Posts

উপন্যাস

চেজিং দ্য ড্রাগন: ইন দ্য সেইম সিটি

March 18, 2026

Shifat Binte Wahid

Original Author সিফাত বিনতে ওয়াহিদ

249
View

[ডিসক্লেইমার: এই গল্পে চিত্রিত প্রভাবশালী চরিত্র ও ক্ষমতার অলিগলি সম্পূর্ণ কাল্পনিক। মানুষের মনের গহীনের অন্ধকার ও জটিল প্রবৃত্তিগুলো বাস্তব হলেও, এখানকার চরিত্র, তাদের কর্মকাণ্ড এবং প্রেক্ষাপটের সঙ্গে বাস্তবের কোনো ব্যক্তি বা স্থানের মিল নেই।]

রাজশাহী ট্যুরের কথা জানিয়ে দেওয়া টেক্সটের রিপ্লাই আসে ঘন্টা দুয়েক পর। আবির ওই টেক্সটে লেখে- আই উইল ট্রাই মাই বেস্ট। আই'ম আন্ডার সারভেইল্যান্স হেয়্যার। হোপ ইউ আন্ডারস্ট্যান্ড। স্নেহা ওই রিপ্লাইতে মোটেও রাগ বা অভিমান করে না। বরং আবির যে দেখা করার ট্রাই করবে বলছে, তাতেই ওর মন ভালো হয়ে যায়। কোনোকিছুতে আবিরকে প্রেশার ফিল করাতে বা ওর কাজ কিংবা ফ্যামিলিতে প্রব্লেম হয়, এমন কিছু কখনোই ও করতে চায় নাই। খুশি মনেই ও উত্তর দেয়- নো ওয়ারিজ। প্যারা নিও না। না দেখা হলে কোনো একটা অচেনা লোককে ধরে গান শুনে চলে আসবো! লল! আবির সঙ্গে সঙ্গেই লেখে- কাম অন! 

রাজশাহীতে আবিরের সঙ্গে দেখা হওয়ার প্রথম দিনটা সম্ভবত ওর জীবনের সবচেয়ে সুন্দর দিনের মধ্যে অন্যতম, অথবা ওইটাই ওর জীবনের সবচেয়ে সুন্দরতম দিন হয়ে থাকবে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত। এখনো নিজের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর দিন হিসাবেই ওই দিনটাকেই ওর ভাবতে ইচ্ছা করে। কোনো কদর্য অনুভূতি ছিল না ওই দিনে; যা ছিল- পুরাটাই আনন্দ, পুরাটাই শান্তি, পুরাটাই এক স্বর্গানুভূতি। ১৩ ফেব্রুয়ারির বিকালের ফ্লাইটে নেমে এয়ারপোর্টের পার্কিংয়ে হোটেল গ্র্যান্ড রিভার ভিউয়ের পাঠানো হাইএস গাড়িতে বসে ছিমছাম শহরটাকে দেখায় মনোযোগী হয়ে উঠে ও। ড্রাইভার ভদ্রলোকটা গাড়িতে উঠার পর জানতে চাইলেন- এইবারই কি পথম রাজশাহী আস্লেন, মেডাম? ভদ্রলোকের কথায় আঞ্চলিকতার টান আছে, তবে রাজশাহীর নাকি চাঁপাইনবাবগঞ্জের- এই ব্যাপারে স্নেহা নিশ্চিত হতে পারে না।

চাঁপাইয়ের অনেক লোকই এই শহরে থাকে বলে শুনছে ও। জানালা দিয়ে সূর্য ডুবে যাওয়ার মুহূর্তটা দেখতে দেখতে ড্রাইভার সাহেবের প্রশ্নের উত্তরে ও বলে- নাহ! সম্ভবত দ্বিতীয় অথবা তৃতীয়বার, মনে নেই। তবে প্রথম না। এর আগে আব্বার সঙ্গে দুইবার রাজশাহী আসছিল। তখন ক্লাস সেভেন কী এইটে পড়ে। ওই মুহূর্তে ওর ঠিক মনে পড়তেছিল না, কিন্তু এর আগে বা পরে হওয়ার কথা না, এইটুকু শিওর। রাজশাহীর এয়ারপোর্টটার নাম অদ্ভুত আছে- শাহ মখদুম বিমানবন্দর। কোনো পীর-আউলিয়ার নাম হবে হয়তো। কিন্তু উনার সম্পর্কে ও জানে না কেন? নিজের উপর একটু বিরক্তই হলো স্নেহা। একটা জেলা শহরের এয়ারপোর্ট যার নামে নামকরণ করা হইছে, অবশ্যই উনি গুরুত্বপূর্ণ কেউ। নিজের দেশের একটা জেলার গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তির সম্পর্কে ও জানে না, এই রকম মূর্খতা ও মানতেই পারতেছিল না। নিজেকে বার কয়েক মূর্খ ডাকার পর ও ভেবে রাখলো- হোটেলে ঢুকেই প্রথম কাজ হবে মখদুম সাহেব সম্পর্কে জানা। কিন্তু ‘মখদুম’ শব্দটার অর্থ ওর তখনই জানতে হবে।

