক্রান্ত করতে পারে নানা রোগে। কেনোনা প্লাস্টিকে আছে  নানা ক্ষতিকারক উপাদান। তার মধ্যে অন্যতম হলো বিসফেনল -এ , ফথ্যালেটস এবং বিভিন্ন ভারী বস্তু ,পলিস্টারাইরিন ইত্যাদি।  

বয়স অনুযায়ী খেলনা নির্ধারন ঃ   ০ থেকে ৩ মাসের বাচ্চাদের শব্দ ছিনার মাধ্যমে নানা খেলনা দেওয়া যেতে পারে। সেটি হতে পারে রঙ্গিন শব্দ সৃষ্টিকারি খেলনা। ৪ থেকে ৮ মাসের বাচ্চাদের  মেধা বিকাসের জন্য নানা ব্লগ তৈরি খেলনা, রঙ্গিন বল, সে সকল খেলনা যা তাদের দ্বারা কাজ করতে সক্ষমতা যোগায়। ৯ থেকে ১২ মাসের বাচ্চাদের খেলনা হতে পারে এমন যা তাদের বুদ্ধিমত্তা বাড়াতে , শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। ১ বছর পর থেকে খেলনার ধরণ ও মান সঠিক রেখে শিশুদের খেলতে দিতে পারা যায়। কিন্তু এইখানে বিবেচ্ছ বিষয় এই যে কখনও লিঙ্গ অনুযায়ী খেলনা নির্ধারন না করা। কেননা খুব অল্প বয়স থেকে লিঙ্গের বেধাবেদ শিখালে শিশুদের মনস্তাত্ত্বিক চিন্তা চেতনা বৃদ্ধিতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। 

   

বইয়ের পাতায় খেলা ঃ   পড়াশোনাকে ভয় পাওয়া একটা বড় ব্যাপার। কেমন হয় যদি মজার ছলে পড়াশোনাকে কাজে লাগানো যায়? বইয়ের পাতায় ভয় নয়, পড়তে হবে মজার সয়। এই অভিনব পদ্ধতিকে মাথায় রেখে আমাদের শিশুদের হাতে দিতে হবে রঙ্গিন বই। যে বইয়ে থাকতে পারে ছন্দের তালে তালে নানা ছড়া, গল্প, রুপকথার গল্প, কল্পনার নানা কাহিনী ইত্যাদি। পাশাপাশি এইসব লিখায় আমরা যুক্ত করতে পারি নানা দৃশ্য যা থাকবে রং তুলি দিয়ে আঁকা । তাছাড়া প্রযুক্তির নানা ব্যবহারে আমরা বইয়ের পাতায় যুক্ত করতে পারি  প্রযুক্তিভিত্তিক নতুন নতুন সিস্টেম। হতে পারে তা ছন্দের তালে নানা কবিতা অথবা নানা গল্প। যাতে থাকতে পারে মনমুগ্ধকর ছন্দের গান ও দৃশ্য প্রকল্প। এতে করে শিশুদের মেধা বিকাশ এর পাশাপাশি দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করবে। 

শিশুর খেলনা প্লাস্টিক বিরোধী  ঃ   আমরা সকলে জানি প্লাস্টিকে আছে নানা বিষাক্ত ও ক্ষতিকর পদার্থ। প্লাস্টিক বর্জন করে আমরা যদি সিলিকোন মেটাল বা অন্য কোন সাস্থ্যসমত্ত দ্রব্য ব্যবহার করি তবে শিশুদের প্লাস্টিক দ্বারা আক্রান্ত রোগ থেকে রক্ষা করতে পারবো। বিশ্বের উন্নত দেশ গুলোতে শিশুদের বেড়ে উঠার জন্য খেলাধুলাকে প্রাধান্য দিয়েছে জোরালো ভাবে। তারা শিশুদের প্রতিনিয়ত শিখাচ্ছে  শারীরিক নানা পরিচর্চা। তারা দেড় বছর বয়স থেকে শিশুদের শিখাচ্ছে সাতার, বাগান পরিচর্চা, দোউড়-যাপ ইত্যাদি। তারা শিশুদের খেলনায় ব্যবহার করছে সিলিকোন মেটাল , স্বাস্থ্যসমত্ত বস্তু ইত্যাদি। অন্যদিকে বাংলাদেশে প্লাস্টিক দিয়ে খেলনা বানানোর প্রচলন অনেক। যা শিশুদের স্বাস্থ্য জুকি বাড়িয়ে দেয় দ্বিগুণ। এতে শিশুদের পর্যাপ্ত খেলনার চাহিদা মিটাতে না পেরে শিশুরা ডিভাইস মুখী হচ্ছে দিন দিন। এর ফলে তাদের শারীরিক বিকাশ ও মানসিক বিকাশ বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে যতপ্রযুক্ত। তাই আমাদের উচিত প্লাস্টিক বর্জন করা। প্লাস্টিকের বিকল্প নির্ধারণ। যাতে করে শিশুদের মানসিক চাহিদা পূরণে ও শারীরিক বিকাসে খেলাধুলা যতার্থ ভূমিকা রাখে।

উপসংহার ঃ   একটি শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাসে জন্য  খেলাধুলা অপরিসীম। তাদের ডিভাইস মুখী হওয়া থেকে বিরত রাখতে আমাদের শিশুদের বয়স অনুযায়ী খেলনা নির্ধারণ করতে হবে। প্লাস্টিক মুক্ত খেলনা তৈরির নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। আমাদের উচিত শিশুদের রঙ্গিন ও আকর্ষণীয় বস্তুর খেলনা তাদের শৈশবের মাঝে পরিচয় করিয়ে দেয়া। এতে করে তারা পরিচিত হবে নানা রং এর সাথে পাশাপাশি শিখবে খেলার ছলে প্রকৃতির সাথে বেড়ে উঠা। একটি শিশুর জীবনে খেলার সময়টুকু অপরিসীম ভূমিকা রাখে। কেননা মেধা বিকাস ও শারীরিক সুস্থতায় খেলাধুলা অপরিহার্য। তাই খেলনা তৈরিতে আমাদের প্লাস্টিককে বর্জন করতে হবে। পাশাপাশি খেলার মাঠের সঙ্গে তাদের শিশু মন বিকাসের জন্য পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। এতে সোনামণিদের মেধার বিকাস ও স্বাস্থ্য গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।  

লেখিকা: মোর্শেদা বেগম।

Comments

    Please login to post comment. Login