Posts

গল্প

অরণ্যের সন্তান

March 9, 2026

উপন্যাস রাইটার

32
View

প্রথম অধ্যায়: সূচনা

বাংলার এক প্রত্যন্ত গ্রামে জন্মেছিল অয়ন। তার জন্মের দিনেই গ্রামে প্রবল ঝড়-বৃষ্টি হয়েছিল। গ্রামের বয়স্করা বলেছিল, “এই ছেলেটা হয়তো অরণ্যের সন্তান—ঝড়ের মতোই আসবে, আর নিজের ভাগ্য গড়ে নেবে।” অয়ন ছোটবেলা থেকেই অন্যরকম। তার চোখে ছিল অদ্ভুত কৌতূহল, আর মনে ছিল অরণ্যের প্রতি অগাধ টান।

গ্রামের অন্য ছেলেরা মাঠে খেলত, কিন্তু অয়ন প্রায়ই চলে যেত বনের ভেতর। গাছের পাতার শব্দ, পাখির ডাক, নদীর কলকল ধ্বনি—সবকিছু যেন তাকে ডাকত। তার মা চিন্তায় পড়তেন, “ছেলেটা যদি বনে হারিয়ে যায়!” কিন্তু অয়ন কখনো হারাত না। বরং সে বনের প্রতিটি পথ চিনে ফেলেছিল।

দ্বিতীয় অধ্যায়: অরণ্যের রহস্য

একদিন অয়ন বনের গভীরে গিয়ে দেখল, এক বৃদ্ধ সাধু ধ্যান করছে। সাধুর চোখ বন্ধ, কিন্তু মুখে শান্তির হাসি। অয়ন ভয়ে ভয়ে কাছে গিয়ে বলল, “আপনি কে?” সাধু চোখ খুলে বললেন, “আমি অরণ্যের রক্ষক। তুমি যে বারবার এখানে আসো, তা বৃথা নয়। তোমার ভেতরে অরণ্যের ডাক আছে।”

অয়ন অবাক হয়ে গেল। সাধু তাকে বললেন, “অরণ্য শুধু গাছপালা নয়, এটা জীবনের উৎস। যদি তুমি সত্যিই অরণ্যের সন্তান হতে চাও, তবে মানুষের জন্য অরণ্যকে রক্ষা করতে হবে।”

তৃতীয় অধ্যায়: সংগ্রাম

গ্রামে তখন নতুন রাস্তা বানানোর পরিকল্পনা হচ্ছিল। সেই রাস্তার জন্য বন কেটে ফেলা হবে। অয়ন প্রতিবাদ করল। গ্রামের লোকেরা হাসল, “ছোট ছেলের এত বড় কথা!” কিন্তু অয়ন থামল না। সে গ্রামের শিশুদের নিয়ে বনরক্ষার দল গঠন করল। তারা গাছে সাইনবোর্ড লাগাল—“গাছ বাঁচাও, জীবন বাঁচাও।”

কিছুদিন পর ঠিকাদাররা এসে গাছ কাটতে চাইলে অয়ন ও তার দল সামনে দাঁড়াল। তারা বলল, “আমরা অরণ্যের সন্তান, আমাদের অনুমতি ছাড়া গাছ কাটতে পারবেন না।” ঠিকাদাররা রেগে গেল, কিন্তু গ্রামের মানুষ ধীরে ধীরে অয়নের পাশে দাঁড়াতে শুরু করল।

চতুর্থ অধ্যায়: অরণ্যের শক্তি

এক রাতে অয়ন স্বপ্ন দেখল—অরণ্যের দেবী তার সামনে এসে বলছেন, “তুমি সাহস দেখিয়েছো। অরণ্য তোমাকে শক্তি দেবে।” পরদিন থেকে অয়ন যেন আরও দৃঢ় হয়ে উঠল। সে গ্রামের মানুষকে বোঝাতে লাগল, বন কেটে রাস্তা বানালে বন্যা, খরা, ঝড়—সবকিছু আরও ভয়ঙ্কর হবে। ধীরে ধীরে সবাই বুঝতে শুরু করল।

পঞ্চম অধ্যায়: বিজয়

অবশেষে সরকার নতুন পরিকল্পনা নিল—রাস্তা অন্যদিকে যাবে, বন অক্ষত থাকবে। অয়ন তখন মাত্র ষোলো বছরের কিশোর, কিন্তু তার সাহস আর ভালোবাসা গ্রামকে বদলে দিল।

গ্রামের মানুষ তাকে বলল, “তুমি সত্যিই অরণ্যের সন্তান।”

ষষ্ঠ অধ্যায়: উত্তরাধিকার

বছর কেটে গেল। অয়ন বড় হয়ে বনবিদ্যা পড়তে শহরে গেল। কিন্তু তার হৃদয় সবসময় গ্রামের অরণ্যে বাঁধা থাকল। সে গবেষণা করে দেখাল, বন শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়, মানুষের জীবনের রক্ষাকবচ। তার লেখা বই ছড়িয়ে পড়ল দেশে-বিদেশে।

অয়ন যখন আবার গ্রামে ফিরল, তখন গ্রামের শিশুরা তাকে দেখে বলল, “আমরা তোমার মতো হতে চাই।” অয়ন হেসে বলল, “অরণ্যের সন্তান হওয়া মানে শুধু বন ভালোবাসা নয়, বরং মানুষকে ভালোবাসা। যদি তোমরা প্রকৃতি আর মানুষকে একসাথে রক্ষা করো, তবে তোমরাও অরণ্যের সন্তান।”

সমাপ্তি

Comments

    Please login to post comment. Login