Posts

উপন্যাস

চেজিং দ্য ড্রাগন: দ্য ব্লু বার্ড

March 15, 2026

Shifat Binte Wahid

Original Author সিফাত বিনতে ওয়াহিদ

315
View

[ডিসক্লেইমার: এই গল্পে চিত্রিত প্রভাবশালী চরিত্র ও ক্ষমতার অলিগলি সম্পূর্ণ কাল্পনিক। মানুষের মনের গহীনের অন্ধকার ও জটিল প্রবৃত্তিগুলো বাস্তব হলেও, এখানকার চরিত্র, তাদের কর্মকাণ্ড এবং প্রেক্ষাপটের সঙ্গে বাস্তবের কোনো ব্যক্তি বা স্থানের মিল নেই।]

ওই রাতে আর আফতাবনগরের ফ্ল্যাটটায় থাকতে পারে না স্নেহা। বাসায় ঢোকার পর থেকে একটা ভয়ংকর শূন্যতা বোধ যেমন ওকে আচ্ছন্ন করে রাখছিল, তেমনই ওর ঘরের বিছানা, বালিশ, সোফা, টাওয়াল- সব জায়গা থেকে আবিরের ঘ্রাণ এসে ওর মস্তিষ্কের প্রত্যেকটা কোষে হোল্ডফাস্টের মতো আটকে যাইতেছিল। ওর ইউজ করা ক্যালভিন ক্লেইনের ঘ্রাণ না; প্রতিটা মানুষের শরীরেই আলাদা আলাদা ঘ্রাণ থাকে, আবিরের শরীরের ওই ঘ্রাণটাই ওই ফাঁকা ঘরে এত তীব্র হয়ে উঠে যে ওর মন আর মস্তিষ্ককে ক্রমশ অস্থির করে তোলে।

পাসপোর্টের বোতলটা সন্ধ্যায় যেভাবে রেখে গেছিল, ঠিক একইভাবেই অর্ধেক ফাঁকা আর একা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ওয়ারড্রবের উপরে। অর্ধেকটা আবিরই শেষ করে গেছে। পারলে পুরাটাই হয়তো শেষ করে যেত। এয়ারপোর্টে যাওয়ার সময় পানির বোতলেও কিছুটা ভরে নিয়ে গেছে। দুই মাস আগে ওর জন্মদিন উপলক্ষেই বোতলটা কেনা হইছিল। ওইটা কেনার পরই স্নেহা জীবনে প্রথম ওর কাছে কিছু আবদার করে বলছিল- ডিসেম্বরে যদি ও ঢাকায় আসে, তাহলে যেন একটা দিনের জন্য হলেও ওকে কয়েক ঘণ্টা সময় দেয়। স্নেহার আরো অনুরোধ ছিল- ওই সাক্ষাৎ যেন বারে না হয়ে অন্য কোথাও হয়; যেখানে ওরা একান্তে একটু কথা বলতে পারবে, যেখানে আবিরকে বারবার ক্যাপ আর গ্লাসে নিজের চোখ ঢাকতে হবে না, সারাক্ষণ এদিক-সেদিক তাকিয়ে দেখতে হবে না- কেউ ওকে দেখে বা কেউ চিনে ফেললো কি না, কেউ কোথাও থেকে ওর ছবি তুললো কি না, কেউ আবার লুকিয়ে ভিডিও করলো কি না। যদিও আগের চেয়ে ওর এইসব সন্দেহবাতিকতা অনেকটাই কমে আসছিল। পুরাপুরি যে আজিব কিছিমের এইসব চিন্তা থেকে ও বের হইতে পারছিল, এমনও না যদিও। তবে ওর উদ্ভট আচরণগুলা কিছুটা সহনশীল হয়ে উঠছিল ততদিনে।

