Story

ইচ্ছাধারী 🐍🐍

March 8, 2026

236 views

ভূমিকা

বাংলার এক ছোট্ট গ্রামে, যেখানে নদীর ধারে তালগাছ আর কাশবন মিলেমিশে প্রকৃতির সৌন্দর্য তৈরি করেছে, সেখানে শুরু হয় এক রহস্যময় কাহিনি। এই গল্প খুব বেশি পুরনো নয়, আবার একেবারে নতুনও নয়—মাঝামাঝি সময়ের, যেখানে আধুনিকতার ছোঁয়া আছে, কিন্তু লোককথার আবেশও রয়ে গেছে।

প্রথম অধ্যায়: অদ্ভুত সাক্ষাৎ

গ্রামের যুবক অরিন্দম ছিল সাহসী, কিন্তু কিছুটা বেপরোয়া। একদিন সে নদীর ধারে মাছ ধরতে গিয়ে দেখে, এক অদ্ভুত সুন্দরী নারী কাশবনের ভেতর দাঁড়িয়ে আছে। তার চোখে অদ্ভুত ঝিলিক, যেন গভীর রহস্য লুকিয়ে আছে। অরিন্দম কাছে যেতেই নারী মিলিয়ে গেল।

গ্রামে গুজব ছড়িয়ে পড়ল—নদীর ধারে নাগিন দেখা গেছে। কেউ বিশ্বাস করল, কেউ হাসল। কিন্তু অরিন্দমের মনে কৌতূহল জন্মাল।

দ্বিতীয় অধ্যায়: নাগিনের অতীত

নাগিনের নাম ছিল নন্দিনী। বহু বছর আগে তার সঙ্গী নাগরাজকে লোভী মানুষ হত্যা করেছিল। সেই থেকে নন্দিনী প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছিল। তবে সে অকারণে কাউকে আঘাত করত না। তার শপথ ছিল—যে মানুষ তার প্রেমকে ধ্বংস করেছে, তাদের বংশ ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত সে শান্তি পাবে না।

অরিন্দমের পূর্বপুরুষই সেই হত্যাকারীদের একজন ছিল। তাই নন্দিনী অরিন্দমকে লক্ষ্য করেছিল।

তৃতীয় অধ্যায়: প্রেম ও দ্বন্দ্ব

অরিন্দম বারবার নন্দিনীকে দেখতে পেত। ধীরে ধীরে তার মনে ভয় নয়, বরং আকর্ষণ জন্মাল। নন্দিনীর সৌন্দর্য, তার রহস্যময়তা অরিন্দমকে মুগ্ধ করল।

নন্দিনীও দ্বিধায় পড়ল। প্রতিশোধের আগুন তাকে তাড়াচ্ছিল, কিন্তু অরিন্দমের সরলতা ও সাহস তাকে টানছিল। সে বুঝতে পারছিল—অরিন্দম তার পূর্বপুরুষের মতো নিষ্ঠুর নয়।

চতুর্থ অধ্যায়: গ্রামে আতঙ্ক

এক রাতে গ্রামে হঠাৎ কয়েকজন মানুষ অদ্ভুতভাবে মারা গেল। সবাই বলল—নাগিনের কামড়ে। গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল। অরিন্দম বুঝল, নন্দিনী প্রতিশোধ নিচ্ছে। সে নন্দিনীকে খুঁজে বের করল এবং বলল— “তুমি যদি আমাকে আঘাত করো, আমি মেনে নেব। কিন্তু নিরপরাধ মানুষদের ক্ষতি করো না।”

নন্দিনী কেঁদে উঠল। তার চোখে অশ্রু ঝলমল করল। সে বলল— “আমার প্রতিশোধ শেষ হয়নি, কিন্তু তোমার কথা আমাকে দ্বিধায় ফেলছে।”

পঞ্চম অধ্যায়: শেষ লড়াই

গ্রামের লোকেরা একত্র হয়ে নন্দিনীকে হত্যা করার পরিকল্পনা করল। তারা আগুন, অস্ত্র নিয়ে নদীর ধারে গেল। অরিন্দম তাদের থামানোর চেষ্টা করল, কিন্তু কেউ শুনল না।

নন্দিনী রূপ বদলে ভয়ঙ্কর নাগিন হয়ে উঠল। গ্রামবাসীর সঙ্গে তার ভয়ঙ্কর লড়াই শুরু হল। ঠিক তখনই অরিন্দম সামনে এসে দাঁড়াল। সে চিৎকার করে বলল— “নন্দিনী, যদি প্রতিশোধ চাই, তবে আমাকে নাও। আমি তোমার কাছে আত্মসমর্পণ করছি।”

নন্দিনী থমকে গেল। তার চোখে আবার অশ্রু ঝলমল করল। সে বুঝল—প্রেম প্রতিশোধকে জয় করেছে।

সমাপ্তি

নন্দিনী গ্রাম ছেড়ে চলে গেল। সে আর কাউকে আঘাত করল না। অরিন্দম বেঁচে গেল, কিন্তু তার মনে চিরকাল রয়ে গেল সেই নাগিনের স্মৃতি।

গ্রামবাসী ধীরে ধীরে শান্তি ফিরে পেল। তবে নদীর ধারে কাশবনের ভেতর আজও কেউ গেলে মনে হয়—কেউ যেন তাকিয়ে আছে। হয়তো নন্দিনী এখনো সেখানে আছে, প্রেম আর প্রতিশোধের মাঝখানে আটকে।

Picked up where you left off

Comments

    Please login to post comment. Login