Posts

উপন্যাস

চেজিং দ্য ড্রাগন: ইন দ্য সেইম সিটি

March 18, 2026

Shifat Binte Wahid

Original Author সিফাত বিনতে ওয়াহিদ

120
View

রাজশাহীতে যাওয়ার কথা জানিয়ে দেওয়া স্নেহার ওই টেক্সটের রিপ্লাই আসে ঘন্টা দুয়েক পর। আবির ওইখানে লেখে- আই উইল ট্রাই মাই বেস্ট। আই'ম আন্ডার সারভেইল্যান্স হেয়্যার। হোপ ইউ আন্ডারস্ট্যান্ড। স্নেহা ওই রিপ্লাইতে মোটেও রাগ বা অভিমান করে না। বরং আবির যে দেখা করার ট্রাই করবে বলছে, তাতেই ওর মন ভালো হয়ে যায়। কোনোকিছুতে আবিরকে প্রেশার ফিল করাতে বা ওর কাজ কিংবা ফ্যামিলিতে প্রব্লেম হয়, এমন কিছু কখনোই স্নেহা করতে চায় নাই। ও খুশি মনেই আবিরকে লিখে পাঠায়- নো ওয়ারিজ। প্যারা নিও না। না দেখা হলে কোনো একটা অচেনা লোককে ধরে গান শুনে চলে আসবো! লল! আবির রিপ্লায় দেয়- কাম অন! 

রাজশাহীতে আবিরের সঙ্গে দেখা হওয়ার প্রথম দিনটা সম্ভবত স্নেহার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর দিনের মধ্যে অন্যতম। অথবা ওইটাই ওর জীবনের সবচেয়ে সুন্দরতম দিন হয়ে থাকবে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত। এখনো স্নেহার ওই দিনটাকেই ওর জীবনের সবচেয়ে সুন্দর দিন ভাবতে ইচ্ছা করে। ওই দিনটাতে কোনো কদর্য অনুভূতি ছিল না, যা ছিল- পুরাটাই আনন্দ, পুরাটাই শান্তি, পুরাটাই এক স্বর্গানুভূতি।

১৩ ফেব্রুয়ারির বিকালের ফ্লাইটে নেমেই এয়ারপোর্টের পার্কিংয়ে হোটেল গ্র্যান্ড রিভার ভিউয়ের পাঠানো হাইস গাড়িতে বসে ছিমছাম শহরটাকে দেখায় মনোযোগী হয়ে ওঠে স্নেহা। গাড়িতে ওঠার একটু পর ড্রাইভার ভদ্রলোকটা জানতে চাইলেন- এইবারই কি পথম রাজশাহী আস্লেন, মেডাম? ভদ্রলোকের কথায় আঞ্চলিকতার টান আছে, তবে রাজশাহীর নাকি চাঁপাইনবাবগঞ্জের- এই ব্যাপারে স্নেহা নিশ্চিত হতে পারে না।

রাজশাহী শহরে চাঁপাইয়ের অনেক লোক থাকে বলে শুনছে ও। জানালা দিয়ে সূর্য ডুবে যাওয়ার মুহূর্তটা দেখতে দেখতে স্নেহা উত্তর দেয়- নাহ! সম্ভবত দ্বিতীয় অথবা তৃতীয়বার, মনে নেই। তবে প্রথম না। এর আগে আব্বার সঙ্গে দুইবার রাজশাহী আসছিল স্নেহা। তখন ক্লাস সেভেন কী এইটে পড়ে। ওই মুহূর্তে ওর ঠিক মনে পড়তেছিল না। তবে এর আগে বা পরে হওয়ার কথা না- মনে হয় ওর। রাজশাহীর এয়ারপোর্টটার নাম অদ্ভুত আছে- শাহ মখদুম বিমানবন্দর। কোনো পীর-আউলিয়ার নাম হবে হয়তো। স্নেহা উনার সম্পর্কে জানে না কেন? নিজের উপর ও একটু বিরক্তই হলো।