আগের চেয়ে ও অনেকটাই চেঞ্জও হইছিল আসলে। পরিচয়ের প্রথমদিকে স্নেহা ওকে ডাকতো- চ্যাট জিপিটি। ও তখন অনুভূতিহীন, কাঠখোট্টা টাইপের একটা লোক ছিল। সেই আবিরই এক সময় জোকস বলা শুরু করলো; স্নেহা রাগ করলে তা ভাঙানোরও চেষ্টা করতো। টেক্সটের সঙ্গে পাঠানো শুরু করলো ইমোজি, এমন কী কথায় কথায় হা হা হা লিখেও পাঠাতো! ওহ…আবিরের হাসি! কী যে সুন্দর…কী যে অদ্ভুত ভয়াবহ সুন্দর ওর হাসি…ওহ মাই মাই মাই! ওয়ারড্রবের ওপরে রাখা বোতলটা থেকে এক পেগ হুইস্কি ঢালতে ঢালতে স্নেহা যখন আবিরের হাসির কথা ভাবতেছিল, ঠিক তখনই সামনের বিছানায় ওকে আধশোয়া অবস্থায় দেখলো বলে মনে হলো ওর। দুই হাত মুঠ করে ও একবার চোখ কচলালো…নাহ! ও তো ড্রাঙ্ক না। ওইদিন দিনেরবেলা আবিরের জ্বর আর মাথাব্যথা নিয়ে ও এত পেরেশানিতে ছিল যে মদ ছোঁয়ার ইচ্ছাই হয় নাই। তাহলে কেন আবিরকে বিছানায় এইভাবে আধশোয়া অবস্থায় মুচকি হাসতে দেখতেছে? আচমকা এমন দৃশ্য দেখায় ওর হাত থেকে হুইস্কির গ্লাসটা নিচে পড়ে যায়। অরিজিনাল ক্রিস্টালের গ্লাস বলে ভাঙলো না ঠিকই, তবে এক্সট্রা ডাবল লার্জ পেগ হিসেবে বানানো ১২০ মি.লি হুইস্কির পুরাটাই বরবাদ হলো!

একদিকে আবিরের শরীরের ঘ্রাণ, অন্যদিকে চোখের সামনে হাসি মুখে আধ-শোয়া আবিরের অবয়ব; স্নেহার সমস্ত শরীর অবশ লাগা শুরু হয় ওই মুহূর্তে। আবির ওই ঘরে কেন, শহরেই নাই- এটা ও ছাড়া আর কে বেশি ভালো জানে? এর আগের তিনদিন রাজশাহীর মানুষ জানছে আবির ঢাকায়, ওর নিজের বাড়িতে। আর ঢাকায় ওর বাড়ির মানুষ জানছে- আবির রাজশাহীতে, ওর ওয়ার্কস্টেশনে। পৃথিবীতে একমাত্র স্নেহা আর উপরে আল্লাহ ছাড়া কেউই জানতো না আবির এর আগের তিনদিন কই ছিল, কী করতেছিল! কিন্তু তবুও তখন ও ঘরের যেদিকেই তাকাইতেছিল, সব জায়গাতে শুধু আবিরকেই দেখতে পারতেছিল চোখের সামনে।

ওইদিন বিকালের কিছুটা আগে অনেকটা জোর করেই আবিরকে ও পরোটা দিয়ে মুরগীর স্যুপ মুখে তুলে খাওয়ায়। ওর খাওয়ার রুচি একদমই ছিল না। শরীরটাও হালকা গরম ছিল, সঙ্গে ছিল তীব্র মাথাব্যথা। তিনদিন যাবত হুইস্কি ছাড়া কোনো সলিড খাবারই ও খায় নাই, ওর মাথাব্যথা হবে না তো কার হবে- স্নেহা ওকে এসব বলে হালকা বকাঝকাও করতেছিল সে সময়। সকালে ফুডপান্ডায় আল কাদেরীয়া থেকে মুরগীর স্যুপ আর পরোটা অর্ডার করে আনার পর নিজেই ডিমের ওমলেট বানিয়ে আবিরকে খাওয়ার জন্য তাগাদা দিতে থাকে। এপিটাইট নাই বলে বারবার খাবার এড়াতে থাকলেও পেগের পর পেগ হুইস্কি খাওয়া বন্ধ ছিল না ওর। স্নেহা বাধ্য হয়েই ওকে কন্ডিশন দেয়- নো ফুড, নো মোর হুইস্কি। খাবার খেলেই কেবল হুইস্কি দেওয়া হবে।

