Posts

উপন্যাস

ক্যাম্পাসপ্রেম,পর্ব২২

February 23, 2026

Humayun Kabir

224
View

 ক্যাম্পাস-প্রেম,২২

হুমায়ূন কবীর 

01750 916986

মিন্টু বলল-  তুষার ভাই,চা দেবো? চা খাবেন? 

- আরে ধুর, রাখো তোমার চা। তুমি তো মিয়া সব সময় চা বিক্রির ধান্দা নিয়ে আছো। 

রাগে,অপমানে, ক্ষোভে,হতাশায় সমস্ত শরীর জ্বলছে। এ তো তার কিছু জানে না।কিচ্ছু জানে না। সে ধিরে সুস্থে কিছুটা আপন, কিছুটা ব্যবসায়ী ভঙ্গিতে বললো-

- না বলছিলাম, মাথা ধরে বসে আছেন। মাথায় যন্ত্রণা করলে চা খেলে সেরে যায়। দেবো এক কাপ আদা চা?

- সারে, চা খেলে সারে। কিন্তু তোমার ঐ ছেকারিন খেলে সারে না। বিড়ি দাও। 

মিন্টু একটা সিগারেট এগিয়ে দিল।বললাম, ধুর মিয়া  এক প্যাকেট দাও। 

মিন্টু আমাদের কলেজের নাইট গার্ড।রাতে  কলেজ পাহারা দেয়। দিনের বেলা গেটের পাশে দোকান খুলে বসে।তার  প্রধান পসরা হলো চা। সে সারাদিন চা বেঁচে। বাড়ি থেকে চা বানিয়ে আনে।চা তো না লাল ছ্যাকারিনের পানি। হলের বেকার ছেলেপুলেরা সব মজা করে এক টাকা কাপ দরে খেয়ে বিড়ি ফুকতে ফুকতে মজা করে। মিন্টু সিগারেট দিয়ে বলল, আপনার চোখ লাল কেন?  জ্বর টর নাকি? 

কথা বলতে বলতে সে আমার কপালে হাত রাখল। সে আমার আত্মীয় না। আমি তার কোনদিন কোন উপকারও করিনি, বরং মজা করে মাঝে মাঝে দু একটা সিগারেট চায়ের পয়সা মেরে দিই। 

-তুষার ভাই, আপনার গায়ে তো অনেক জ্বর।দুটো প্যারাসিটামল খেয়ে রুমে যেয়ে শুয়ে থাকেন। 

তার আন্তরিকতায় আমার বুকের ভেতর কান্না ফুলে ফুলে উঠতে লাগলো। তাড়াতাড়ি উঠে রুমে চলে আসলাম। কেদে কেঁদে নিজেকে হালকা করতে চাইলাম। চোখের পানিতে বালিশ ভিজে গেল। 

মানুষ এত স্বার্থপর হয়?সে তার স্বার্থ উদ্ধারের জন্য  যে কোন ভূমিকা অভিনয় করতে পারে? এই যে রাসমিন বারবার আমার কাছে আসে।এই যে আমার  হৃদয়ের হাহাকার-  কত কথার মাধ্যমে কতবার বোঝাবার চেষ্টা করেছি, আহত হয়েছি- সেসব একবারও সে অনুভব করতে পারেনি? তার কি মন বলে কিছু নেই? তাহলে সবি তার অভিনয়? তাই যদি হয়ে থাকে তাহলে, বলতে হবে-  আমার দেখা শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী সে। শ্রেষ্ঠ স্বার্থপর সে। তার অভিনয়ের ভেতর কোন দাদা খাদ নেই। কি অকৃত্রিম তার অভিনয়, কি সুচারু তার কলা কৌশল। অন্তরের গভীরে প্রবেশ করে সে অন্তরের মূল  ধরে টান মেরেছে। আমার আর রক্ষা নেই আমি এক বিশাল বৃক্ষের মতো রাসমিন নামক সিডরের তান্ডবে সমূলে উপড়ে পড়েছি আমার আর বাঁচার কোন সম্ভাবনা নেই। এখন শুধু ধুকে ধুকে মৃত্যুর প্রহর গোনা  ছাড়া আর কিছু করার নেই। এই হৃদয়টা ছিঁড়ে তার হাতের মুঠোয় বন্দি করে দিয়েছি। এখন আর করার কি আছে। সে যদি এখন দয়া করে আমাকে ভালোবাসে তবেই আমি বাঁচতে পারি, নাহলে নয়। কিন্তু সেই সম্ভাবনা একেবারেই শূন্য। এক'টা দিন সে শুধু পাকা খেলোয়াড়ের মত আমাকে নিয়ে খেলেছে। আর এখন অন্য একজনের সাথে চলে গেছে। যে কান্না দিয়ে তার প্রতি আমার ভালোবাসা শুরু হয়েছিল সেই  কান্নার আর শেষ নেই। এখন কান্নাই আমার জীবন। বাকি জীবন কান্নাকেই সাথী করে বাঁচতে হবে। হাই আমার নিয়তি। 

সমাজের মানুষ রাজনৈতিক নেতাদের ঘৃণা করে। আমি তাই কখনো রাসমিনের সামনে আমার রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশ করতে চাইনি। কিন্তু এখন তো দেখছি, এইসব সামাজিক স্বার্থান্ধদের কাছে একজন রাজনীতিকের লুকানোর কিছুই নেই। একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব একটা আদর্শকে ধারণ করে, একটা বিশাল জনসমষ্টি  ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করে,আদর্শের জন্য  সংগ্রাম করে,দেশের প্রয়োজনে জীবন বিলিয়ে দেয়।কিন্তু এরা?

Comments

    Please login to post comment. Login