একটা জেলা শহরের এয়ারপোর্ট যার নামে নামকরণ করা হইছে, অবশ্যই সে গুরুত্বপূর্ণ কেউ। নিজের দেশের একটা জেলার গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তির সম্পর্কে ও জানে না, এটা ওই মুহূর্তে ও মানতেই পারতেছিল না। নিজেকে বার কয়েক ও মূর্খ ডেকে ভেবে রাখলো হোটেলে ঢুকেই প্রথম কাজ হবে মখদুম সাহেব সম্পর্কে জানা। কিন্তু মখদুম শব্দটার অর্থ ওর তখনই জানতে হবে। গুগল ঘাটতেই চটপট উত্তর চলে আসলো- ‘মখদুম’ অর্থ ধর্মীয় নেতা বা শিক্ষক। সঙ্গে এটাও জানা গেল, শাহ মখদুমের প্রকৃত নাম আসলে ওইটা না। উনাকে ওই অঞ্চলে মখদুম নামে ডাকা হইতো। তার আসল নাম আব্দুল কুদ্দুস জালালুদ্দীন।

স্নেহার কাছে জালালুদ্দীন নামটাই বেশি সুন্দর লাগলো। এই নামেও উনি পরিচিত হতে পারতেন। নাহ, ওইখানে আবার হযরত শাহজালাল (রহঃ) এর নামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ার সুযোগ থাকে। এক দেশে দুই জালাল আউলিয়া থাকলে মুরীদগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। এগুলা সবই স্নেহার অ্যাজাম্পশন। আন্দাজে ওর যা মনে আসে, ভাবতে ভাবতেই দেখে গাড়ি পৌঁছে গেছে কাজীহাটা নামের এক জায়গাতে।

হোটেলের বাইরের লুকটা খুব একটা খারাপ না, ভেতরে সব ঠিক থাকলেই হয়- একবার বাইরে থেকে আপাদমস্তক দেখে ভাবতে থাকে স্নেহা। এরমধ্যেই আবির টেক্সট করে- রিচড হোটেল? ওইটা ওর ৮ নম্বর টেক্সট- হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে শুরু করে শাহ মখদুম পর্যন্ত বোর্ডিং হইছে কি না, ফ্লাইট অন টাইম কি না, ফ্লাই করলো কি না, ল্যান্ড করলো কি না, আর তখন হোটেলে পৌঁছালো কি না!

স্নেহার মনটা খামাখাই অদ্ভুত একটা ভালো লাগায় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠলো। ও এর কারণ কী চিন্তা করতেই বের করলো- ও এমন একটা শহরে ওই মুহূর্তে আছে, যেই শহরের কোথাও না কোথাও আবিরও আছে। দেখা হোক বা না হোক অথবা যখনই দেখা হোক, শি ইজ নাউ ইন দ্য সেইম সিটি! লেভেল ফাইভ ব্যান্ডের “তু…মি সামনে নেই, তাও তুমি ভাসো, মনের মাঝে লুকিয়ে একটুখানি হাসো…” গুন গুন করতে করতে ও আবিরকে রিপ্লাই দিলো- ইয়েস, স্যার! আই'ম ইন হোটেল।

আবির সঙ্গে সঙ্গেই লেখে- রেস্ট নাও। আই হ্যাভ অ্যান অফিশিয়াল ডিনার টুনাইট। কান্ট এভোয়েড। আই উইল ট্রাই টু কাম আর্লি মর্নিং টুমরো। স্নেহা “সকাল থেকে রাতের শেষে থাকো আমার পাশে…টাটটা টা টারারা…টারারা রারা রারা রারা রারা…” গুন গুন করতে করতেই উত্তর লিখলো- নো ওয়ারিজ। প্যারা নিয়েন না, স্যার। কিন্তু আবির অলমোস্ট একটু পর পরই প্যারাটা নিতে থাকে। কিছুক্ষণ পর পরই ও টেক্সট পাঠিয়ে জানতে চায়- স্নেহা কী করতেছে? কী খাইছে? কোনো প্রব্লেম হইতেছে কি না। হোটেল ঠিকঠাক আছে কি না। এরপর স্টোরিতে হুইক্সির গ্লাসের ছবি দেখে লিখে পাঠায়- বেশি খেও না। একটু রেখে দিও কালকের জন্য। স্নেহা ওই টেক্সট দেখে হেসে দেয়, টেক্সটেও লিখে পাঠায়- হা হা হা!