গুগল ঘাটতেই চটপট উত্তর চলে আসলো- ‘মখদুম’ অর্থ ধর্মীয় নেতা বা শিক্ষক। সঙ্গে এটাও জানা গেল, শাহ মখদুমের প্রকৃত নাম আসলে ওইটা না। উনাকে ওই অঞ্চলে মখদুম নামে ডাকা হতো। তার আসল নাম আব্দুল কুদ্দুস জালালুদ্দীন। জালালুদ্দীন নামটাই ওর কাছে বেশি সুন্দর লাগলো। এই নামেও উনি পরিচিত হতে পারতেন। নাহ, ওইখানে আবার টেকনিক্যাল ঝামেলা আছে। হযরত শাহজালাল (রহঃ) এর নামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ার সুযোগ থাকে। এক দেশে জালাল নামের দুই আউলিয়া থাকলে মুরীদগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। এগুলা সবই ওর অ্যাজাম্পশন। আন্দাজে যা মনে আসতেছে, তা-ই ভাবতে ভাবতেই দেখে- গাড়ি পৌঁছে গেছে কাজীহাটা নামের এক জায়গাতে।

হোটেলের বাইরের লুকটা খুব একটা খারাপ না। ভেতরে সব ঠিক থাকলেই হয়, একবার বাইরে থেকে আপাদমস্তক দেখে ও ভাবে। এরমধ্যেই আবির টেক্সট করে- রিচড হোটেল? ওইটা ওর ৮ নম্বর টেক্সট- হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে শুরু করে শাহ মখদুম পর্যন্ত বোর্ডিং হইছে কি না, ফ্লাইট অন টাইম কি না, ফ্লাই করলো কি না, ল্যান্ড করলো কি না, আর তখন হোটেলে পৌঁছালো কি না! স্নেহার মনটা খামাখাই অদ্ভুত একটা ভালো লাগায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠলো। এর কারণ কী চিন্তা করতেই ও বের করলো- এমন একটা শহরে ও ওই মুহূর্তে আছে, যেই শহরের কোথাও না কোথাও আবিরও আছে। দেখা হোক বা না হোক অথবা যখনই দেখা হোক, দে আর নাউ ইন দ্য সেইম সিটি!

লেভেল ফাইভ ব্যান্ডের “তু…মি সামনে নেই, তাও তুমি ভাসো, মনের মাঝে লুকিয়ে একটুখানি হাসো…”  গুন গুন করতে করতে ও আবিরকে রিপ্লাই দিলো- ইয়েস, স্যার! আই’ম ইন হোটেল। আবির সঙ্গে সঙ্গেই লেখে- রেস্ট নাও। আই হ্যাভ অ্যান অফিশিয়াল ডিনার টুনাইট। কান্ট এভোয়েড। আই উইল ট্রাই টু কাম আর্লি মর্নিং টুমরো। স্নেহা “সকাল থেকে রাতের শেষে থাকো আমার পাশে…টাটটা টা টারারা…টারারা রারা রারা রারা রারা…” গুন গুন করতে করতেই উত্তর লিখলো- নো ওয়ারিজ। প্যারা নিয়েন না, স্যার। কিন্তু আবির অলমোস্ট একটু পর পরই প্যারাটা নিতে থাকে। কিছুক্ষণ পর পরই ও টেক্সট পাঠিয়ে জানতে চায়- স্নেহা কী করতেছে? কী খাইছে? কোনো প্রব্লেম হইতেছে কি না। হোটেল ঠিকঠাক আছে কি না। এরপর স্টোরিতে হুইক্সির গ্লাসের ছবি দেখে লিখে পাঠায়- বেশি খেও না। একটু রেখে দিও কালকের জন্য। স্নেহা ওই টেক্সট দেখে হেসে দেয়, টেক্সটেও লিখে পাঠায়- হা হা হা!