একটু পর খাবো, একটু পর খাবো করতে করতে দুপুর পার করে দেওয়ার পর খানিকটা জোর করেই স্নেহা ওকে উঠিয়ে মুখে তুলে খাওয়ায়। এরপর নিচে চলে যায় নাপা এক্সট্রা কিনতে। ওর যেহেতু জ্বর-টর তেমন একটা আসে না, এলেও ওষুধপত্রের ধার ধারে না বলেই ঘরে নাপাও থাকে না। কেবল বেকলোফেন, প্রোডেপ, ওলিয়ানজ, রিভোট্রিল কিংবা ফিলফ্রেশ টাইপের কিছু ওষুধই ঘরের কোথাও না কোথাও মজুদ থাকে মাঝেমধ্যে। ওইগুলাও যে ও নিয়মিত খায়, এমন না। কিন্তু ওইদিন ঘরে নাপা না থাকার আফসোসে ও মরে যাইতেছিল। ফার্মেসিতে ওষুধের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকার সময় ফোনে আবিরের টেক্সট আসে- মাদ্ মো..য়া জেল...হোয়্যার আর ইউ? কাম সুন, আই ওয়ানা টক।

মুড খুব বেশি ভালো থাকলে অথবা প্রচণ্ড ড্রাঙ্ক থাকলেই কেবল ও স্নেহাকে মাদ্-মোয়াজেল বলে ডাকে। এর বাইরে আবিরের দেওয়া স্নেহার কোনো নাম ছিল না। ওহ নাহ, মাঝে মাঝে অবশ্য ‘বেব’ বলেও ডাকতো, তবে ওইটা কেবলই প্রচণ্ড ড্রাঙ্ক অবস্থায় থাকলে! স্নেহা ওকে টেক্সটে ডাকে আমোন। সামনাসামনি যদিও ডাকে না। এই বিষয়ে ওর হালকা শাইনেস আছে। টেক্সটে তো আর চেহারা দেখা যাইতেছে না, তাই যত খুশি ‘আমোন’, ‘আমোন পাখি’- যা ইচ্ছা লেখা যায়। এনশিয়েন্ট এক ইজিপ্ট দেবতার নাম ‘আমোন’। উনি আবার নরমাল দেবতা না, দেবতাদেরও রাজা ছিলেন। কিন্তু ওই কারণে ‘আমোন’ নামটা স্নেহা বাছাই করে নাই। আমোনকে এনশিয়েন্ট ইজিপ্টে ‘লাইফ গিভিং গড’ হিসেবে মানা হতো বলেই বাছাই করছিল। আরো মজার ব্যাপার হলো- আমোন নামের অর্থ ‘গোপন’ বা ‘অদৃশ্য’। চার্লস বুকোস্কির ওই ব্লুবার্ডটার মতো; যাকে নিয়ে উনি লিখছিলেন-

দেয়্যার ইজ অ্যা ব্লুবার্ড ইন মাই হার্ট দ্যাট ওয়ান্টস টু গেট আউট
বাট আই'ম টু টাফ ফর হিম
আই সে স্টে ইন দেয়্যার, আই'ম নট গোয়িং টু লেট এনিবডি সি ইউ...

স্নেহার খুব পছন্দের কবিতা এইটা। আবিরও ওর জীবনে ওই ব্লুবার্ডটার মতোই, এমনটা ও মনে করতো। গোপনীয়, কিন্তু খুব আদরের। আরেকটা নামও আবিরের জন্য রাখছিল ও- আমাদো আলিয়েন্তো। স্প্যানিশ নাম। আমাদো অর্থ বিলাভড, আর আলিয়েন্তো অর্থ ব্রিথ। নামটা অত্যন্ত সুন্দর হলেও কঠিন হওয়ায় টেক্সটে তেমন একটা ইউজ করা হয় নাই। দুই-একবার করছিল মনে হয়। অনেক খুঁজে খুঁজে নামগুলা ও বহু সময় দিয়ে আর বহু যত্নে খুঁজে বের করছিল।