১৪ ফেব্রুয়ারি। স্নেহা যদিও ভালোবাসা দিবস মাথায় রেখে ওইবার রাজশাহীতে যায় নাই। ইন ফ্যাক্ট ওইবার আবিরের সঙ্গে যে ওর সত্যি সত্যিই দেখা হবে, সকালে হোটেলের নিচের পার্কিংয়ে ব্ল্যাক সিএইচআরের ড্রাইভিং সিটে আবিরকে বসা না দেখলে এইটা ও বিশ্বাসই করতো না। আহ! কতদিন পর ও আবিরকে দেখলো! ৬১ দিন!!! যদিও মুখ ফুটে ও এটা আবিরকে বলে নাই। ওইটা বললেই আবির আবার এ্যামবারাস ফিল করে যদি, তাই স্নেহা চুপ করেই থাকলো। লাল টকটকে একটা টপস পরা স্নেহা গাড়ির সামনে দাঁড়াতেই আবির ওর দিকে এমনভাবে তাকালো, ঠিক বহুদিন পর কাউকে দেখলে মানুষ যেমনভাবে তাকিয়ে থাকে!

স্নেহা গাড়ির দরজাটা খুলতেই আবির ওর স্বর্গীয় হাসি ঠোঁটে ঝুলিয়ে বলে ওঠলো- হোয়াট'স আপ? স্নেহা ছোট্ট এক বালিকার মতো লাজুক হেসে মাথাটা একবার শুধু ডানে, আরেকবার বায়ে নাড়ালো। ওর যেন বয়স মাত্র এগারো, অথবা কেবলই ওর বারোতে পড়লো পা! সকাল দশটা থেকে রাত সাড়ে দশটা- পুরো একটা সকাল; দুপুর, বিকাল, সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত লং ড্রাইভে টি-বাঁধ, বাঘা শাহী মসজিদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, বড়কুঠি, এরপর এয়ারপোর্ট রোড, কত কত জায়গাতে যে ওরা ঘুরে বেড়ালো! যদিও দিনেরবেলায় ওরা গাড়ি থেকে কোথাও নামে নাই। শুধু দুপুরে সাহেব বাজারে ক্যালিস্টো নামের একটা মাল্টি-কুইজিন রেস্টুরেন্টে খেতে নামছিল।

ওইদিন লাঞ্চে কোরাল বিবি কিউ উইথ থাই ফ্রায়েড রাইস খেতে খেতে শাহ মখদুম থেকে শুরু করে ওরা দুইজন পৌঁছে গেছিল নিজাম উদ্দীন আউলিয়া পর্যন্ত। এত গল্প… শেষই যেন হচ্ছিল না ওদের। রেস্টুরেন্টে লাঞ্চ করতে ঢুকার আগে ওরা কিছুক্ষণ বাইরের পার্কিংয়েই গাড়িতে বসে হুইস্কি খেতে খেতে গল্প করতেছিল। ওই সময় রেস্টুরেন্টের একজন ওদের গাড়ির কাছে এসে ওরা লাঞ্চ করতে যাবে কি না জানতে চাইলে আবিরের মেজাজ খুবই খারাপ হয়। ওদের কথার মাঝখানে হুট করে ওইভাবে ওই লোকের ঢুকে পড়ায় ও কিছুটা এগ্রেসিভ ওয়েতেই গাড়ির গ্লাস নামিয়ে বলে বসে- হেই, আই'ম টকিং টু মাই লেডি! উইল ইউ প্লিজ এক্সকিউজ আস?

ভদ্রলোক ওইটা শুনে সর‍্যি বলে ভেতরে চলে যায়। কিন্তু স্নেহা এরপর অনেকক্ষণ আবিরের দিকে তাকিয়ে থাকে এক পলকে। আবিরও একইভাবে তাকিয়ে থাকে ওর দিকে। এর একটু পর হঠাৎ দুইজন দুইজনের খুব কাছে গিয়ে অনেক অনেকদিন পর একে অপরের ঠোঁটের সঙ্গে ঠোঁট মেলালো। সেই একই উন্মাদনায়, সেই একই আকর্ষণে, ঠিক প্রথমদিনের মতোই। বহুদিন বাদে ওইদিনটায় যেন স্নেহা নিজের ভেতর আবারও প্রাণ খুঁজে পেল।

