শহরজুড়ে সেদিন বৃষ্টি নামছিল খুব চুপচাপ ভঙ্গিতে। আকাশটা ভারী, ধূসর—কিন্তু বৃষ্টিটা ছিল নরম😌, যেন কারও দীর্ঘদিনের জমে থাকা না-বলা কথার মতো। বারান্দায় দাঁড়িয়ে মেঘলা ভেজা রাস্তায় আলো-ছায়ার খেলা দেখছিল। ল্যাম্পপোস্টের হলুদ আলো বৃষ্টির ফোঁটায় ঝিকমিক করছিল, যেন আকাশ তার নিজের অশ্রু লুকাতে চায়।💦
মেঘলার বৃষ্টি খুব প্রিয় ছিল একসময়। কলেজে পড়ার সময় বৃষ্টি মানেই ছিল ছাতা ছাড়া হাঁটা, ভিজে চুলে হাসি লুকানো, আর কারও সঙ্গে একই রাস্তায় ধীরে ধীরে হাঁটা। সেই দিনগুলোতে বৃষ্টি ছিল রোমাঞ্চ,🌧️ ছিল নতুন স্বপ্নের গন্ধ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছু বদলে গেছে। মানুষ বদলেছে, সম্পর্কের রং ফিকে হয়েছে, প্রতিশ্রুতিগুলো কাগজের 📜মতো নরম হয়ে ভিজে ছিঁড়ে গেছে।
এখন বৃষ্টি নামলে শহরের শব্দ কমে যায়—গাড়ির হর্ন🚨 থেমে আসে, মানুষের ব্যস্ততা একটু ধীর হয়। কিন্তু মেঘলার ভেতরের শব্দগুলো যেন তখনই বেশি স্পষ্ট শোনা যায়। পুরোনো কথাগুলো, অপূর্ণ চিঠির লাইনগুলো, হঠাৎ করে ভেসে ওঠে। সে ভাবে, কিছু স্মৃতি বৃষ্টিতে ধুয়ে যায় না কেন? কেন কিছু অনুভূতি ঠিক এই ভেজা গন্ধের সঙ্গে ফিরে আসে?
হঠাৎ বিদ্যুৎ চমকালো🌩️। আকাশ কেঁপে উঠল, আর সেই আলোয় মেঘলা নিজের প্রতিবিম্বটা দেখল কাঁচের দরজায়। তার চোখে আর আগের মতো কষ্টের ছায়া নেই—আছে একরকম স্থিরতা। সে বুঝতে পারল, এতদিন সে বৃষ্টিকে দোষ দিচ্ছিল; আসলে সে নিজেই স্মৃতিগুলো আঁকড়ে ধরে ছিল।😔
মেঘলা ধীরে ধীরে বারান্দা থেকে বেরিয়ে এলো। ছাতা নিল না। সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে রাস্তায় পা রাখল। ঠান্ডা বৃষ্টির ফোঁটা গায়ে লাগতেই তার মনে হলো, এই ভেজা অনুভূতিটা কষ্ট নয়—এটা মুক্তি। প্রতিটা ফোঁটা যেন তাকে বলছে, “ছেড়ে দাও।”
সে হাঁটতে লাগল ভেজা পথে। পুরোনো দিনগুলোর জন্য আর আফসোস হলো না। কারণ সে বুঝেছে, বৃষ্টি কেবল ভিজিয়ে দেয় না—পরিষ্কারও করে। ধুলো ধুয়ে নেয়, ভার লাঘব করে, নতুন দিনের জন্য জায়গা বানায়।
বৃষ্টি তখনও পড়ছিল, কিন্তু মেঘলার ভেতরে যেন আকাশ পরিষ্কার হয়ে গেছে।💙
19
View