১৯৭১ সালের ২রা মার্চ সকালের কথা। চারিদিকে ছিলো তখন পাকিস্তানিদের জুলুম। আমাদের বাড়িটা ছিলো গাছের আড়ালে । বাড়ি থেকে রাস্তা ছিল অনেক দুরে। রাস্তা থেকে বুঝা যেত না যে আমাদের বাড়িটা এখানে। ঘরে শাক-সবজি কিছু না থাকায় বাবা গিয়েছিলেন বাজারে। তখন পাকিস্তানিদের কারণে বাবা বেশি বেড় হন না । আমি ছিলাম তখন ১৪ বছরের। বাবা বেড় হয়ে যাবার পর শুনি বাজারে নাকি মিলিটারিরা হামলা করেছে। মা তো ভয়ে থরথর করছে। আমাদের বাজার ছিল উত্তর দিকে। এবং আমাদের বাড়িটা ছিলো দক্ষিণ দিকে। মা রান্না ঘর থেকে শুনতে পায় গুলাগুলির শব্দ। বাবা সেই সকালে বাজারে গিয়েছিলেন এখন দুপুর। ঘরে শাক-সবজি কিছু না থাকায় আমরা কিছু খেতেও পারেনি। বিকেল ও হয়ে যায় বাবা আসেনা। তখন ৪ জন লোক কাঁদে কি যেন নিয়ে আসছে। বাড়ির সামনে নিয়ে এসে রাখল। আমি চেয়ে দেখি আমার সেই বাবা। রক্তাক্ত অবস্থা। তাদের মুখ থেকে শুনি বাবা মিলিটারির গুলি খেয়ে নদী পারে পরেছিল। মা ও আমার ছোট বোনতো চুপ। সবার চোখে অশ্রু। বাবার সৎকার করা হলো। সবাই শোকাহত । দুই তিন দিন এভাবে কেটে গেছে। রেডিও তে শুনি ৭ই মার্চ এর ভাষন। তখন চারিদিকে হাহাকার। একদিন ২৫এ মার্চ রাতে পাকিস্তানরা আমাদের গ্রামে আগুন লাগিয়ে দেয়। কিন্তু আমাদের বাড়িতে আগুন লাগিনি কারন বাড়ির চারপাশে ছিল গাছ । মিলিটারিরাও আমাদের বাড়িটি দেখিনি। ২৬য়ে মার্চয়ে যুদ্ধ শুরু হয় চারিদিকে শুধু গুলাগুলি। হঠাৎ একদিন মিলিটারিরা আমাদের ধরে নিয়ে যায় আমি কোন ভাবে সেখান থেকে বেঁচে ফিরে আসি। তখন আমি পন করি যে আমি যুদ্ধে অংশ নিব। এবং অনেক প্রাণ, অনেক কষ্ট ও অনেক রক্তের বিনিময়ে আমরা ১৬ই ডিসেম্বর স্বাধীনতা লাভ করি।