১৪ ফেব্রুয়ারি। যদিও ও ভালোবাসা দিবস মাথায় রেখে রাজশাহীতে যায় নাই। ইন ফ্যাক্ট, ওইবার আবিরের সঙ্গে যে ওর সত্যি সত্যিই দেখা হবে, সকালে হোটেলের নিচের পার্কিংয়ে ব্ল্যাক সিএইচআরের ড্রাইভিং সিটে আবিরকে বসা না দেখলে ও বিশ্বাসই করতো না। আহ! কতদিন পর দেখলো ও আবিরকে! ৬১ দিন!!! যদিও মুখ ফুটে এই কথা উচ্চারণ করে নাই। আবির এতে এ্যামবারাস ফিল করে যদি, তাই চুপ করেই থাকলো। লাল টকটকে একটা টপস পরা স্নেহা গাড়ির সামনে দাঁড়াতেই আবির ওর দিকে এমনভাবে তাকালো, ঠিক বহুদিন পর প্রিয় কাউকে দেখলে মানুষ যেমনভাবে তাকিয়ে থাকে!

গাড়ির দরজাটা খুলতেই আবির ওর স্বর্গীয় হাসিটা ঠোঁটে ঝুলিয়ে বললো- হোয়াট'স আপ? ছোট্ট এক বালিকার মতো লাজুক হেসে স্নেহা ওর মাথাটা একবার ডানে, আরেকবার বায়ে নাড়ালো। যেন ওর বয়স মাত্র এগারো, অথবা কেবলই বারোতে পা পড়লো! সকাল দশটা থেকে রাত সাড়ে দশটা- পুরো একটা সকাল; দুপুর, বিকাল, সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত লং ড্রাইভে টি-বাঁধ, বাঘা শাহী মসজিদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, বড়কুঠি, এরপর এয়ারপোর্ট রোড, কত কত জায়গাতে যে ওরা ঘুরে বেড়ালো! যদিও দিনেরবেলায় ওরা কোথাও গাড়ি থেকে নামে নাই। শুধু দুপুরে সাহেব বাজারে ক্যালিস্টো নামের একটা মাল্টি-কুইজিন রেস্টুরেন্টে খেতে নামছিল।

ওইদিন লাঞ্চে কোরাল বিবি কিউ উইদ থাই ফ্রায়েড রাইস খেতে খেতে শাহ মখদুম থেকে শুরু করে ওরা নিজাম উদ্দীন আউলিয়া পর্যন্ত পৌঁছে গেছিল গল্পে গল্পে। এত গল্প ওদের… শেষই যেন হয় না। লাঞ্চ করতে ঢুকার আগে কিছুক্ষণ ওরা রেস্টুরেন্টের পার্কিংয়ে গাড়ির ভেতর বসে হুইস্কি খেতে খেতে গল্প করতেছিল। রেস্টুরেন্টের এক স্টাফ ওই সময় ওদের গাড়ির কাছে এসে লাঞ্চ করতে যাবে কি না জানতে চাইলে আবিরের খুব মেজাজ খারাপ হয়। ওদের কথার মাঝখানে হুট করে ওইভাবে উনার বিরক্ত করায় ও কিছুটা এগ্রেসিভ হয়ে গাড়ির গ্লাস নামিয়ে বলে- হেই, আই'ম টকিং টু মাই লেডি! উইল ইউ প্লিজ এক্সকিউজ আস? ভদ্রলোক তখনই সর‍্যি স্যার বলে ভেতরে চলে যান। স্নেহা এরপর অনেকক্ষণ ওর দিকে তাকিয়ে থাকে এক পলকে। আবিরও একইভাবে তাকিয়ে থাকে ওর দিকে। এর একটু পর হঠাৎ দুইজন দুইজনের খুব কাছে গিয়ে অনেক অনেকদিন পর একে অপরের ঠোঁটের সঙ্গে ঠোঁট মেলালো- সেই একই উন্মাদনায়, সেই একই আকর্ষণে, ঠিক প্রথমদিনের মতোই। বহুদিন বাদে যেন স্নেহা নিজের ভেতর ওর হারানো প্রাণ খুঁজে পায় ওইদিনটায়।

