Posts

সমালোচনা

ইরানের যুদ্ধজয়

March 3, 2026

Arafat Mozumder

55
View

ইসরায়েল এবং আমেরিকা মিলে ইরানে অপারেশন ফিউরি শুরু করেছিলো। যায় মূল উদ্দেশ্য ছিলো ইরানের শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তন ও ইরানকে পরমাণু বোমা তৈরী প্রকল্প বের করা নিয়ে আসা। আসুন একটু বিস্তারিত আলোচনা করি, আসলেই তারা কতটুকু সফল হয়েছে বা হবে??

১. ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতি সাধারণ ইরানীয়দের কোন অভিযোগ ছিলো না,  অভিযোগ ছিলো ইরানের শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তন নিয়ে। ইরানের সর্বোচ্ছ নেতা হলো শিয়াদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ যেমন খিস্ট্রানদের কাছে  পোপ যেমন গুরুত্বপূর্ণ । জেন জি প্রথমে যে সরকার পরিবর্তন নিয়ে আন্দোলন করলে বর্তমানে তারা দেশের প্রতি ঐক্যবদ্ধ যা হয়তো আমেরিকান প্রেসিডেন্ট কে মনে মনে আঘাত করছে। 

২. আমেরিকা এইযুদ্ধে নিজেদের প্রয়োজন কখন জড়ায় নাই।যুদ্ধে ইসরায়েল পাশে থাকার জন্য নিজেদের জড়িয়েছে আমেরিকা প্রসিডেন্ট, যার ফল স্বরুপ ইউরোপ জানিয়ে দিয়েছে তারা এই যুদ্ধে জড়াবে না। যার কারণে আমেরিকা একধাপ পিছনে চলে গেছে। আমেরিকা প্রথমে ভেবে ছিলো ইরানের সর্বচ্চো নেতা ও কিছু সিনিয়র কে হত্যা করলে তারা আত্মাসমর্পন করবে। কিন্তু দেখা গেলে যুদ্ধ শুরু হওয়ার তৃতীয় দিনে আমেরিকা আলোচনা করতে চাইলে ও ইরানের নেতৃত্ব না করে দিয়েছে।  এটা ও হয়তো আমেরিকার আরেকটি পরাজয়। 

৩. মধ্যপ্রাচ্য এতদিন ভেবে আসছিলো আমেরিকা পাশে থাকলে কেউ সাহস পাবেনা তাদের দিকে তাকানোর। কিন্তু ইরান যেভাবে মধ্যপ্রাচ্য আমেরিকার ঘাঁটি গুলো ঘুড়িয়ে দিচ্ছে, এইদেশ গুলো ধ্বংস করা তাদের সময়ের ব্যাপার মাত্র। ইরানের হাত থেকে নিজেদের নাগরিকদের নিয়ে যাচ্ছে আমেরিকা জরুরি ভাবে আর রেখে যাচ্ছে সাধারন মধ্যপ্রাচ্য নাগরিক আর বিদেশি শ্রমিকদের। সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতি এবার বিশাল ধাক্কা খাবে। কারণ ইরান। এখন সবাই আর মধ্যপ্রাচ্য কে নিরাপদ দেশ মনে করে বিনিয়োগ করবে না। আর মধ্যপ্রাচ্য ব্যবস্যা মন্দ মানে ডলারের রাজত্ব হারিয়ে যাবে। যার জন্য হয়তো আমরা কয়েকদিনের মধ্যে দেখব ওমানের সমন্বয়ে ইরান আমেরিকার শান্তি চুক্তি। যার আদতে ইরান ই জয়লাভ করবে

৪. মধ্যপ্রাচ্যর বড় ভাই দায়িত্বে ছিলেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। এই যুদ্ধের জন্য মুসলিম বিশ্বে সৌদির প্রভাব কমবে। আর নিজেকে আমেরিকার পাশাপাশি আর কোন দেশের নিরাপত্তা চাইবে হতে পারে চীনের। এটা ও আমেরিকার পরাজয়। এই পরাজয়ে আমেরিকার মিত্র হারাবে। সৌদি অবস্থা দেখে মধ্যপ্রাচ্যর বাকিদেশ গুলো ও একই পথে হাঁটা শুরু করবে।

৫. এই যুদ্ধে সবচেয়ে বড় ইস্যু চীন, যারা পর্দার আড়ালে থেকে ইরান কে স্যাটালাইট তথ্য দিচ্ছে। যার ফলাফল ইরানের সফল ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। কারণ স্যাটেলাইট তথ্য ছাড়া এমন নিখুঁত হামলা কখনও সম্ভব না। এদিকে চায়না ঘোষণা দিয়েছে ইরানের সর্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা সবসময় ইরানের পাশে থাকবে। যা হয়তো ইরানের এইজয় আরও কাছে নিয়ে আসছে। কারণ চায়না যা বলবে রাশিয়া তা করবে। রাশিয়ার অর্থনীতি জীবত রাখছে চায়না। আর অন্য দিকে উত্তর কোরিয়া ঘোষণা দিয়েছে যদি ইরান চায় তারা ব্যলিষ্টিক মিসাইল ইরান কে সরবরাহ করবে। এসব তথ্য হাতে পাওয়ার পরে আমেরিকা এখন যুদ্ধ বন্ধের জন্য তাড়াহুড়া করবে। কিন্তু ইরানের পূর্ব অভিজ্ঞতায় ইরান খুব সহজে যুদ্ধ বিরতিতে যাবে না।

সর্বোপরি ইতিহাস বলে ইরান অপরাজেয়, যা তারা প্রকৃতি থেকে পেয়েছে। চারদিকে পাহাড় আর সমুদ্র। 

Comments

    Please login to post comment. Login