Story

ভয়ঙ্কর

March 4, 2026

297 views

ভূমিকা

গ্রামের নাম ছিল ধলেশ্বরীপুর। চারপাশে নদী, মাঠ আর পুরনো বটগাছের ছায়া। গ্রামের এক কোণে ছিল একটি পুরনো শ্মশানঘাট। দিনের বেলায় মানুষ সেখানে যেত, কিন্তু রাত নামলেই শ্মশানঘাটকে ঘিরে ভয়ঙ্কর নীরবতা নেমে আসত। গ্রামের লোকেরা বলত—ওখানে নাকি অদ্ভুত ছায়ারা ঘোরাফেরা করে।

প্রথম অধ্যায়: অদ্ভুত ডাক

এক রাতে নবম শ্রেণির ছাত্র রাহাত বই পড়তে পড়তে হঠাৎ বাইরে থেকে একটা অদ্ভুত ডাক শুনল। মনে হলো কেউ যেন তার নাম ধরে ডাকছে। জানালা খুলে তাকাতেই দূরে শ্মশানঘাটের দিকে একটা সাদা ছায়া নড়তে দেখা গেল। রাহাত ভয় পেলেও কৌতূহল তাকে টেনে নিয়ে গেল সেই দিকে।

দ্বিতীয় অধ্যায়: শ্মশানের রহস্য

শ্মশানঘাটে পৌঁছে রাহাত দেখল, পুরনো চিতার পাশে দাঁড়িয়ে আছে এক অদ্ভুত মানুষ। তার চোখ দুটো লাল, আর মুখে অদ্ভুত হাসি। লোকটা বলল— “তুমি এসেছো ভালো হয়েছে। আমি বহুদিন ধরে অপেক্ষা করছি।”

রাহাত ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে জিজ্ঞেস করল, “আপনি কে?” লোকটা উত্তর দিল, “আমি এই শ্মশানের ছায়া। বহু বছর আগে এখানে আমার মৃত্যু হয়েছিল। কিন্তু আমার আত্মা শান্তি পায়নি।”

তৃতীয় অধ্যায়: অদ্ভুত চুক্তি

ছায়া বলল, “তুমি যদি আমার গল্পটা সবার কাছে পৌঁছে দাও, তবে আমি মুক্তি পাব।” রাহাত অবাক হয়ে শুনল। ছায়া তার মৃত্যুর কাহিনী বলতে শুরু করল।

সে ছিল গ্রামের একজন ধনী জমিদার। লোভ আর নিষ্ঠুরতায় সে অনেক মানুষকে কষ্ট দিয়েছিল। একদিন গ্রামবাসীর অভিশাপে তার মৃত্যু হয়। তারপর থেকে তার আত্মা শ্মশানঘাটে বন্দী হয়ে আছে।

চতুর্থ অধ্যায়: ভয়ঙ্কর রাত

রাহাত গল্প শুনতে শুনতে হঠাৎ চারপাশে অদ্ভুত আওয়াজ শুনতে পেল। বটগাছের ডালে ঝুলে থাকা ছায়ারা হাসতে শুরু করল। বাতাস ভারী হয়ে উঠল। মনে হলো পুরো শ্মশান যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে।

ছায়া বলল, “তুমি যদি সাহসী হও, তবে আমার গল্পটা লিখে রাখো। কিন্তু সাবধান, যদি কাউকে মিথ্যে বলো, তবে আমিও তোমার ছায়া হয়ে যাব।”

পঞ্চম অধ্যায়: মুক্তি

রাহাত ভয়ে কাঁপলেও সাহস করে ছায়ার গল্প লিখে রাখল। সে বাড়ি ফিরে কাগজে লিখল জমিদারের লোভ, অভিশাপ আর মৃত্যুর কাহিনী। পরদিন গ্রামে সবাইকে গল্পটা শোনাল।

অদ্ভুতভাবে সেই রাতের পর থেকে শ্মশানঘাটে আর কোনো ছায়া দেখা যায়নি। গ্রামের মানুষ বলল—জমিদারের আত্মা মুক্তি পেয়েছে।

Picked up where you left off

Comments

    Please login to post comment. Login