এখানে ইরানের ইতিহাসের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ বাংলায় দেওয়া হলো:
ইরানের ইতিহাস
প্রাচীন যুগ
ইরান (পারস্য) বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন সভ্যতার কেন্দ্র। খ্রিস্টপূর্ব ৭০০০ অব্দ থেকে এই অঞ্চলে মানববসতির প্রমাণ পাওয়া যায়।
এলামাইট সভ্যতা (খ্রিস্টপূর্ব ৩২০০–৫৩৯ অব্দ) ছিল ইরানের প্রথম প্রধান সভ্যতাগুলির মধ্যে একটি।
আকেমেনিড সাম্রাজ্য (৫৫০–৩৩০ খ্রিস্টপূর্ব)
সাইরাস দ্য গ্রেট ৫৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে আকেমেনিড সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ছিল পৃথিবীর প্রথম বৃহৎ সাম্রাজ্যগুলির একটি, যা গ্রিস থেকে ভারত পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
দারিয়ুস ও জেরক্সেসের শাসনে এই সাম্রাজ্য তার শীর্ষে পৌঁছায়। ৩৩০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট এই সাম্রাজ্য জয় করেন।
পার্থিয়ান ও সাসানিড যুগ (২৪৭ খ্রিস্টপূর্ব–৬৫১ খ্রিস্টাব্দ)
আলেকজান্ডারের মৃত্যুর পর পার্থিয়ানরা ইরানের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তারপর সাসানিড সাম্রাজ্য (২২৪–৬৫১ খ্রিস্টাব্দ) ইসলামের আগমনের আগ পর্যন্ত শাসন করে।
এই যুগে জরোয়াস্ট্রিয়ান ধর্ম রাষ্ট্রধর্ম ছিল এবং শিল্প, স্থাপত্য ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে।
ইসলামি বিজয় ও মধ্যযুগ (৬৫১–১৫০১ খ্রিস্টাব্দ)
৬৫১ খ্রিস্টাব্দে আরব মুসলিম বাহিনী ইরান জয় করে এবং ইসলাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
ইরানিরা ইসলাম গ্রহণ করলেও তাদের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি বজায় রাখে।
এই সময়ে ফেরদৌসি (শাহনামা), রুমি, হাফেজ-এর মতো মহান কবি-সাহিত্যিকদের উদ্ভব হয়। মোঙ্গল ও তৈমুরিদরা ইরান আক্রমণ করলেও পরে ইরানি সংস্কৃতির সাথে মিলে যায়।
সাফাভিদ সাম্রাজ্য (১৫০১–১৭৩৬)
শাহ ইসমাইল প্রথম সাফাভিদ বংশ প্রতিষ্ঠা করেন এবং শিয়া ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করেন।
এটি ইরানের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। শাহ আব্বাস প্রথম-এর শাসনকালে ইসফাহান নগরী বিশ্বের অন্যতম সুন্দর শহরে পরিণত হয়।
কাজার ও পাহলভি যুগ (১৭৯৬–১৯৭৯)
কাজার রাজবংশ (১৭৯৬–১৯২৫) ব্রিটেন ও রাশিয়ার মধ্যে দ্বন্দ্বে দুর্বল হয়ে পড়ে। ১৯০৬ সালে সাংবিধানিক বিপ্লব হয়।
১৯২৫ সালে রেজা শাহ পাহলভি ক্ষমতায় আসেন এবং আধুনিকায়নের চেষ্টা করেন।
১৯৫১ সালে মোসাদ্দেঘ তেল জাতীয়করণ করেন, কিন্তু ১৯৫৩ সালে সিআইএ-সমর্থিত অভ্যুত্থানে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়।
ইসলামী বিপ্লব (১৯৭৯)
আয়াতুল্লাহ খোমেইনি-র নেতৃত্বে ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবে শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির পতন ঘটে। ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৮০–১৯৮৮ সালে ইরাক-ইরান যুদ্ধে লক্ষাধিক মানুষ নিহত হয়।
আধুনিক ইরান (১৯৮৯–বর্তমান)
খোমেইনির মৃত্যুর পর আলি খামেনেই সর্বোচ্চ নেতা হন। ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক গণআন্দোলন হয়।
ইরান একটি অত্যন্ত প্রাচীন ও সমৃদ্ধ ইতিহাস-সংস্কৃতির দেশ, যা হাজার বছর ধরে বিশ্বসভ্যতায় গভীর প্রভাব রেখেছে।