আবির আবার টেক্সট করে- অই! আর কতক্ষণ লাগবে? ওষুধ আর দেড় লিটারের দুইটা মাম পানির বোতল এক হাতে ধরে, আরেক হাতে স্নেহা টাইপ করে- আসছি, বাবা, ওয়েট। প্রায় দৌড়াতে দৌড়াতেই ও বাসায় উঠে। লিফট ফিফথ ফ্লোরে ছিল বলে সিঁড়ি দিয়ে হেঁটেই উপরে যায়। বাসার লক খুলে হাঁপাতে হাঁপাতে আবিরের কাছে গিয়ে একটা নাপা এক্সট্রা ওর মুখে ঢুকিয়ে পানির বোতলটা এগিয়ে দেয়। এরমধ্যে যে আবির ওকে আবার টেক্সট করে বলছিল- মাদ্-মোয়াজেল, দ্যাট স্যুপ ওয়াজ ডিলিশাস৷ আই ওয়ানা হ্যাভ সাম মোর। হাতে জিনিস থাকায় আর তাড়াহুড়ায় সিঁড়ি দিয়ে আসতে গিয়ে ওই টেক্সটটা ও মিস করে ফেলে।

বিকালবেলা অবশ্য হোটেলে মুরগীর স্যুপ পাওয়াও যায় না। সাধারণত সকালের নাস্তাতেই হোটেলগুলোতে এই আইটেম থাকে। তবুও বাইরে থাকা অবস্থায় টেক্সটা দেখলে ও খোঁজটা অন্তত নিতে পারতো। বেচারা দুইদিন যাবত কিছুই খায় নাই। কত কিছু করে অল্প একটু খাওয়াতে পারছিল ও। অথচ একটা জিনিস ও আবার খেতে চাইলে স্নেহা জোগাড় করতে পারলো না! এই আফসোস করতে করতে ও ফুডপাণ্ডায় মুরগীর স্যুপ খুঁজতে থাকে। আবির ওকে থামিয়ে পাশে বসায়। নিচে যাওয়ার আগে ওর শাওয়ারের জন্য চুলায় পানি গরম বসিয়ে গেছিল স্নেহা। ওই ফ্ল্যাটে গিজারের ব্যবস্থা ছিল না। ফেব্রুয়ারি মাস, ওয়েদার তখনো হালকা ঠান্ডা। চারিদিকে বসন্ত বাতাস। নরমাল পানিতে শাওয়ার নিলে ওর ঠান্ডা লাগতে পারে! দুইদিন যাবত শাওয়ারও নেয় নাই ও। শাওয়ারটা নিলে শরীরটা ভালো লাগতো তোমার- বলতে বলতে ও আবিরের সামনে বসে।

আবির তাকিয়ে আছে এক দৃষ্টিতে। ওর চোখে মায়া আর অসহায়ত্ব দুইটাই দেখতে পেল স্নেহা। বেশিক্ষণ ওইদিকে তাকানো গেল না। চোখ সরিয়ে নিয়ে খুব ক্যাজুয়ালিই ও বলে- বলো, কী তোমার জরুরি কথা? আমাকে ছেড়ে চলে যাবা, এটাই তো বলবা? এটা তো আমি জানি। আর কতবার বলবা, আবির? আবির বলে উঠে- স্নেহা...নাহ! তুমি কেন আমার মতো একটা মানুষকে ভালোবাসো? আমি তোমাকে কিছুই দিতে পারি না। কিছু দিতে পারবোও না কোনোদিন। একটু পজ দিয়ে আবার শুরু করে- হোয়্যাই ইউ আর ওয়েস্টিং ইউর লাইফ? ইউ আর ইন্টেলিজেন্ট, ইউ আর প্রিটি। আ...মি...আ..আমি তোমাকে কিছুই দিতে পারি না, এটা যে কত যন্ত্রণার! স্নেহা আবিরকে থামিয়ে বলে- আমি কী চাই তোমার কাছে, আবির? আবির মাথা নাড়ায়- কিছুই না। এটাই তো সমস্যা। তুমি আমার কাছে কিছুই চাও না, স্নেহা। এরজন্য তো আমার আরো বেশি কষ্ট হয়, খারাপ লাগে। অপরাধ বোধ হয়।