সারাদিন ওরা গাড়িতে ঘুরতে ঘুরতেই প্রচুর কথা বলে। এত এত কথা ওদের! আবির বাজে ড্রাইভ করে বলে স্নেহা সারাদিন ক্ষেপাতে থাকে। আবির ওর কথায় কনফিউজড হয়ে খুব ধীর-স্থির, আরো সাবধানে গাড়ি চালানোর চেষ্টা করলেও স্নেহা ওকে বলতেই থাকে- তোমার চেয়ে ভালো ড্রাইভ তো আমি নিজেই করতে পারি! আবির কিছুতেই এই দাবি মেনে নিতে পারতেছিল না! দুইজনের মধ্যে এসব নিয়ে বেশ লেগ পুলিং চলে অনেকক্ষণ ধরে। একের পর এক ওরা নিজেদের পছন্দের নানা গান শুনতে থাকে ড্রাইভের সময়। আবিরের পছন্দেই বেশি শোনা হয়। গান চুজ করতে গিয়েও ওর একই অস্থিরতা। একবার একটা ছাড়ে, পর মুহূর্তেই বলে- এটা সুন্দর, কিন্তু এখন শুনবো না। এরপর আরেকটা ছাড়ে। স্নেহা ওর ওই অস্থিরতাও গভীর মনোযোগে তাকিয়ে দেখতেছিল।

সন্ধ্যায় পদ্মার পাড়ে গাড়ি পার্ক করার আগে আবির হুট করে বলে- আমার ড্রাইভিং সিটের পাশে এত দীর্ঘ সময় কোনো নারী এর আগে কখনোই বসে নাই। স্নেহা ওর কথায় বেশ মজা করেই বলে- এই যে একটা চাপা মেরে দিলা! আবির খুব দৃঢ়তার সঙ্গে নিজের কথার সত্যতা প্রমাণে উত্তর দেয়- কসম! আমি মিথ্যা বলতেছি না। স্নেহা হাসতে হাসতে আবার বলে, এজ ইফ তোমার বউ তোমার গাড়িতে উঠেন না? আবির উত্তর দেয়- বিশ্বাস করো, না! তার গাড়ি আছে না? সে তার গাড়িই ইউজ করে, আমার গাড়িতে উঠে না। আমার মেয়েই যা উঠে মাঝে মাঝে। আবিরের ওই কথা একটা পজ দিয়ে স্নেহা বিশ্বাসও করে। ওর মায়াও লাগে মনে মনে- আহারে! বেচারা এইভাবে কাউকে গাড়িতে নিয়ে ঘুরতেও পারে না!

সন্ধ্যা থেকে অনেক রাত পর্যন্ত পদ্মার পাড়েই সময় কাটালো ওরা। চুপচাপ ওইখানে দুইজন একে অপরের হাত ধরে থাকলো পুরাটা সময়। ওই নির্জনে পাশাপাশি হাত ধরে শুয়ে-বসে থেকে নীরবতাকেও ওরা ভীষণ উপভোগ্য করে তুললো। একদিন আবির হয়তো থাকবে না; কিন্তু পাশাপাশি কাটানো ওই সময়ের স্মৃতিটুকুই স্নেহাকে আনন্দ দেবে, কিংবা কে জানে- প্রচণ্ড যন্ত্রণাও দিতে পারে! আবিরকে পাশে রেখেই এই ভাবনা ওই নির্জনতা ভেদ করে কিছুটা সময়ের জন্য আরো গাঢ় ও গভীর এক নির্জনতার দিকে নিয়ে যায় ওকে।

পরদিনই স্নেহাকে ঢাকায় ফিরতে হবে। আবিরকেও কিছুক্ষণের মধ্যেই চলে যেতে হবে ক্যান্টনমেন্টে। ওর পজিশনের একজন অফিসার এভাবে হুট করে চাইলেই এত ঘণ্টা বা এত রাত পর্যন্ত ক্যান্টনমেন্টের বাইরে থাকতে পারে না। এরজন্য নানা জবাবদিহীতা ফেস করতে হয়। কিন্তু স্নেহার সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলাতে এইসব জাগতিক সমস্ত ভাবনা-চিন্তা থেকে ও পুরাপুরিই বিছিন্ন থাকতো বোধহয়। পৃথিবীর সমস্ত কোলাহল আর বিশৃঙ্খলা থেকে বহু দূরে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা পৃথিবীতে ওরা দুইজন বিচরণ করতেছিল ওইদিনের পুরাটা সময়। ওই পৃথিবীতে ওদের দুইজন ছাড়া আর কারোরই কোনো প্রবেশাধিকারের অনুমতি নাই যেন।

