Posts

গল্প

পথ হারানো বন্ধুর জন্য।

March 15, 2026

Md Josam

46
View

“প্রিয় দর্শক, গল্প শুরু করার আগে আপনাদের সবাইকে অনুরোধ করছি, আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন, যাতে আপনি সবসময় নতুন গল্প ও খবর পেতে পারেন! চলুন, তাহলে শুরু করা যাক আজকের গল্প!”ইউটিউব চ্যা সাবস্ক্রাইব করুন, এবং 10 হাজার টাকা জিতুন, চ্যানেলের ভিডিও তে কমেন্ট করুন, আমরা 3 জন বিজয়ী বেছে নেব।

https://youtube.com/@mrtempestis-q7f?si=g3B45DE2WFSjYpOi

পথ হারানো বন্ধুর জন্য” (পূর্ণ আকার, বড়)
ঢাকার প্রান্তিক একটি ছোট শহরের পাশে, ছোট্ট গ্রাম নাজিরপুরে থাকত দুই বন্ধু—আরিফ এবং সাইফ। তারা ১৫ বছরের, একে অপরের সঙ্গে স্কুলে যেত, খেলাধুলা করত, এবং সব সময় একে অপরের পাশে থাকত। তাদের বন্ধুত্ব ছিল গভীর, এমন একটি বন্ধুত্ব যা শুধু হাসি-মজা নয়, বিপদের সময় একে অপরকে সাহস দেয়।
এক গরম দুপুরে, তারা বাইসাইকেলে গ্রামের বাইরে পাহাড়ি পথে ঘুরতে বের হয়। চারপাশে ঘন বন, ছোট ছোট নদী, এবং আকাশে ঝড়ের পূর্বাভাস। তারা খোলা মাঠে পৌঁছল—মাঠটা বেশ উঁচু, ছোট ছোট ঘাস আর ভেজা মাটি। খোলা মাঠের মাঝখানে তারা খেলা খেলতে খেলতে একেবারে বিস্ময়কর অনুভূতি পেল—প্রকৃতির কাছাকাছি হওয়ার আনন্দ।
হঠাৎ সাইফের পা এক পাথরের ওপর ফসকে গেল। সে পড়ে গেল, পায়ের ওপর প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হল।
— “আরিফ! আমাকে সাহায্য কর!” — সাইফ কাঁদতে কাঁদতে চিৎকার করল।
আরিফ ছুটে গেল। সে সাইফকে পাশে বসাল, কিন্তু দেখল—ফোনে নেটওয়ার্ক নেই। চারপাশে শুধু ঘন বন আর ছোট ছোট নালা। আকাশ হঠাৎ কালো হয়ে গেল, বাতাসে বিদ্যুতের গন্ধ, ঘন বৃষ্টি শুরু হল। নদী ধীরে ধীরে ফুলে উঠছে, পানি তীব্র স্রোত হয়ে চলেছে।
আরিফের ভেতরে এক অজানা ভয় জন্ম নিল, কিন্তু সে হাল ছাড়ল না। সে ভাবল—সাইফকে নিরাপদ করতে হবে। প্রথমে বৃষ্টির হাত থেকে সাইফকে ঢেকে রাখল, তারপর নিজের সাহস নিয়ে নদীর কাছে গেল। নদীর পানি ইতিমধ্যে বেড়ে গিয়েছে, স্রোত শক্তিশালী। হঠাৎ ভেসে যাওয়া ছোট গাছের ডাল এবং পাথর নৌকার ধাক্কা দিচ্ছে।
আরিফ নিজেকে বলল—“আমি থামতে পারব না। সাইফকে বাঁচাতে হবে।”
সে দ্রুত পাশের ছোট গ্রামের দিকে দৌড়ে গেল। পথের মাঝে ঝড়, বৃষ্টি, ভিজে পায়ে কাঁপুনি—সব কিছুই তাকে থামাতে পারল না। গ্রামের মানুষকে খবর দিল, তারা নৌকা নিয়ে নদীর ধারে এল।
নৌকা দিয়ে নদী পার হতে হয়েছে, ঢেউগুলো এত শক্তিশালী যে একবার মনে হল উল্টে যাবে। কিন্তু আরিফ সাইফকে ধরে রাখল। গ্রামের মানুষও সাহায্য করল। অবশেষে তারা নিরাপদে হাসপাতালে পৌঁছাল। ডাক্তার বলল—“দ্রুত ব্যবস্থা না হলে বড় বিপদ হতে পারত।”
সাইফ কিছুদিন হাসপাতালে থাকল। আরিফ প্রতিদিন তাকে দেখতে যেত। তারা একে অপরকে ধন্যবাদ জানাল। এই অভিজ্ঞতা তাদের বন্ধুত্বকে আরও দৃঢ় করে দিল।
তারপর তারা সিদ্ধান্ত নিল—বিপদের সময় একে অপরকে কখনও ছেড়ে দিবে না। শুধু নিজেরাই নয়, অন্যদেরও সাহায্য করবে। তারা শিখল—সত্যিকারের বন্ধুত্ব মানে বিপদের সময় পাশে থাকা।
গ্রামে এই ঘটনা ছড়িয়ে পড়ল। বড়রাও বলল—“একজন মানুষের সাহস আর বন্ধুত্ব কতো বড় প্রভাব ফেলতে পারে।” আরিফ এবং সাইফ বুঝল—একটি ছোট সাহসও অনেক বড় পরিবর্তন আনতে পারে। সেই দিন তারা শিখল, বিপদে সাহসিকতা আর বন্ধুত্বের শক্তি কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
বছর কয়েক পরে, আরিফ এবং সাইফ বড় হল। তারা দুজনেই সমাজে এমন কাজ করতে শুরু করল যাতে বিপদের সময় মানুষকে সাহায্য করা যায়। আর সেই ছোট্ট ঘটনার স্মৃতি তাদের মনে সাহস জোগায়—যে সাহস একবার অন্যের জন্য জ্বলে উঠল, তা সবসময় জীবনের আলো হয়ে থাকে।

Comments

    Please login to post comment. Login