ঘড়ির কাঁটায় পৌনে পাঁচটা বাজে। স্নেহার ফোনে এলার্ম দেওয়া ছিল যেন ওর দুই ঘণ্টা আগে এয়ারপোর্টের জন্য বের হতে পারে। কিন্তু আবিরের হাবভাব দেখে মনে হইতেছিল ৭ নম্বর ফ্লাইটটাও ও মিস করার ধান্ধায় আছে। পরদিন চিফের যদি রাজশাহী যাওয়ার প্রোগ্রাম না থাকতো, ওইদিনও আবিরের না যাওয়ার সম্ভাবনাই ছিল। ওর যে যেতে ইচ্ছা করতেছে না, চোখ দেখেই বোঝা যাইতেছিল। তবে না যেয়েও উপায় ছিল না। ২৪ এর রাত থেকে রাজশাহী যাওয়া পেছাতে পেছাতে ওইদিন ২৬ এর বিকাল পাঁচটা। কয়েকবার আবির বলছেও- আমার যেতে ইচ্ছা করতেছে না। পর মুহূর্তেই আবার বলছে- কিন্তু যেতে হবে। চিফ আসবে। দে উইল কিক ইন মাই অ্যাস! ওইদিন সকালে ঘুমানোর ট্রাই করতে যাওয়ার সময় স্নেহার শাড়ি নিজের শরীরে জড়ালো ও। নিজেই শাড়িটা টেনে নিয়ে গায়ে জড়ানোর সময় স্নেহাকে বলতেছিল- আমাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে রাখো। এভাবে আমাকে কেউ ধরার মতো নাই।

আবিরের এসব কথা যে ও পুরাপুরি বিশ্বাস করতো, এমন না। আবার ওর অবচেতন মনের কোনো একটা অংশ মাঝে মাঝে এসব বিশ্বাসও করতে চাইতো সরল মনে। আবিরের ব্যক্তিগত বিষয়-আশয় নিয়ে ও কখনোই কোনো প্রশ্ন করে নাই, কিছু জানতেও চায় নাই। নিজে থেকে কিছু বললে শুধু শুনে গেছে। ওর কাছে ওই মুহূর্তটুকুই গুরুত্বপূর্ণ ছিল, যেই মুহূর্ত আবির ওর সঙ্গে, ওর পাশে থাকতেছে। এর বাইরে ওর ব্যক্তিগত জীবন; ওর পরিবার, ওর জব- এসবের প্রতি তখনো স্নেহা কোনো আগ্রহ দেখায় নাই। আগ্রহ দেখানোর প্রয়োজনও হয় নাই। প্রতি মাসেই ওদের দেখা হইতেছিল, কথাও হইতেছিল নিয়মিত। যদিও রাজশাহীতে পোস্টিংয়ের পর ওইবার প্রায় দুই মাস পর দেখা হইছে ওদের। সামনেও বোধহয় অনেকদিন দেখা হবে না, অথবা কে জানে- হয়তো আর কখনোই দেখা হবে না! এমনটাই সম্ভবত বলার জন্য ফার্মেসি থেকে জরুরি তলব দিয়ে ওকে ডেকে আনছিল আবির। কিন্তু ওই মুহূর্তে ওইটা বলার মতো নির্দয় ও হতে পারে নাই, বা ওর সাহসে কুলায় নাই তখন। এয়ারপোর্টে পৌঁছানোর পর ফ্লাইটে উঠে ওই সাহসটা ও জোগাতে পারছিল, কিংবা নির্দয় হতে। তখন তো দৃষ্টির সীমানা থেকে ও অনেক দূরে চলে গেছে। স্নেহার যন্ত্রণা তো আর ওকে সামনে থেকে দেখতে হইতেছিল না আসলে!

চেজিং দ্য ড্রাগন: জুনুন

Comments

    Please login to post comment. Login