ভূমিকা
এক ছিল ছোট্ট গ্রাম, নাম তার সোনাঝুরি। গ্রামটি চারদিকে ঘন জঙ্গল দিয়ে ঘেরা। সেই জঙ্গলের ভেতরে ছিল এক অদ্ভুত বন—লোকেরা তাকে বলত হারানো বন। কারণ, যে কেউ সেখানে ঢুকত, আর ফিরে আসত না। গ্রামের মানুষরা বিশ্বাস করত, সেখানে পরিরা থাকে, আর তারা মানুষের সাথে খেলা করে।
গল্পের শুরু
গ্রামের এক কিশোরী, নাম লাবনী। সে ছিল কৌতূহলী, সাহসী আর স্বপ্নবাজ। লাবনী প্রায়ই রাতের বেলা আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকত। এক পূর্ণিমার রাতে সে দেখল, চাঁদের আলো যেন সরাসরি হারানো বনের দিকে ঝরে পড়ছে। মনে হলো, আলোটা তাকে ডাকছে।
লাবনী সিদ্ধান্ত নিল—সে বনে যাবে।
রহস্যময় বন
বনের ভেতরে ঢুকতেই লাবনী দেখল, গাছগুলো যেন ফিসফিস করছে। পাতার শব্দে ভেসে আসছে অচেনা ভাষা। হঠাৎ সে দেখল, এক ঝলমলে আলো তার সামনে নেমে এলো। আলোটা ধীরে ধীরে রূপ নিল—এক পরি।
পরির চোখে ছিল অদ্ভুত রহস্য। সে বলল, “লাবনী, তুমি সাহসী। কিন্তু এই বন শুধু সাহসীদের জন্য নয়, এখানে সত্যিকারের হৃদয়ের মানুষই টিকে থাকতে পারে।”
পরীক্ষার শুরু
পরি লাবনীকে তিনটি পরীক্ষা দিল—
সাহসের পরীক্ষা: তাকে এক অন্ধকার গুহায় যেতে হলো, যেখানে ভয়ঙ্কর ছায়ারা ঘুরে বেড়াচ্ছিল। লাবনী ভয় পেলেও চাঁদের আলোয় পথ চিনে এগিয়ে গেল।
সততার পরীক্ষা: এক জায়গায় সে পেল সোনার বাক্স। বাক্স খুলতেই ভেতরে লেখা ছিল—“এটা নিয়ে গেলে তুমি মুক্তি পাবে।” কিন্তু লাবনী বুঝল, এটা প্রতারণা। সে বাক্সটা রেখে দিল।
সহানুভূতির পরীক্ষা: বনের ভেতরে এক আহত পাখি পড়ে ছিল। লাবনী তাকে তুলে নিয়ে যত্ন করল।
রহস্যের উন্মোচন
সব পরীক্ষা শেষে পরি আবার হাজির হলো। এবার তার চারপাশে আরও অনেক পরি জড়ো হলো। তারা বলল, “হারানো বন আসলে হারানো নয়। এটা সেই জায়গা, যেখানে মানুষের হৃদয়ের সত্য প্রকাশ পায়। তুমি প্রমাণ করেছ, তুমি আলোর সন্তান।”
পরিরা লাবনীকে উপহার দিল এক জাদুকরী পালক। সেই পালক দিয়ে লাবনী যখনই লিখবে, তার গল্পগুলো জীবন্ত হয়ে উঠবে।
সমাপ্তি
লাবনী গ্রামে ফিরে এলো। সে পালক দিয়ে গল্প লিখতে শুরু করল। তার গল্পে মানুষ সাহস পেল, সততা শিখল, আর সহানুভূতি জাগল। গ্রামবাসীরা বুঝল—হারানো বন আসলে রহস্যময় শিক্ষা।
চাঁদের আলোয় লাবনী যখন লিখত, মনে হতো বন থেকে পরিরা তাকে আশীর্বাদ করছে।