Posts

উপন্যাস

ছায়া শহর

March 8, 2026

উপন্যাস রাইটার

37
View

গল্প শুরু

ঢাকার পুরনো শহরের ভেতরেই আছে এক অদ্ভুত গলি—যেখানে দিনের আলো ঢুকতে সাহস পায় না। গলির নাম ছায়াঘর। মানুষ বলে, এখানে যারা আসে তারা আর আগের মতো থাকে না।

রূপা, নবম শ্রেণির ছাত্রী, প্রতিদিন স্কুল থেকে ফেরার পথে সেই গলির পাশ দিয়ে যায়। তার মনে হয়, গলির ভেতরে যেন কেউ তাকে ডাকছে। একদিন সাহস করে সে ঢুকে পড়ে।

ভেতরে গিয়ে দেখে, পুরনো এক বাড়ি—দরজায় তালা নেই, কিন্তু ভেতর থেকে আলো বেরোচ্ছে। সে ঢুকতেই এক বৃদ্ধা তাকে বলে, “তুমি এসেছো, অনেক দেরি করেছো।”

রূপা ভয় পায়, কিন্তু বৃদ্ধার চোখে অদ্ভুত শান্তি। বৃদ্ধা জানায়, এই বাড়ি আসলে এক গোপন পাঠাগার। এখানে এমন সব বই আছে, যেগুলোতে শহরের ভবিষ্যৎ লেখা থাকে।

সংঘাত

রূপা বই খুলে দেখে, তার নিজের নাম লেখা আছে। বইতে বলা আছে—“রূপা একদিন শহরের অন্ধকার ভেদ করে আলো আনবে।”

কিন্তু বইয়ের শেষ পাতায় লেখা—“তার জন্য তাকে নিজের সবচেয়ে প্রিয় জিনিস হারাতে হবে।”

রূপা দ্বিধায় পড়ে যায়। তার সবচেয়ে প্রিয় জিনিস হলো তার বাবা—যিনি চাকরি হারিয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন।

নতুন চরিত্র

ঠিক তখনই আরিয়ান নামে এক কিশোর হাজির হয়। সে জানায়, এই পাঠাগারে সে বহুদিন ধরে আসছে। তার কাজ হলো বইয়ের ভবিষ্যৎ রক্ষা করা।

আরিয়ান বলে, শহরে এক গোপন শক্তি আছে—যারা মানুষের স্বপ্ন চুরি করে। তারা চায়, কেউ যেন আলো না আনতে পারে।

রূপা বুঝতে পারে, তার লড়াই শুধু নিজের জন্য নয়, পুরো শহরের জন্য।

উত্তেজনা

শহরে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। চারদিকে অন্ধকার। মানুষ আতঙ্কে। রূপা আর আরিয়ান পাঠাগারের বই থেকে জানতে পারে, এই অন্ধকার আসলে সেই শক্তির কাজ।

তারা সিদ্ধান্ত নেয়, শহরের মানুষকে একত্র করতে হবে। রূপা স্কুলে গিয়ে বন্ধুদের বোঝায়—“আমরা যদি একসাথে দাঁড়াই, কেউ আমাদের স্বপ্ন চুরি করতে পারবে না।”

চূড়ান্ত মুহূর্ত

অন্ধকারের শক্তি রূপাকে আক্রমণ করে। তার বাবাকে অসুস্থ করে ফেলে। রূপা কাঁদতে থাকে, কিন্তু বইয়ের কথা মনে পড়ে—“সবচেয়ে প্রিয় জিনিস হারাতে হবে।”

সে বাবার হাত ধরে বলে, “আমি আলো আনব, তুমি শক্ত থেকো।”

রূপার চোখ থেকে অদ্ভুত আলো বের হয়। সেই আলো শহরের গলিগুলো ভরিয়ে দেয়। মানুষ আবার হাসতে শুরু করে।

সমাধান

অন্ধকারের শক্তি হারিয়ে যায়। পাঠাগারের বই নতুন করে লেখা হয়—“রূপা শহরের আলো হয়ে উঠেছে।”

তার বাবা ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন। আরিয়ান তাকে বলে, “তুমি প্রমাণ করেছো, স্বপ্ন কখনো চুরি হয় না, যদি মানুষ একসাথে দাঁড়ায়।”

শেষ দৃশ্য

রূপা জানালার পাশে বসে আবার খাতা খুলে লিখছে। এবার সে লিখছে নিজের গল্প—“ছায়ার শহর”—যা আসলে তার নিজের জীবন।

সে জানে, এই গল্প একদিন অন্যদেরও সাহস দেবে।

Comments

    Please login to post comment. Login