শহরের এক কোণে ছোট্ট একটা মুদি দোকান চালান রহমত চাচা। বয়স হয়েছে, তবুও এই রমজানেও তিনি রোজা রাখেন এবং হাসিমুখে কাস্টমার সামলান। তার দোকানের পাশেই প্রতিদিন এক কিশোর বসে থাকত, নাম তার আরিয়ান। আরিয়ান একটু জেদি আর আত্মকেন্দ্রিক। তার কাছে রমজান মানে ছিল শুধু সারাদিন না খেয়ে থেকে সন্ধ্যায় ভালো ভালো খাবার খাওয়া।
রমজানের দশম দিন। প্রচণ্ড গরম। আরিয়ান দেখল রহমত চাচা রোজা রেখেও ভারী চালের বস্তাগুলো গুছিয়ে রাখছেন। আরিয়ান পাশ থেকে বলল, "চাচা, এই বয়সে এত কষ্ট করার কী দরকার? রোজা না রাখলেও তো পারেন, আল্লাহ তো মাফ করবেন।"
রহমত চাচা মুচকি হেসে বললেন, "বাবা, রোজা মানে তো শুধু না খেয়ে থাকা নয়। রোজা হলো নিজের ধৈর্যের পরীক্ষা আর অন্যের কষ্ট বোঝার একটা মাধ্যম। এই যে আমি আজ তৃষ্ণার্ত, এতে আমি বুঝতে পারছি শহরের ওই মানুষগুলোর কথা, যারা জল পায় না। এই যে আমি ক্ষুধার্ত, আমি বুঝতে পারছি অভাবীর জ্বালা।"
আরিয়ান কথাগুলো শুনল, কিন্তু খুব একটা পাত্তা দিল না। কিন্তু বিকেলের দিকে একটা ঘটনা ঘটল। রহমত চাচার দোকানে এক বৃদ্ধা এলেন। তার হাতে মাত্র কয়েকটা টাকা। তিনি খুব কুণ্ঠিত হয়ে অল্প কিছু ডাল আর চাল চাইলেন। রহমত চাচা যখন দেখলেন বৃদ্ধার কাছে পর্যাপ্ত টাকা নেই, তিনি চুপচাপ ব্যাগের ভেতর অনেকগুলো বাড়তি জিনিস ভরে দিলেন এবং টাকা নিলেন না।
আরিয়ান অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, "চাচা, আপনি তো লোকসানে পড়বেন!"
চাচা বললেন, "রমজান আমাদের শিখিয়ে দেয় ‘ত্যাগ’। নিজের যা আছে, তা থেকে অন্যকে ভাগ দেওয়াতেই আসল ইবাদত। সারা বছর আমরা নিজের জন্য বাঁচি, এই এক মাস আমরা অন্যের জন্য বাঁচতে শিখি।"
সেই রাতে আরিয়ান অনেকক্ষণ ভাবল। পরদিন থেকে তার মধ্যে এক অদ্ভুত পরিবর্তন দেখা গেল। সে তার জমানো টাকা দিয়ে পাড়ার সুবিধাবঞ্চিত বাচ্চাদের জন্য ইফতারের আয়োজন করতে শুরু করল। সে বুঝতে পারল, রমজানের আসল শিক্ষা কেবল উপবাসে নয়, বরং দয়া, ক্ষমা এবং আর্তমানবতার সেবায়।