তোমার বারান্দার বাতাস হয়ে ছুঁয়ে গেছি কত সহস্র সন্ধ্যা,
তবুও তুমি জানলে না আমার নাম।
তোমার ক্লান্ত দিনের শেষে যখন তুমি চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে,
আমি নিঃশব্দে এসে ছুঁয়ে দিতাম তোমার কাঁধ, তোমার উসকো খুশকো চুল।
ভাবতাম হয়তো এই স্পর্শে একবার ঘুরে তাকাবে।
কিন্তু তুমি ভেবেছ, এ তো শুধু হাওয়া..!
অচেনা, অব্যক্ত, গুরুত্বহীন।
রাতের আকাশে এক ফালি চাঁদ হয়ে জ্বলেছি তোমার জানালার পাশে।
তুমি পর্দা টেনে ঘুমিয়েছ, আমায় দেখোনি একবারও।
আমি আলো ছড়িয়ে তোমার অন্ধকার ঘরে পৌঁছাতে চেয়েছি,
স্বপ্নের ভেতর একটু জায়গা পেতে চেয়েছি,
কিন্তু তোমার চোখ ছিল বন্ধ,
আর আমার অপেক্ষা ছিল জেগে থাকা এক নীরব প্রহরী।
ভোরের শিশির হয়ে নেমেছি তোমার উঠোনে....নীরবে
পায়ের শব্দে ভেঙে গেছি তবু তুমি টের পাওনি।
প্রতিদিন সূর্যের আলো আসার আগেই এসে বসতাম তোমার দোরগোড়ায়....!
এক ফোঁটা স্বচ্ছ ভালোবাসা হয়ে।
তুমি হেঁটে গেলে, আমিও গুঁড়িয়ে গেলাম
তবু মনে মনে বললাম, আগামীকাল আবার আসবো।
পথের ধুলো হয়ে হেঁটেছি তোমারই পিছু পিছু,
তোমার ছায়ার সাথে মিশে থেকেও আমি রয়ে গেলাম অদেখা।
তোমার তাড়াহুড়ো পায়ের ছন্দে নিজেকে মেলাতাম...
রাস্তার ভিড়ে হারিয়ে গিয়ে শুধু তোমাকেই খুঁজতাম।
কখনো খুব কাছে এসে দাঁড়িয়েছি,
কিন্তু তোমার দৃষ্টি ছিল দূরের কারও দিকে।
বৃষ্টি হয়ে নেমেছি তোমার জানালায়,
টুপটাপ শব্দে ডেকেছি নাম ধরে,
তুমি ভেবেছ এ তো ঋতুর খেলা,
কেউ একজন যে কাঁদছে, তা বুঝলে না।
শীতের কুয়াশা হয়ে জড়িয়ে ধরেছি তোমার সকাল...
রোদ হয়ে পড়েছি তোমার বিকেলে,
ছায়া হয়ে থেকেছি তোমার একাকী দুপুর।
আমি ছিলাম তোমার আশেপাশে ছায়া সঙ্গী হয়ে।
কখনো মানুষ হয়ে উঠতে পারিনি তোমার চোখে।
এভাবেই বদলেছে ঋতু... বদলেছে শহরে
শুধু বদলায়নি আমার অপেক্ষা।
আমি প্রতিবার নতুন রূপে এসেছি
হাওয়া, চাঁদ, শিশির, ধুলো হয়ে
শুধু একবার তোমার কমল হৃদয়ে ভেতর একটুখানি জায়গা পেতে।
কিন্তু তুমি দেখোনি।
আর আমি অদেখা হয়েই
তোমার চারপাশে ঘুরেছি অনন্তকাল।
রহিম ✍️