খণ্ডিত মস্তিষ্কে স্মৃতিভ্রম ঘটে,
বিস্মৃতির অতলগহ্বরে হারায় ঘটনা।
উইপোকারা দাঁতে দাঁত চেপে
উল্লাসে মাতে;
তাতে মনের দেয়ালে
খোদাইকৃত কথামালার
ডালপালা আর মেলে না।
এই তো সেদিন—
শাহবাগের উত্তাল মঞ্চে
নব প্রজন্মের
আমিও ছিলাম এক সারথি।
বিস্মৃতি আমার হয়নি;
আমার অতীতের অনুপস্থিতিতে
আমি ছিলাম উন্মাদ।
আমার উন্মাদ তারুণ্য
নাস্তিক আখ্যানেই হয়েছিল পূর্ণ—
যেন দেহপচনেও
ক্ষুদ্র কীটের চরম অনীহা,
ঠাঁইহীন মৃত্তিকার কোলে।
নির্লজ্জ সেই আমি
আবার শাহবাগে—
সোচ্চার আমার অধিকারে।
পরিচয়ের সুদীর্ঘ লম্ফে
নাস্তিকের স্থলে
হয়ে উঠি শিবির।
এইবার আমি মৃত্যুমঞ্চে—
থরথর করে কেঁপে উঠি
যমদূতের প্রশ্ন শুনে—
“তুই কে?”
খেয়ালে আমার আসে না—
আমি কে?
মানুষ?
বাঙালি?
শিবির?
না নাস্তিক?
আমি জিজ্ঞাসা করি
প্রত্যয়নকারী কর্তৃপক্ষের নিকটে—
আমি কে?
আমাকে জানাও।
নইলে—
মৃত্যু যে আমার হয় না,
যমদূতও আমাকে নেয় না।