Posts

গল্প

“অপেক্ষার ছায়ায়” (ছোট প্রেমের গল্প)

March 15, 2026

Nayem Hasan

39
View

পঞ্চগড়ের ছোট্ট শহরে, নাহিয়ান তার স্বপ্নের রেস্টুরেন্ট খোলেছে। ঢাকা থেকে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করে এসেছে সে, আর পঞ্চগড়ের শান্ত পরিবেশ তার নতুন জীবন শুরু করার ঠিক জায়গা ছিল। নাহিয়ান লাজুক, এলোমেলো, কিন্তু হ্যান্ডসাম এবং কোমল স্বভাবের। তার রেস্টুরেন্টের প্রতিটি কোণ, খাবারের স্বাদ, অতিথিদের হাসি—সবকিছু তার যত্নে ভরা।

রেস্টুরেন্টের বিল্ডিং-এর মালিক ছিলেন ফাতিমার মা। ফাতিমা মালয়েশিয়া থেকে গ্রাজুয়েশন শেষ করে দেশে ফিরে এসেছে। সে তার মায়ের সঙ্গে সেই বিল্ডিংয়ে থাকছে। ফাতিমা আত্মবিশ্বাসী, স্বাধীনচেতা, এবং কিছুটা উচ্চমধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হওয়ার কারণে জীবনের সবকিছুতে সচেতন।

প্রথম দিকে নাহিয়ান আর ফাতিমা একে অপরের সঙ্গে কথা বলত না। ফাতিমা ব্যস্ত নিজের জীবন নিয়ে, নাহিয়ানও রেস্টুরেন্টের কাজে। তবে সন্ধ্যার পর ফাতিমা রেস্টুরেন্টের সামনের ছোট খোলা জায়গায় ব্যায়াম করতে যেত। নাহিয়ান আড়াল থেকে তার দিকে তাকাত, তার প্রতিটি ভঙ্গি, হাঁটা, হাসি—সবকিছুতে মগ্ন হয়ে পড়ত।

দিনের পর দিন নাহিয়ান ফাতিমার প্রতি আকৃষ্ট হতে লাগল। অবশেষে সাহস করে সে ফাতিমার নাম্বার চেয়ে নিল। প্রথম কয়েকটি মেসেজ সাধারণ—“হাই, তুমি কেমন আছো?”—কিন্তু ধীরে ধীরে কথোপকথন গভীর হতে লাগল।

একদিন নাহিয়ান মেসেজ করল—

“ফাতিমা, আমি জানি আমরা একে অপরকে ভালো করে জানি না, কিন্তু আমি চাই তোমাকে আমার জীবনের অংশ করতে। তুমি কি আমাকে একটি সুযোগ দেবে?”

ফাতিমা প্রথমে দ্বিধায় পড়ল। তার মনে হলো—“এটা কি ঠিক হবে?” কিন্তু নাহিয়ানের আন্তরিকতা, কোমলতা, এবং চোখে থাকা উষ্ণতা—সবকিছু মিলিয়ে ফাতিমা কষ্ট করে রাজি হলো।

তাদের সম্পর্ক শুরু হলো। এক বছরের প্রেমের মধ্যে রেস্টুরেন্টের ছোট্ট কোণগুলো তাদের সাক্ষী হলো।

বিকেলের কফির কাপের মাঝে হাত ধরা

সন্ধ্যার আলোয় একে অপরের চোখে চোখ রাখা

হঠাৎ বৃষ্টিতে ছাতা ছাড়া একসাথে হাঁটা

মেসেজের ছোট ছোট প্রেমের বার্তা

রেস্টুরেন্টের উষ্ণ আলোয় গল্প করা

এক বছরের প্রেমের শেষে, ফাতিমা নাহিয়ানের সঙ্গে দেখা করে বলল—

“আমরা হয়তো একে অপরকে ভালোবাসি, কিন্তু আমাদের পথ আলাদা। আমি চাই না তুমি কষ্ট পাও। তাই আমাদের সম্পর্ক এখানেই শেষ হোক।”

নাহিয়ান চুপচাপ মাথা নিল। এক বছরের ভালোবাসা, হাসি, কষ্ট—সব এখন স্মৃতি হয়ে গেল।

চার বছর কেটে গেছে। নাহিয়ান এখনও সেই রেস্টুরেন্টে দাঁড়িয়ে থাকে। সন্ধ্যার আলো, ফাতিমার ব্যায়ামের স্থান, শহরের ব্যস্ততা—সবকিছু তাকে স্মরণ করায়। তার হৃদয়ে একটিই আশা—যে একদিন ফাতিমা আবার ফিরে আসবে। তার চোখে সেই লাজুক, গভীর ভালোবাসা এখনো অপেক্ষার ছায়ায় জ্বলছে।

Comments

    Please login to post comment. Login