Posts

চিন্তা

দিশাহীন আ.লীগ এখন কোন পথে!

February 23, 2026

ফারদিন ফেরদৌস

20
View

শেখ হাসিনা আসবে বাংলাদেশে হাসবে! এটি হলো আ.লীগারদের কল্পিত Utopia. সদ্যই তারা তীব্র Dystopia পেরিয়ে আসলেও সেটি ভুলে থাকবার একটা বাহানা করছে হয়ত।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে জাতিসংঘসহ সারা বিশ্ব স্বীকৃতি দিয়েছে। যারা নিশিভোট কিংবা আমি ডামির তকমাধারী কেবল তারাই বলছে এটা মাগরিবের ভোট। এটি প্রথম নির্বাচন যেখানে একজন মানুষও নিখোঁজ কিংবা খু'নোখুনির শিকার হয়নি।

গেল ১৫ বছর বিএনপিকে ডেমোলিশ করতে গিয়ে নিজেদের বুকেপিঠে যত্ন করে রেখে জামায়াতের ভোট বাড়িয়েছে আ.লীগ। আরেকটু হলে ক্ষমতায়ই চলে গিয়েছিল ডানপন্থী জামায়াত। এইসব অবস্ট্যাকল কাটিয়ে ১৯ বছর পর মধ্যপন্থী বিএনপি ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করেছে নিজেদের জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক কারিশমা দিয়ে। সেই তারা আ.লীগকে খুব সহসাই রাজনৈতিক স্পেস দেবে এটা আ.লীগের অলীক কল্পনা।

ইনফ্যাক্ট হাসিনা পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয় আলজাজিরা এবং রয়টার্সে সাক্ষাৎকার দিয়ে বলেছেন বাংলাদেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আ.লীগ আর ফিরবে না। হয়ত নতুন প্রজন্মের কোনো নেতৃত্বে আ.লীগ আসবে। কারণ আইডিওলজির রূপান্তর আছে, বিনাশ খুব কমই হয়। তো সেটি বাস্তবানুগ হতে হলেও কার্যক্রম নিষিদ্ধের খড়গ ওই তারেক রহমানকেই তুলতে হবে। মিস্টার জয় যেমনটা বলেছেন, তারা তারেক রহমানের সাথে কথা বলতে প্রস্তুত। কিন্তু কথা বলবার সামান্য ক্ষেত্র তৈরি করবার দিকেও তাদের মনোযোগ নাই। নির্বাচনের বদনাম করে মিস্টার রহমানের কাছে পৌঁছানোর তরিকা মারাত্মক ভুল। গেল জাতীয় নির্বাচনে সারাদেশে আ.লীগের ভোট তিনভাগে বিভক্ত ছিল। যেখানে বিএনপি জিতেছে সেখানে আ.লীগের ভোট তারা পেয়েছে। আর যেখানে জামায়াত জিতেছে সেখানে জামায়াতিরাই পেয়েছে। আরেকটা গ্রুপ ছিল যারা নির্বাচনে ভোটই দিতে যায়নি।

অনেকেই ভেবেছিল নির্বাচন শেষে ক্ষমতাসীন দলের তীব্র রোষানলে পড়বে আ.লীগাররা। বাস্তবে তেমন কিছুই ঘটেনি। যার যার এলাকায় বিএনপি-জামায়াতের অ্যাক্টিভিস্টরাই আ.লীগের ভোটারদের সুরক্ষা দিয়েছে। যাদের নেতা ভুল ও ব্যর্থতার কৃতকর্ম মাথায় নিয়ে দেশান্তরিত হয়, তাদের অবস্থা ও পরিণতি এরচেয়ে ভালো আর কেমনে হয়?

বিগত সরকারের কেউ কেউ আ.লীগের সাথে রিকনসিলিয়েশনের কথা বলেছিলেন। যদি আ.লীগ তাদের অতীত ভুলের জন্য ক্ষমা চায়। কিন্তু এখন পর্যন্ত আ.লীগ নেতৃত্বের মধ্যে ক্ষমা কিংবা অনুশোচনার ছিটেফোঁটাও আমরা দেখিনি। তারা কথিত মেটিক্যুলাস ডিজাইনের চোরাগলিতেই আটকে আছে। পৃথিবীতে কবে কোথায় পরিকল্পিত ডিজাইন ছাড়া ক্ষমতার হাতবদল হয়েছে? আপনি যে ডিজাইন তথা রাজনৈতিক কূটকৌশল ধরতে পারলেন না -এই ব্যর্থতা সবার আগে স্বীকার করতে হবে।

এত কথা বলবার উদ্দেশ্য এই যে, সারাদেশে আ.লীগ কার্যালয় খুলতে গিয়ে অথবা ছবি সাটাতে গিয়ে নতুন করে শত শত নেতাকর্মী পুলিশি অভিযান এবং প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের প্রতিরোধের মুখে পড়ছেন -এই মানুষগুলোর জীবনের ন্যূনতম নিরাপত্তা আ.লীগ নেতৃত্ব দিতে পারবে? পারবে না। তাহলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বাছবিচার না করে তারা স্বরূপে ফিরতে এখনই মরিয়া হচ্ছে -এর মানে কি? এতটা ধৈর্যহারা কেন?

আ.লীগের কোটিপতিরা বিদেশ বিভূঁইয়ে আরাম আয়েশে জীবন যাপন করছেন। লণ্ডনে অভিজাত এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আর দেশে ধরা পড়া নেতাকর্মীরা জেলে পঁচছে। গা বাঁচিয়ে চলা ওই নেতারা চায় তাদের কর্মীরা অকাতরে জীবন দিক -তাদের দেশে ফেরার রাস্তাটা সুগম হোক। এটা একেবারেই ভুল আবদার। আপনারা গোলেমালে তিন টার্ম দেশ শাসন করেছেন। প্রেসিডেন্ট জিয়ার ছেলের শাসন এক টার্ম দেখবেন না -এটা কেমন কথা? ক্ষমতার জন্য এত অধৈর্য হলে চলে? ঠিক এই মুহূর্তে তারেক রহমানের বদনাম করবেন কী দিয়া? লাস্ট নির্বাচন কি তিনি বা তাঁদের নেতৃত্বাধীন কোনো সরকার করেছে?

আ.লীগের জন্য এখন একটাই পথ খোলা। 
ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং বিরোধীদল জামায়াতের সাথে সম্পর্ক ভালো করা। কেবল আত্মকেন্দ্রিক নিজের দিকে না তাকিয়ে ক্ষমতাসীন সকল দলকে স্বীকৃতি দিতে হবে আগে। একদলে বিশুদ্ধ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় না, আধুনিক বিশ্বে নিন্দনীয় ও অগ্রহণযোগ্য একনায়কতন্ত্র হতে পারে। কাজেই ঢালাওভাবে প্রতিপক্ষের নিন্দামন্দ না করে আদালতের রায়কে গ্রাহ্য করে সম্পর্ক বিল্ড আপ কেমনে করবে -এ বিষয়ে তারা ভাবতে পারে। তার আগে এখনো জ্যান্ত বিপ্লবের হুতাসনে ঠেলে দিয়ে নিজেদের কর্মীদেরকে এভাবে বিপাকে ফেলবার আদৌ কোনো মানে থাকতে পারে না।

লেখক: সাংবাদিক 
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Comments

    Please login to post comment. Login