Posts

উপন্যাস

মার্চ এর আগমন

March 18, 2026

উপন্যাস রাইটার

10
View

https://rkmri.co/SE2AeM20lSER/ এই গরমে এই পন্যটি আপনার দরকার হতে পারে চাইলে দেখে আসতে পারেন 

প্রথম দৃশ্য: বসন্তের দোরগোড়ায়

মার্চ মাসের সকালগুলোতে এক অদ্ভুত আলো থাকে। শীতের কুয়াশা ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায়, আর গ্রীষ্মের তীব্রতা তখনও এসে পৌঁছায়নি। গ্রামের মাঠে সরিষার ফুলের হলুদ রঙ যেন আকাশের নীলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে। এই সময়েই গল্পের শুরু—একটি ছোট্ট গ্রামে, যেখানে নদীর ধারে কচি কচি কাশফুল বাতাসে দুলে ওঠে।

রূপা, গ্রামের এক কিশোরী, দাঁড়িয়ে আছে নদীর ঘাটে। তার চোখে এক অদ্ভুত স্বপ্ন—শহরে গিয়ে পড়াশোনা করার, নিজের জীবনকে নতুনভাবে গড়ে তোলার। কিন্তু মার্চ মাস তার কাছে শুধু ঋতুর পরিবর্তন নয়, বরং জীবনের মোড় ঘোরানোর সময়।

দ্বিতীয় দৃশ্য: অগ্নিঝরা দিন

মার্চ মানেই বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অগ্নিঝরা মাস। গ্রামে তখনও স্বাধীনতার গল্প বেঁচে আছে। রূপার দাদু মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তিনি প্রায়ই বলেন— “মার্চের দিনগুলোতে আমরা বুকের রক্ত দিয়ে স্বাধীনতার বীজ বুনেছিলাম।”

রূপা সেই গল্প শুনে বড় হয়েছে। তার মনে হয়, মার্চ মানে শুধু ফুল আর বসন্ত নয়, মার্চ মানে সংগ্রাম, মার্চ মানে সাহস।

তৃতীয় দৃশ্য: শহরের ডাক

রূপার বাবা চান না সে শহরে যাক। তিনি মনে করেন, মেয়েদের পড়াশোনা গ্রামের স্কুলেই যথেষ্ট। কিন্তু রূপার মন মানে না। মার্চ মাসের প্রতিটি দিন তার কাছে যেন নতুন সংকল্পের দিন। সে ঠিক করে, এই মাসেই সে বাবাকে রাজি করাবে।

একদিন বিকেলে, যখন মাঠে ধানগাছের পাতায় হালকা বাতাস বয়ে যাচ্ছিল, রূপা বাবার কাছে গিয়ে বলল— “বাবা, মার্চ মানে তো স্বাধীনতার মাস। তুমি কি চাও আমি স্বাধীনভাবে স্বপ্ন দেখতে না পারি?”

বাবা চুপ করে গেলেন। তার চোখে জল এসে ভিজে উঠল।

চতুর্থ দৃশ্য: প্রেমের আভাস

গ্রামেরই এক তরুণ, আরিফ, রূপাকে ভালোবাসে। মার্চের বসন্তে সে প্রায়ই রূপার জন্য ফুল তুলে আনে। কিন্তু রূপার মন এখনো পড়াশোনায়। আরিফ জানে, রূপা শহরে গেলে হয়তো তাকে ভুলে যাবে। তবুও সে চায় রূপা তার স্বপ্ন পূরণ করুক।

একদিন নদীর ধারে দাঁড়িয়ে আরিফ বলল— “তুমি যদি শহরে যাও, আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করব। মার্চের মতোই তুমি ফিরে আসবে, নতুন আলো নিয়ে।”

রূপা হাসল। তার মনে হলো, মার্চ মাস শুধু বিদায়ের নয়, অপেক্ষারও প্রতীক।

পঞ্চম দৃশ্য: বিদায়ের দিন

অবশেষে মার্চের শেষ সপ্তাহে রূপার বাবা রাজি হলেন। তিনি বললেন— “তুমি যাও, মেয়েটি। মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছে, হয়তো তোমার স্বাধীনতাও দেবে।”

রূপা শহরের পথে রওনা হলো। গ্রামের মানুষ তাকে বিদায় জানাতে এল। নদীর ঘাটে দাঁড়িয়ে আরিফ চুপচাপ তাকিয়ে রইল। রূপার চোখে জল, কিন্তু মনে দৃঢ়তা।

শেষ দৃশ্য: নতুন সূচনা

শহরে পৌঁছে রূপা নতুন জীবনের শুরু করল। মার্চ মাস তার কাছে হয়ে উঠল এক প্রতীক—

স্বাধীনতার প্রতীক

সংগ্রামের প্রতীক

প্রেম আর অপেক্ষার প্রতীক

সে জানে, মার্চ শেষ হলেও তার ভেতরে মার্চ বেঁচে থাকবে চিরকাল।

Comments

    Please login to post comment. Login