Posts

গল্প

বাবার জন্যে উপহার

February 23, 2026

Mahmud R

Original Author My original post

137
View

উদ্ভট উদ্ভট ঘড়ি কেনার বাতিক আছে আমার। দুনিয়ার উদ্ভট ঘড়ি বানায় একমাত্র Casio কোম্পানী। ঘড়ির ভেতর জ্যাক লাগায়ে টিভি গেম খেলা যায়, কিছু ঘড়িতে এখনকার দিনের ট্যাবলেটের মত হালকা-পাতলা কাজ সেরে নিতে পারবেন আবার ধরেন ঘড়ি দিয়েই ঘরের এসি, টিভি চালানো যাবে - এইসব চিন্তা ক্যাসিওয়ালা ছাড়া আর কারো মাথায় আসে না।

প্রথম জাপান গিয়েছি। টোকিও শহর। সেখানে নাকি দোকানে পুরাতন ঘড়ি বিক্রি করে। নতুন ঘড়ি থেকে এসব পুরাতন ঘড়ির দাম তিনগুন ! এসব দোকানে দামাদামি করে নিজেকে নোয়াখাইল্লা প্রমান করা যায় না ...

এক থুত্থুড়ে বয়স্ক মহিলা দোকানটা চালান। কিছুটা কুজো হয়ে হাটেন। ভালোই ইংরেজী জানেন। আমি আগে ভাবতাম, ছেলেদের ঘড়ির দোকানে মেয়ে সেলসম্যান মানে শোপিস - এই ভদ্রমহিলা ঘড়ি নিয়ে রীতিমত নমস্য।

একটা ঘড়িও আমার কেনার সাধ্যে নাই। সবচেয়ে কমদামি ঘড়ির দাম সেকালের বাংলাদেশী টাকায় ৫২ হাজার টাকা, মাত্র ! আমার কিডনীর দামও অত না। হুদাই দোকানে ঘুরে বেড়াচ্ছি।

- কেমন ঘড়ি খুজছো ?
- চোখে যা ভালো লাগে আর কি !
- কোন বয়সের মানুষের জন্যে খুজছো ? তোমার বাবার জন্যে উপহার নিবে?
- আমার বাবা নেই।
- তোমার মন খারাপ করিয়ে দিলাম। যে ছেলে তার বাবার জন্যে উপহার কিনতে পারে না, সে খুব দরিদ্র ...

প্রিয় মানুষদের বিরক্ত করতে, ঈদের সময় আমি প্রচুর আলতু-ফালতু জিনিস কিনি। সারাবছরই টুকটাক কিনি। এই যেমন ধরেন প্লাস্টিকের পিঠ চুলকানীর হাত, কান চুলকানোর কটনবাড, কারো নাম লেখা স্পেশাল অর্ডার দিয়ে বানানো আন্ডারওয়ার, উকুননাশক শ্যাম্পু, ভাষা মধুর করতে যষ্ঠিমধু, সাইজে ছোট পাঞ্জাবী - যেটায় মাথা ঢোকানোর পর বডিতে আর নামবে না ... ... ভালো জিনিসও কিনি। কম !

আমার কানে খালি জাপানীজ মহিলার কথা ভাসে, ' যে ছেলে তার বাবার জন্যে উপহার কিনতে পারে না, সে খুব দরিদ্র ... '

আমি জীবনে কখনো আমার বাবার জন্যে কিছু কিনতে পারিনি ...

রাস্তায় পোলাপানকে বিড়ি ফুকতে দেখলে আমার ইচ্ছে করে ডেকে বলি, ৭ দিনের বিড়ির টাকা জমিয়ে বাবার জন্যে কিছু কিনে বাড়ি ফিরতে। একদিন অনেক টাকা হবে, বাবা সেদিন থাকবেন না।

এখনকার পোলাপানকে ডেকে কিছু বলার সাহস আমার হয় না ...

-রাকীবামানিবাস
২৩ শে ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ 

Comments

    Please login to post comment. Login