সারাদিন ওরা গাড়িতে ঘুরতে ঘুরতেই প্রচুর কথা বলে। এত এত কথা ওদের! স্নেহা আবিরকে সারাদিন ও বাজে ড্রাইভ করে বলে ক্ষেপায়। আবির স্নেহার কথায় কনফিউজড হয়ে খুব ধীর স্থির আর আরো সাবধানের সঙ্গে গাড়ি চালানোর চেষ্টা করতে থাকে। কিন্তু তবুও স্নেহা ওকে বলে, তোমার চেয়ে তো ভালো ড্রাইভ আমিই করতে পারি! এই কথা আবির মেনেই নিতে পারে না! এসব নিয়ে দুইজনের বেশ লেগ পুলিং চলে অনেকক্ষণ ধরে। এরমধ্যে ওরা একের পর এক নানান গান শুনতে থাকে নিজেদের পছন্দমতো। আবিরের পছন্দেই শোনা হয় বেশি। গান শোনাতে গিয়েও ওর একই অস্থিরতা। একবার একটা ছাড়ে, পর মুহূর্তেই বলে- এটা সুন্দর, কিন্তু এখন শুনবো না। এরপর আরেকটা ছাড়ে। স্নেহা ওর ওই অস্থিরতাও গভীর মনোযোগে তাকিয়ে থেকে দেখে।

সন্ধ্যায় পদ্মার পাড়ে গাড়ি পার্ক করার আগে আবির হুট করে বলে- আমার গাড়ির ড্রাইভিং সিটের পাশে এত দীর্ঘ সময় কোনো নারী এর আগে বসে নাই কখনো। স্নেহা এই কথা শুনে মজা করে বলে- এই যে একটা চাপা মেরে দিলা! আবির খুব দৃঢ়তার সঙ্গে নিজের কথার সত্যতা বোঝাতে বলে- কসম! আমি মিথ্যা বলতেছি না। স্নেহা হাসতে হাসতেই বলে, এজ ইফ তোমার বউ তোমার গাড়িতে চড়ে না? আবির তখনও বলে- বিশ্বাস করো, না! তার গাড়ি আছে না? সে তার গাড়িই ইউজ করে, আমার গাড়িতে ওঠে না। আমার মেয়েই যা মাঝে মাঝে ওঠে। আবিরের ওই কথা একটা পজ দিয়ে স্নেহা বিশ্বাসও করে, ওর আবার মায়াও লাগে মনে মনে- আহারে! বেচারা এইভাবে কাউকে গাড়িতে নিয়ে ঘুরতেও পারে না!

সন্ধ্যা থেকে অনেক রাত পর্যন্ত পদ্মার পাড়েই সময় কাটালো ওরা। চুপচাপ ওইখানে দুইজন একে অপরের হাত ধরে থাকলো পুরাটা সময়। ওই নির্জনে পাশাপাশি হাত ধরে শুয়ে-বসে থেকে নীরবতাকেও ওরা ভীষণ উপভোগ্য করে তুললো। একদিন আবির হয়তো থাকবে না; কিন্তু ওইখানে পাশাপাশি কাটানো ওই সময়ের স্মৃতিটুকুই স্নেহাকে আনন্দ দেবে, কিংবা কে জানে- প্রচণ্ড যন্ত্রণাও দিতে পারে! আবিরকে পাশে রেখেই এই ভাবনা ওই নির্জনতা ভেদ করে কিছুটা সময়ের জন্য আরো গাঢ় ও গভীর এক নির্জনতার দিকে নিয়ে যায় স্নেহাকে।

রাত হয়ে যাচ্ছিল। পরদিনই স্নেহাকে ঢাকায় ফিরতে হবে। আবিরকেও কিছুক্ষণের মধ্যেই চলে যেতে হবে ক্যান্টনমেন্টে। ওর পজিশনের একজন অফিসার এভাবে হুট করে চাইলেই এত ঘণ্টা বা এত রাত পর্যন্ত ক্যান্টনমেন্টের বাইরে থাকতে পারে না। এরজন্য তাদের নানা জবাবদিহীতা ফেস করতে হয়। কিন্তু স্নেহার সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলাতে এইসব জাগতিক সমস্ত ভাবনা-চিন্তা থেকে আবির পুরাপুরিই বিছিন্ন ছিল। পৃথিবীর সমস্ত কোলাহল আর বিশৃঙ্খলা থেকে বহু দূরে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা পৃথিবীতে ওরা দুইজন বিচরণ করতেছিল ওইদিনের পুরাটা সময়। ওই পৃথিবীতে ওদের দুইজন ছাড়া আর কারোরই কোনো প্রবেশাধিকারের অনুমতি নাই যেন।

