Posts

কবিতা

ধর্ষণ আটকাতে শিক্ষা

March 18, 2026

অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী

10
View

ধর্ষণ এক জঘন্য সামাজিক অপরাধ।

এ অপরাধের সাজা বলতে গেলে কি শুধু মৃত্যুদণ্ড?

আমরা তো শুনেছি খবরে অনেক ধর্ষকের ফাঁসি হয়েছে।

ব্যস, এতেই কি ধর্ষণ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল?

না।

তা তো নয়।

এত বড়ো দেশে কোথাও না কোথাও ধর্ষণের ঘটনা ঘটেই চলেছে প্রায় প্রতিদিনই।

সব ঘটনার কথা কি আমরা জানি

নাকি সব ঘটনার কথা খবরে আসে?


 

যে সকল পুরুষেরা ধর্ষণ করে 

তাদের মধ্যে রয়েছে অত্যধিক যৌন ক্ষুধা।

সেই ক্ষুধা মেটানোর জন্য 

তারা ছটফট করে দিনরাত।

একসময় কোনো একটি মেয়ে বলি হয়ে যায় 

সেই ধর্ষণের।

এসব ভাবতেও খারাপ লাগে,

কতটা নীচে নামলে মানুষ এমন জঘন্যতম ঘটনা ঘটায়!


 

সেই সকল পুরুষ যাদের 

যৌন লালসা এতই বেশি

তারা পারলে নিজের গর্ভধারিণী মাকেও 

পর্যন্ত ছাড়ে না...বোন, দিদি....কেউ বাদ যায় না তাদের লালসার হাত থেকে -----

এমন ঘটনার কথা আমরা কত শুনেছি খবরে।

তারা শুধুমাত্র শরীর বোঝে 

কিন্তু স্নেহ, দয়া, মায়া, ভালোবাসা 

এসব কিছুই বোঝে না

তারা হয়তো কোনো মেয়েকে 

কোনোদিনও ভালবাসতে পারেনি

কারণ ভালোবাসা অনেক উচ্চমার্গের বিষয় 

তাই তো সবাই ভালবাসতে পারে না

তারা শুধু দেহ ভোগ করতে চায়

তাদের অতৃপ্ত কামনা যেন মিটতেই চায় না 

তাইতো একের পর এক মেয়ে বলি হয় ধর্ষণের।


 

কিন্তু এদের শাস্তি হিসেবে শুধু মৃত্যুদণ্ডই যথেষ্ট নয়।

মৃত্যু মানে সবকিছু শেষ

মৃত্যুর মাধ্যমে যে সময় প্রাণ দেহ থেকে বেরিয়ে যায় শুধু সেই সময়ই যা যন্ত্রণা উপলব্ধি হয় 

যা 'মৃত্যুযন্ত্রণা' নামে পরিচিত।

যার মৃত্যু হল, মৃত্যুর পরে তার কি আর মনে থাকবে কোনো যন্ত্রণার কথা?

না।

কিন্তু যে মেয়েটা ধর্ষণের শিকার হ'ল 

সে কি আর সমাজে মুখ দেখাতে পারবে?

সে কি মাথা উঁচু করে চলতে পারবে সমাজে?

কে বুঝবে এসব?

যে মেয়েটা ধর্ষিতা হয়েও প্রাণে বেঁচে যায়

তার রোদন

তার হৃৎশূল 

সে ছাড়া আর অন্য কেউ বোঝে না।

অন্যরা তার প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে ----

শুধুমাত্র এইটুকুই।

কিন্তু তার দেহের যে কিছু নির্দিষ্ট অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের 

ব্যথা যন্ত্রণার কথা 

এসব তো সে ছাড়া আর অন্য কা'রও বোঝার কথা নয়।

তার মন যে হাহাকার করে ওঠে

ঠিক যেন বুকে পাহাড় চাপা পড়েছে 

এতটাই দুঃখ কষ্ট সহ্য করতে হয় তাকে ----

এসব আর সহ্য করতে না পেরে 

সমাজে মুখ না দেখাতে পারার লজ্জায় 

একসময় সেই মেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

এক সুন্দর হাসি খুশি জীবনে 

হঠাৎ যেন প্রলয় ঘটে যায় ----

কোনো ফুলের বাগানে সর্বদাই মিষ্টি গন্ধ থাকে 

কিন্তু সেখানে যদি ডাস্টবিনের নোংরা আবর্জনা প্রতিদিন ফেলা হয় 

একটা সময় আসবে যখন সেই বাগানে আর মিষ্টি গন্ধ থাকবে না 

বাগানের পরিবেশ হয়ে উঠবে দুর্গন্ধময়, বিষাক্ত 

ঠিক তেমনি কত মেয়ের জীবন 

অকালেই এভাবে নষ্ট হয়ে গেছে।


 

তাই ধর্ষকদের উপযুক্ত সাজা মৃত্যুদণ্ড নয়।

সেই ধর্ষকদেরও সজ্ঞানে 

এমন সাজা দেওয়া উচিত যাতে তারা বুঝতে পারে এক ধর্ষিতা মেয়ে ধর্ষণের সময় কত কষ্ট ভোগ করে।

যারা ধর্ষণ করে 

তারা আড়ালে করে

কিন্তু সেই ধর্ষকদের ভয়াবহ শাস্তি দেয়া উচিত 

জনসমক্ষে 

সকলের সামনে 

যেন ইতিহাস হয়ে যায়।

কোনো পুরুষের মনে যেন ভবিষ্যতেও 

এমন ধর্ষণের মতো নোংরা প্রবৃত্তি না জেগে ওঠে 

আর জেগে উঠলেও তখনই সেই শাস্তির কথা মনে পড়ে যার ফলে নিজেকে শুধরে নেয়।

তবেই হবে যথাযথ উপায়ে ধর্ষণের প্রতিকার।


 

এছাড়া মেয়েদের সামাজিক সচেতনতা আরও বাড়ানো দরকার।

কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পড়লে 

কীভাবে বেরিয়ে আসা যায় 

সেই সম্পর্কে শিক্ষাও তাদের দেওয়া উচিত।


 

শুধুমাত্র গায়ের জোরই বড়ো কথা নয় 

শিক্ষার জোরই সবথেকে বড়ো।

তাই মেয়েদের এইসব বিষয়ে যথোপযুক্ত শিক্ষা দান করা উচিত 

যাতে কোনো মেয়ে যদি কোনো অবস্থায় বুঝতে পারে যে সে ধর্ষণের শিকার হতে চলেছে -----

কোনো ছেলের যৌন খিদে মেটানোর 

শিকার হতে চলেছে 

সত্ত্বর যেন বুদ্ধি প্রয়োগ করে 

সেই প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারে,

নিজেকে বাঁচাতে পারে।

এই শিক্ষাই একমাত্র শ্রেষ্ঠ শিক্ষা।


 

অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী 

১৮/৩/২০২৬

Comments

    Please login to post comment. Login