আমরা যারা ভাবি ম্যানহাটনের এর বাসিন্দা মানেই BVLGARI এর জুয়েলারি,Cartier এর ঘড়ি কিংবা Ralph Lauren এর পোশাক তারা কল্পনার জগতে বাস করি। ওখানে প্রচুর মানুষ পাবেন যারা H&M,Bershka,ZARA,American Eagle অথবা Uniqlo এর পোশাক-পরিচ্ছদ পড়ে দিব্যি জীবন পার করে দিচ্ছে। এমনকি তাদের ইস্টার সানডে -ক্রিসমাসও।কারণ এগুলো দামে তুলনামূলক সস্তা এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন।
ক্রিশ্চিয়ান লোবোটিনের এক জোড়া জুতার দাম দেড় লাখ ডলারের বেশি যা দিয়ে ন্যুনতম ৩০০০ জোড়া জারা'র জুতো কেনা যাবে।মানে শুধু নিজে না, চোদ্দগুষ্টি লোবোটিনের ওই একজুতার টাকা দিয়ে সারাজীবন জুতা কিনে পরতে পারবে! রালফ লরেনের একটা সিম্পল লিনেন শার্ট অলমোস্ট ৫০০ ডলার,যেটা দিয়ে উপরের সস্তা ব্র্যান্ডগুলোর ৮-১০ টা পোশাক পাওয়া যাবে!এইখানে কোয়ালিটি টানতে আইসেন না! যেটা আছে সেটা হচ্ছে এলিটিজম,শো-অফ! এইজন্যই রালফ লরেনের মালিকের চেয়ে আমানসিও ওর্তেগা বেশি ধনী! শুধু তাই নয় পৃথিবীর সেরা ১০ ধনী ব্যাক্তিদের একজন।
লুই ভিতো,বারবেরির মত বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডগুলো তাদের স্বকীয়তা,অতি উচ্চ মূল্য বজায় রাখার জন্য প্রতিবছর প্রচুর পরিমানে তাদের আনসোল্ড প্রোডাক্টস পুড়িয়ে ফেলে(এত টাকা দিয়ে কয়জন কিনবে?? টাকা থাকলেও টাকা সবাইকে কামড়ায় না!)।পরিবেশবাদীরা এ নিয়ে বেশ সরব হলেও আদতে লাভ হয় নি। আমাদের দেশী নামজাদা(!!) ব্র্যান্ডগুলোর তো আর সেই বালাই নাই। ২-৩ বছর স্টকে পড়ে থাকা মালামাল তারা ডিস্কাউন্ট দিয়ে ছেড়ে দিচ্ছে ঈদ স্পেশাল অফার নামে আর পাবলিকও গ্রোগাসে গিলছে!কাপড়ের টেম্পার থাকুক না থাকুক ব্র্যান্ডের পোশাক তো পাওয়া গেলো!এই বা কম কি??
অতিমাত্রায় দামী পোশাক-আশাকের মধ্যে প্রকৃতপক্ষে আনন্দ কম বরং অহমিকাটাই বেশি থাকে।
এই জন্যই কথায় আছে-মাটি খাটি,স্বর্ণ আধা আর কাপড়(শো-অফ বোঝানো অর্থে) কেনে গাধা!
ঈদে দুই-চারটা ব্র্যান্ডের পোশাক বিশেষত পাঞ্জাবি নিয়ে মানুষের আক্ষেপের শেষ নাই! ক্যানরে ভাই? ওইসব যায়গা থেকেই কেনো আপনাকে পোশাক কিনতে হবে?পাঞ্জাবি কিনতে হবে? লোকাল মার্কেট কিংবা অনেক অনলাইন শপে রিজনেবল প্রাইসের মধ্যে কষ্ট করে একটু খুঁজলেই মানস্মমত ঈদের পোশাক পাওয়া যাবে। আর আরেকটা তিতা কথা বলতেই হয় - আমদানি আঠানি,খরচা রুপাইয়া স্টাইলে আর কত? আয় বুঝে ব্যয় করুন। কিসের এত ব্র্যান্ড সচেতনতারে ভাই?? বিল গেটস বিলিয়ন ডলারের মালিক হয়ে ২৩ ডলারের ক্যাসিও ঘড়ি পড়তে পারলে আপনি আমি কোথাকার কে??
সারকথা হলো ঈদের আনন্দ পরিবার-পরিজনের সাথে মনের খুশিতে উপভোগ করুন,আপনার পোশাকের ব্র্যান্ড শো-অফ করে নয়। এতে আনন্দ পাবেন নাহলে কিডনী বেঁচে পোশাক কিনতে হবে এই আক্ষেপ নিয়ে মরবেন।
ধন্যবাদ।
30
View