এক শান্ত বিকেলে রায়হান বাজার থেকে ফিরছিল।তার মন আজকে খুব ফুরফুরে।কোচিংয়ে এক মেয়ে ফ্রেন্ড হয়েছে তার।
বাজারের পিছন দিকে প্যাচানো ইটের রাস্তা-যেটি চাষের জমির মাঝ দিয়ে বেরিয়ে গেছে- সেদিক দিয়ে হাটতে হাটতে সে অস্বাভাবিক কিছু অনুমান করল।
দাউদ কাকা পাশের ক্ষেত থেকে উচ্চস্বরে বলল, রায়হান,শুনছোস নি কিছু?
কি?
বাড়ি যা।তাড়াতাড়ি যা বাপ।
রায়হান তর তর করে হাঁটা শুরু করল।বেশি দূর এগোতে হলো না। কমল,তার সহপাঠী, তাকে ঘটনাটা বলল।
সে দৌড়ে রাস্তা ধরে এগোতে থাকল।
পাগলাভিটা-যেটি এ গ্রামের সবচেয়ে গহীন বন-যেখানে কস্মিনকালেও মানুষ যায় না-আজকে সেথায় মানুষের ভিড়।
রায়হান হতভম্বিত হয়ে দেখল,হালিমার গলায় গামছা পেঁচানো।তার মুখ থেকে জিহ্বা বেরিয়ে এসেছে।একটি মোটাসোটা গাছ হতে সে ঝুলন্ত।পা মাটি হতে অনেক উপরে।
তারপর যা হওয়ার তাই হলো।হালিমার আত্মীয়স্বজন,পুলিশ, সাংবাদিক,গ্রামের মাতবর সবাই আসল একের পর এক।
তিনদিন থমথমে পরিস্থিতির পর-পোস্টমর্টেম শেষে-অনেক জোড়াজুড়ির পর ইমামকে রাজি করিয়ে-জানাজা পড়িয়ে হালিমাকে কবরস্থ করা হলো।
দুই সপ্তাহ পর।
রায়হান কোচিং শেষ করে ফিরছিল। পিয়ার সাথে হাঁটতে হাঁটতে।তার নতুন ফ্রেন্ড।
পিয়া।রায়হান,১৭ নাম্বার অংটা বুঝছো?
রায়হান।সিম্পল তো।ত্রিকোণমিতিকে ভয় পাও?
পিয়া হেসে দিল।না, ভয় না ঠিক।তবে...
সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে।আকাশ তখন মেঘলা।রায়হান আর পিয়া হাটতে হাটতে একটা বড় গাছের নিচে গিয়ে দাঁড়াল।ঝুম বৃষ্টি শুরু হয়েছে।আশেপাশে মানুষ নেই বললেই চলে।
রায়হান হটাৎ পিয়ার হাত ধরল।তারপর কাঁধের ব্যাগ ফেলে দিল নিচে।একটা পোড়া গন্ধ এল নাকে।পেছন ফেরে রায়হান দেখে,হালিমা।মৃত হালিমা।কালো কাঁটাছেড়া মুখ।সামনে তাকিয়ে দেখল পিয়া নেই।
রায়হানের কলিজা বরফ হয়ে গেল।
সে এক্যাব্যাকা প্রাণপণে দৌড়তে লাগল।বৃষ্টি পড়ছে শো শো শব্দ করে।জায়াগায় জায়গায় পিচ্ছিল।
কাঁদামাখানো ছেঁড়াপ্যান্ট নিয়ে সে বাড়িতে পৌঁছে পাগলের মতো করতে থাকল।
তার বাবা বলল,রায়হান বাবা কি হয়েছে বলো।
রায়হান গোঙানো ব্যতীত একটি কথাও স্পষ্ট বলতে পারল না।
তার বাবা হুজুরকে ডেকে পাঠালেন।হুজুর রায়হানের কাছে থেকে সব শুনলেন একাকী।
হুজুর তাকে বেশিবেশি তওবা পড়তে বললেন।আর খাস দিলে আল্লাহর কাছে মাফ চাইতে বললেন।
রায়হান হুজুরের পা জড়িয়ে ধরল। হুজুর বললেন,তওবা পড়ো।মাফ করার মালিক আল্লাহ।
আমি না।