কিছুক্ষণের মধ্যেই ওদেরকে যার যার গন্তব্যে ফিরতে হবে। ঠিক ওই সময় নিশ্ছিদ্র নির্জনতা ভেঙে আবির হঠাৎ জেমসের একটা গান ছাড়তে বললো স্নেহাকে। অনেক খুঁজেও স্পটিফাইতে না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ইউটিউবে গানটা খুঁজে পেলো। গান খোঁজার সময় আবিরের হাতের মুঠোর ভেতর থেকে কিছুক্ষণের জন্য নিজের হাতটা সরাতে হইছিল ওকে। গান ছাড়ার পর হাতটা বাড়াতেই আগের চেয়ে আরো বেশি শক্ত করে আঁকড়ে ধরে আবির। ওই নির্জনে একে অপরের হাত ধরেই দুইজন শোনে-

আরো কিছুক্ষণ কি রবে বন্ধু
আরো কিছু কথা কি হবে
আরো কিছুক্ষণ কি রবে বন্ধু
আরো কিছু কথা কি হবে
বলবে কি শুধু ভালোবাসি তোমায়
বলবে কি শুধু তুমি যে আমার
মুছে ফেলে সব জড়তা
মুছে ফেলে সব জড়তাআআআ...

শেষ লাইনটা শুনতে শুনতে স্নেহা আরো শক্ত করে আবিরের হাতটা ধরতে চায়, আবির নিজেই আরেকটু শক্ত করে ওর বুকের বাম পাশে নিয়ে ওর হাতটা চেপে ধরে রাখে। ও আবিরের হার্টবিট টের পাইতেছিল- ধুক ধুক…ধুক ধুক…ধুক ধুক…ধুক ধুক…। হাতটা সরায় না কেউই, গান শেষ হওয়া পর্যন্ত ওইভাবেই বুকের উপর থাকে। রাত সাড়ে দশটায় স্নেহার হোটেলের নিচে গাড়ি থামিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে হাত ধরে বসে থাকে আবির। এরপর নিজেই বলে- কালকেও এক ফাঁকে দেখা করার চেষ্টা করবো, কান্ট প্রমিজ। যদি না আসতে পারি, মন খারাপ করো না।

ওইবার ওদের দেখা হওয়াটাই স্নেহার কাছে একটা মির‍্যাকল ঘটনা ছিল। এমন একটা স্বপ্নের মতো সকাল থেকে রাত কাটানোর সুযোগ ওর জীবনে আসবে বলে ও কল্পনাও করে নাই কখনো। এত সুন্দর দিন তো আসলে ওর জীবনে আসে নাই এর আগে। ওর জন্য ওইটাই অনেক বড় প্রাপ্তি ছিল। আবিরের কথায় তাই ও হেসে দিয়ে বলে, তুমিও প্যারা নিও না। পারলে আইসো। না পারলে আবার দেখা হবে অন্য কোনো সময়। বিদায়ের আগে দুইজনেরই কিছুটা মন খারাপ হয়। আবির কয়েকবারই বলে- যেতে ইচ্ছে করতেছে না। আরেকটু তোমার সঙ্গে থাকতে মন চাইতেছে, কিন্তু যেতে হবে।

স্নেহারও আরেকটু একসঙ্গে থাকতে ইচ্ছা করতেছিল। কিন্তু ওইটা প্রকাশ না করে ও বলে- রাত হয়ে গেছে, তোমার এখন যাওয়া উচিত। আবিরের হাতে একটা চুমু খেয়ে ও গাড়ি থেকে নামে। কালকে পারলে আরেকটু হুইস্কি ম্যানেজ করে রেখো- আবির গাড়ির গ্লাস নামিয়ে বললে ও হাসে। হাতটা নাড়িয়ে বিদায় জানানোর পর গাড়ি টান দেয় আবির। যতক্ষণ চোখের সীমানায় গাড়িটা দেখা যায়, ওইখানে ওই একইভাবেই স্নেহা দাঁড়িয়ে থাকে। রুমে ফিরে গিয়ে ও টেক্সট করে- হ্যাপি ভ্যালেইন্টাইন'স ডে, আমোন। আধা ঘণ্টা পর উত্তর আসে- উপস! হ্যাপি ভ্যালেন্টাইন'স ডে, মাদ্‌মোয়াজেল।

চেজিং দ্য ড্রাগন: ব্যাড ট্রিপ

Comments

    Please login to post comment. Login