অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে
একই ভাষার নদী বয়ে যায় বাংলাদেশ–এর বুকে,
একই আকাশে ভাসে আজান ও শঙ্খের সুর,
একই ভাতের গন্ধে জেগে ওঠে ক্ষুধার সকাল—
তবু হৃদয়ের মাঝে অদৃশ্য দেয়াল,
তবু হাত বাড়ালেও হাত ছুঁয়ে না হাত।
নির্বাচনের মঞ্চে আলো জ্বলে,
ব্যালটের কাগজে লেখা থাকে প্রতিশ্রুতির কবিতা,
মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে ভাবে—
এইবার হয়তো গণতন্ত্র নামবে পায়ের কাছে,
এইবার হয়তো ন্যায়বিচার বসবে উঠোনে।
কিন্তু গণতন্ত্র যেন এক লাজুক পাখি,
ডানা মেলে আসে, আবার ভয় পেয়ে উড়ে যায় দূরে,
কখনো প্রতিশ্রুতির আকাশে ভেসে থাকে,
কখনো ক্ষমতার ঝড়ে হারিয়ে যায়।
দীর্ঘ নির্বাসনের ধুলা মেখে
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ফিরে আসে মানুষের ভোটে,
মানুষ ভাবে—
ত্যাগের গল্প এবার ফল দেবে,
অন্ধকার শেষে আলো জন্ম নেবে।
জনসমুদ্রের মাঝে দাঁড়িয়ে
তারেক রহমান–এর চোখে
জ্বলে ওঠে দায়িত্বের নতুন সূর্য,
কিন্তু সূর্যের আলোও কখনো দ্বিধার মেঘে ঢেকে যায়,
অভিজ্ঞতার ভারে কাঁপে সিদ্ধান্তের হাত।
পেছনে পড়ে থাকে নিপীড়নের দীর্ঘ রাত,
যেখানে ছায়া হয়ে ঘুরে বেড়ায়
আওয়ামী লীগ–এর সময়ের স্মৃতি,
কারাগারের দেয়ালে লেখা নীরব আর্তনাদ,
বাড়ির দরজায় অপেক্ষা করা নিঃশব্দ মা।
ক্ষমতা এক কঠিন আয়না—
এখানে দল নয়, জাতি মুখোমুখি দাঁড়ায়,
এখানে প্রতিশোধ নয়, প্রয়োজন প্রজ্ঞা,
এখানে শপথ মানে নিজের স্বপ্ন নয়,
মানুষের স্বপ্নকে বয়ে নিয়ে চলা।
আমলাতন্ত্রের শীতল দেয়াল
চায় সময়কে ধীর করতে,
চায় আগুনকে ছাই বানাতে—
কিন্তু লোহা যখন গরম,
তখন আঘাতেই গড়ে ওঠে নতুন ভবিষ্যৎ।
এই ভোর এখনো পূর্ণ সকাল নয়,
এই আলো এখনো সম্পূর্ণ দিনের প্রতিশ্রুতি নয়—
তবু মানুষের চোখে জেগে আছে এক বিশ্বাস,
যে বিশ্বাস বলে—
দ্বিধা পেরিয়ে একদিন
গণতন্ত্র আর পালাবে না,
গণতন্ত্র একদিন
এই মাটিতেই স্থায়ী বাসা বাঁধবে।
17
View