কিছুক্ষণের মধ্যেই ওদেরকে ওইখান থেকে ওঠে যার যার গন্তব্যে ফিরতে হবে। ঠিক ওই সময় নিশ্ছিদ্র নির্জনতা ভেঙে আবির হঠাৎ জেমসের একটা গান ছাড়তে বলে স্নেহাকে। অনেক খুঁজেও স্পটিফাইতে না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ইউটিউবে গিয়ে ও গানটা খুঁজে পেলো। মোবাইলে গান খুঁজতে গিয়ে আবিরের হাতের মুঠোর ভেতর থেকে কিছুক্ষণের জন্য নিজের হাত সরাতে হইছিল স্নেহাকে। গান ছেড়ে স্নেহা আবার ওর হাতটা আবিরের হাতের দিকে বাড়াতেই আগের চেয়ে আরো শক্ত করে আবির হাতটা আঁকড়ে ধরলো। দুইজন ওই নির্জনে একে অপরের হাত ধরেই শোনে-

আরো কিছুক্ষণ কি রবে বন্ধু
আরো কিছু কথা কি হবে
আরো কিছুক্ষণ কি রবে বন্ধু
আরো কিছু কথা কি হবে
বলবে কি শুধু ভালোবাসি তোমায়
বলবে কি শুধু তুমি যে আমার
মুছে ফেলে সব জড়তা
মুছে ফেলে সব জড়তাআআআ... 

শেষ লাইনটা শুনতে শুনতে স্নেহা আরো শক্ত করে আবিরের হাতটা ধরতে চাইলে আবির নিজেই আরেকটু শক্ত করে ওর বুকের বাম পাশে নিয়ে হাতটা চেপে ধরে রাখে। স্নেহা আবিরের হার্টবিট টের পাচ্ছিল- ধুক ধুক…ধুক ধুক…ধুক ধুক…ধুক ধুক…। হাতটা সরালো না আবির। গান শেষ হওয়া পর্যন্ত ওইভাবেই বুকের ওপর ধরে রাখলো।

রাত সাড়ে দশটায় স্নেহার হোটেলের পার্কিংয়ে গিয়ে গাড়ি থামিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে হাত ধরে বসে থাকে আবির। এরপর নিজেই বলে- কালকেও এক ফাঁকে দেখা করার চেষ্টা করবো, কান্ট প্রমিজ। যদি না আসতে পারি, মন খারাপ করো না। ওর সঙ্গে ওইবার রাজশাহীতে দেখা হওয়াটাই স্নেহার জন্য একটা মির‍্যাকল ঘটনা ছিল। এরমধ্যে এমন একটা স্বপ্নের মতো সকাল থেকে রাত যে কাটলো, এটাই ওর জন্য অনেক! এত সুন্দর দিন তো আসলে স্নেহার জীবনে কখনো আসে নাই এর আগে। ও আবিরের কথায় হেসে বলে, তুমিও প্যারা নিও না। পারলে আইসো। না পারলে আবার দেখা হবে অন্য কোনো সময়। আবির চলে যাওয়ার আগে দুজনেরই কিছুটা মন খারাপ হয়। আবির কয়েকবারই বলে- যেতে ইচ্ছে করতেছে না। আরেকটু তোমার সঙ্গে থাকতে ইচ্ছা করতেছে, কিন্তু যেতে হবে।

স্নেহারও ইচ্ছা করতেছিল আরেকটু আবিরের পাশে থাকতে। কিন্তু ওইটা না বলে ও বরং বলে- রাত হয়ে গেছে, তোমার এখন যাওয়া উচিত। আবিরের হাতে একটা চুমু খেয়ে ও গাড়ি থেকে নামতে নিলে আবির বলে- কালকে পারলে আরেকটু হুইস্কি ম্যানেজ করে রেখো। স্নেহা হেসে গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়ায়। আবির হাত নাড়িয়ে বিদায় দিয়ে গাড়ি টান দেয়। যতক্ষণ গাড়িটা চোখের সীমানায় দেখা যায়, স্নেহা ওইখানে ওইভাবেই দাঁড়িয়ে থাকলো। রুমে ফিরে গিয়ে ও আবিরকে টেক্সট করে- হ্যাপি ভ্যালেইন্টাইন'স ডে, আমোন। আধা ঘণ্টা পর আবিরের উত্তর আসে- উপস! হ্যাপি ভ্যালেন্টাইন'স ডে, মাদ্‌-মোয়াজেল।

চেজিং দ্য ড্রাগন: ব্যাড ট্রিপ

Comments

    Please login to post comment. Login