Posts

গল্প

ভাঙা ঘরের মধ্যে আশার আলো

March 15, 2026

Md Josam

Original Author MD samim sikdar

Translated by MD Shamim sikdar

53
View

“প্রিয় দর্শক, গল্প শুরু করার আগে আপনাদের সবাইকে অনুরোধ করছি, আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন, যাতে আপনি সবসময় নতুন গল্প ও খবর পেতে পারেন! চলুন, তাহলে শুরু করা যাক আজকের গল্প!”ইউটিউব চ্যা সাবস্ক্রাইব করুন, এবং 10 হাজার টাকা জিতুন, চ্যানেলের ভিডিও তে কমেন্ট করুন, আমরা 3 জন বিজয়ী বেছে নেব।

https://youtube.com/@mrtempestis-q7f?si=g3B45DE2WFSjYpOi

ভাঙা ঘরের মধ্যে আশার আলো” 
ঢাকার প্রান্তিক একটি ছোট গ্রামে একটি পুরনো, খুঁটিনাটি এবং ভাঙাচোরা ঘর ছিল। বহুদিন ধরে বর্ষার ধারা চলছিল, তাই ছাদের টিন ফুটো, দেয়ালের কিছু অংশ ফাটল, মাটি আলগা হয়ে গেছে। সেই ঘরে থাকত নাফি, সাত বছর বয়সী একটি ছোট্ট শিশু। সে শান্ত স্বভাবের, কেবল খেলাধুলা করতে ভালোবাসে। মা বাজারের কাজে গিয়েছিলেন, বাবা দূরে কাজ করছেন।
এক সকালে হঠাৎ ঘরের একটি অংশ ধসে পড়ল। নাফি তখন ঘরের ভেতরে খেলছিল। ছাদের ভাঙা অংশ এবং দেয়াল পড়ার শব্দে সে ভয় পেয়ে চিৎকার করতে লাগল। তার ছোট্ট কণ্ঠে কাঁদার শব্দ চারপাশে প্রতিধ্বনিত হল।
নাফির মা শুনে ছুটে এলেন, কিন্তু দূর থেকে দেখেই আতঙ্কিত হলেন। গ্রামের মানুষও ছুটে এল। কেউ ভিতরে ঢুকতে সাহস পাচ্ছিল না। ভিজে মাটির উপর ফসকুনি, উল্টে যাওয়া টিন, ঝড়ের হাওয়া—সবকিছু বিপজ্জনক। ছোট্ট নাফির কাঁপুনি ও কান্না সবকিছুকে আরও ভয়ঙ্কর করে তুলল।
ঠিক তখন পাশের গ্রামের যুবক সুমন আসলেন। তিনি সাহসী, শান্ত স্বভাবের। গ্রামবাসী জানত, বিপদের সময় তিনি ভয়কে জয় করতে পারেন। সুমন দেখলেন—নাফি ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে আছে। তার ছোট হাত, কেঁপে ওঠা চোখ এবং ভয় পেয়ে চিৎকার—সবকিছু সুমনের হৃদয়ে স্পর্শ করল।
সুমন সাহস দেখালেন। তিনি ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ঢুকলেন। ভাঙা দেয়াল, ঝুঁকিপূর্ণ টিন, উঁচু পানি এবং ভেসে আসা debris—সবকিছু বিপদ তৈরি করছিল। কিন্তু তিনি শুধু নাফির দিকে মনোনিবেশ করলেন। প্রতিটি ধাপ সাবধানে, কিন্তু দৃঢ় আত্মবিশ্বাসে নাফির দিকে এগোতে লাগলেন।
নাফি প্রথমে ভয় পেল। সে চিৎকার করল, “আমাকে না নিয়ে যাও!”। কিন্তু সুমনের শান্ত কণ্ঠ এবং সহমর্মিতা তাকে থামতে বাধ্য করল। সুমন ধীরে ধীরে নাফিকে ধরে রাখলেন, ছোট হাতগুলো আঁকড়ে ধরলেন। একবার নদী বা debris তাকে ঠেকালেও, তিনি নাফিকে ছাড়লেন না।
গ্রামবাসী তার পাশে দাঁড়াল। তারা ধীরে ধীরে ধ্বংসস্তূপ সরাতে লাগল। অনেক প্রচেষ্টা শেষে সুমন এবং গ্রামবাসীর সাহায্যে নাফিকে নিরাপদে বাইরে আনা সম্ভব হলো। নাফি কাঁপতে কাঁপতে সুমনের কাছে আশ্রয় পেল। তার মা কেঁদে কেঁদে ছেলেকে কোলে তুললেন।
— “ধন্যবাদ! তুমি আমাদের জীবন বাঁচিয়েছ।”
গ্রামের সবাই দেখল—বিপদের সময় সাহস এবং অন্যের জন্য ভাবার মন বড় বিপদের মাঝেও আশা জ্বালাতে পারে। সুমনের ছোট সাহস শুধু নাফিকে নয়, পুরো গ্রামের মানুষকে সাহস যুগিয়েছিল।
পরবর্তী দিনগুলোতে, গ্রামের মানুষ একে অপরকে সাহায্য করতে আরও আগ্রহী হলো। তারা শিখল—যদি কেউ সাহস দেখায় এবং বিপদের সময় অন্যের জন্য ভাবেন, তবে অন্ধকারের মধ্যে আলো জ্বলে উঠতে পারে। সুমনের কাজ সবাইকে দেখালো—একটি সাহসিক পদক্ষেপ কখনও কখনও এক শিশুর জীবন এবং পুরো সম্প্রদায়ের জন্য আশার আলো হয়ে ওঠে।
নাফি বড় হয়ে সেই দিনকে মনে রাখল। সে শিখল—বিপদের সময় সাহসিকতা আর অন্যের জন্য ভাবার মন মানুষের জীবনে কত বড় পরিবর্তন আনতে পারে। সাহস, সহমর্মিতা এবং সত্যিকারের বন্ধুত্ব সবসময় অন্ধকারের মধ্যে আলো জ্বালায়।
শেষ।

Comments

    Please login to post comment. Login