Posts

গল্প

কালো কবর

March 10, 2026

উপন্যাস রাইটার

31
View

ভূমিকা

বাংলার গ্রামাঞ্চলে অনেক পুরনো কবরস্থান আছে, যেখানে মানুষ দিনের আলোতেও যেতে ভয় পায়। এই গল্পটি এমনই এক কবরস্থানকে কেন্দ্র করে, যেখানে রাত নামলেই অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটে।

গল্প শুরু

গ্রামের নাম ছিল বড়াইল। গ্রামের এক প্রান্তে শত বছরের পুরনো কবরস্থান। লোকজন বিশ্বাস করত, সেখানে রাতের বেলা মৃতেরা হাঁটে।

রাহুল, এক কিশোর, ভূতের গল্পে বিশ্বাস করত না। সে সবসময় বলত— “ভুত বলে কিছু নেই। সবই মানুষের বানানো।”

বন্ধুরা তাকে চ্যালেঞ্জ দিল— “তাহলে আজ রাতেই কবরস্থানে গিয়ে প্রমাণ কর।”

রাহুল রাজি হয়ে গেল।

রাতের অন্ধকার

সেদিন ছিল অমাবস্যা। আকাশে কোনো চাঁদ নেই, চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। রাহুল হাতে লণ্ঠন নিয়ে একাই বেরিয়ে পড়ল।

কবরস্থানের ফটক পেরোতেই তার মনে হল, বাতাস যেন জমে গেছে। চারদিকে অদ্ভুত গন্ধ, যেন পচা ফুলের।

হঠাৎ সে শুনল— “রাহুল…”

কেউ যেন নাম ধরে ডাকছে।

অদ্ভুত শব্দ

কবরগুলোর মাঝে হাঁটতে হাঁটতে রাহুল দেখল, এক কবরের মাটি ফেটে যাচ্ছে। ভেতর থেকে যেন কেউ বেরোতে চাইছে।

সে ভয় পেয়ে গেল, কিন্তু সাহস করে এগিয়ে গেল।

মাটির ফাঁক দিয়ে সাদা হাড় বেরিয়ে এল। তারপর ধীরে ধীরে এক কালো ছায়া উঠে দাঁড়াল।

ভয়ঙ্কর আবির্ভাব

ছায়াটির চোখ দুটো লাল আগুনের মতো জ্বলছে। মুখ নেই, শুধু ফাঁকা গহ্বর।

রাহুল দৌড়াতে চাইল, কিন্তু তার পা যেন মাটিতে আটকে গেছে। ছায়াটি ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে আসছে।

হঠাৎ চারদিকে কবর থেকে আরও ছায়া বেরিয়ে এল। তারা সবাই একসাথে ফিসফিস করে বলল— “আমাদের সঙ্গে এসো…”

মুক্তি

ঠিক তখনই দূরে আজানের ধ্বনি ভেসে এল। মুহূর্তেই সব ছায়া মিলিয়ে গেল। রাহুল নিজেকে কবরস্থানের বাইরে দেখতে পেল।

সে হাঁপাতে হাঁপাতে বাড়ি ফিরল। বন্ধুরা জিজ্ঞেস করল— “কি দেখলে?”

রাহুল কাঁপা গলায় বলল— “ভুত নেই বলেছিলাম, কিন্তু কালো কবরের ডাক সত্যিই আছে।”

উপসংহার

এরপর থেকে রাহুল আর কখনো রাতের বেলা কবরস্থানের দিকে যায়নি। গ্রামের মানুষজনও নতুন করে বিশ্বাস করতে শুরু করল—কবরের ভেতর শুধু মৃতদেহ নয়, অদ্ভুত ছায়াও ঘুমিয়ে থাকে।

Comments

    Please login to post comment. Login