••[আসসালামু আলাইকুম, প্রিয় পাঠক গন।
এটি আমাদের লেখা প্রথম উপন্যাস। যদি কোনো ভুল ত্রুটি হয়ে থাকে তাহলে মার্যনা চোখে দেখবেন]••
**[ আপনাদের মনে হতে পারে কোনো উপন্যাসের নায়ক বা নাইকার নাম অথবা চরিত্র কপি করেছি তাহলে,এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা আপনাদের। এখানে প্রত্যেকটি চরিত্র কাল্পনিক]**
{ সতর্ক বার্তা }...
••[যারা ডার্ক রোমান্টিক উপন্যাস বা ডার্ক রোমেন্স পছন্দ করেন না তারা এটা এড়িয়ে যেতে পারেন]••
••সূচনা••......
তারিখ:-৩০.০১.২০২৬
এই দিনে চট্টগ্রামে সবচেয়ে বড় শপিংমল "কোহিনূর"এর গ্রেন্ড ওপেনিং।
উক্ত তারিখে বাংলাদেশের প্রায় বিভিন্ন জেলার ও বিভিন্ন বিভাগের জনপ্রিয় লোক এবং বিজনেজমেন আসবেন " কোহিনূর "এর গ্রেন্ড ওপেনিং এ।
চট্টগ্রামে "BEXIMCO Group" এর ১১ তালা ভবনে ১০ নম্বর ফ্লোরে কাচ বিশিষ্ট দেওয়াল এর সামনে দাড়িয়ে আছে একটি মেয়ে।
মেয়েটার পরণে কালো কালারের কোট,পায়ে কালো কালারের ব্রেন্ডের সু।
মেয়েটির চুল একটি রাবার বেন্ড দ্বারা ঝুঁটি করা চুলগুলো হাটু থেকে হালকা একটু উপরে।
গায়ের রং ধবধবে সাদা। মুখে একটি গম্ভীরর্যতা বজায় রেখে মোবাইল এ কারের সাথে কথা বলছে।চোখে দৃঢ়তা বজায় রেখেছে।দেখে মুখের অভিব্যাক্তি বুঝার কোনো উপায় নেই।
মেয়েটির চোখের মণি হালকা সবুজ(Olive green).।চুলগুলো একেবারে স্ট্রেট।চোখে পাপড়ি গুলো বড় বড়। চোখ গুলো টানা টানা।সাধারনত এই ধরনের চোখের মণির রং বাংলাদেশে দেখা যায় না।তবে কি মেয়েটি বিদেশি?
মেয়েটির একটি হাত প্যান্টের পকেটে।সামনে থাকা গ্লাস দ্বারা আশেপাশের ব্যাস্ত শহর দেখা যাচ্ছে।
মেয়েটি মোবাইলে হেসে কথা বলছে-
—"কিরে আজকে আসছ নাই কেন?"
—"হ্যালো ইরসা কি বলছিস শুনতে পারছি না! একটু জোরে বল"
ইরসা পুনরায় বললো-
—কিরে আজকে আসছ নাই কেন?
—আরেহ রাতে একটু জ্বর আসছিলো দেখে জুঁই আসতে দেই নি।
—তা......জুঁই কেন আসে নাই?
—জুঁই নাকি আমার সেবাযত্ন করবে তাই আস নাই।
—আজকে "কোহিনূর " এ গ্রেন্ড ওপেনিং। যেতে বলেছে আমাদের তিনজনকে।না যাইলে খারাপ দেখায়।তার চাইতেও বড় কথা চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় শপিংমল বলে কথা যেতে তো হবেই।আর শুনেছি আজকে আরশ খানও আসবে।
—আরে যাব না কেন? অবশ্যই যাব, যতই জ্বর থাকোক না কেন।
—ওই টা তো আমি জানি। কাজের সময় তো ভালোই ফাকি দিতে পারছ।যাই হোক জুঁই কোথায়?
ইরসা কে বলতে নিবে যে জুঁই কোথায়। এমন সময় ওয়াসরোম থেকে সবে মাত্র গোসল করে বের হলো জুঁই। পরনে তার পেন্ট আর শার্ট ইন করা। দেখে মনে হচ্ছে বাহিরে কোথাও যাবে। জুঁই সমনে থাকা মেয়েটিকে উদ্দেশ্য করে বললো-
— কে কল করেছে নাবিলা?
নাবিলা জুঁই য়ের কথা শুনে বললো-
— ইরসা কল করেছে। জিজ্ঞাসা করতেছে যে আজকে "কহিনুর" এর গ্রেন্ড ওপেনিং। তাই সেখানে যাব কিনা। আর তুই কোথায় যাচ্ছিস?
— হুম, কেন যাব না ইরসাকে বলে দে যে যাবো রেডি থাকতে।আর আমি একটু বাহিরে যাচ্ছি।
— আচ্ছা।
নাবিলা জুঁই য়ের সাথে কথা বলা শেষ করে আবারো ইরসার সাথে কলে কথা বলছে। ব্যবসার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে।
জুঁই আর কিছু না বলে চলে গেল তার গন্তব্যে।
অন্যদিকে.....
[ দিনটি ২৮. ০১. ২০২৬]
লন্ডনের আবহাওয়া সাধারণত নাতিশীতোষ্ণ প্রকৃতির। এখানে গ্রীষ্মকাল খুব বেশি গরম হয় না এবং শীতকালও অতিরিক্ত ঠান্ডা নয়। সারা বছরই মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হয়, তাই আবহাওয়া প্রায়ই মেঘলা থাকে। শীতকালে কুয়াশা ও হালকা তুষারপাত দেখা যায়। লন্ডনের আবহাওয়া পরিবর্তনশীল হওয়ায় একদিনেই কয়েকবার আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে থাকে।
এখন, London এর ক্যানারি ওয়ার্ফ (Canary Wharf) শহরে হালকা ঝিরঝির বৃষ্টি পরছে। বৃষ্টি তার নিজেস্ব ধনি বজিয়ে রেখে বয়ে যাচ্ছে ক্যানাকি ওয়ার্ফ শহর বেয়ে।
বাহিরের আবহাওয়া শীতল। বৃষ্টির মিষ্টি ধনি শুনা যাচ্ছে। সাথে ক্যানারি ওয়ার্ফ শহরের একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি থেকে ভেসে আসছে মৃদু গিটারের শব্দ। সাথে শোনা যাচ্ছে একটি গানের লিরিক্স-
— " মিলন হবে কত দিনে"?
"ও মিলন হবে কত দিনে"?
"আমার মনের মানুষেরও সনে"…
"আমার মনের মানুষেরও সনে"…
এমন সময় ঘরটিতে প্রবেশ করে একটি লোক। সে লোকটিকে জিজ্ঞাসা করে-
— কিরে রিভান আজকে বাংলাদেশে যাওয়ার টিকেট কেটে ফেলছি আর কালকে "কহিনুর"এর গ্রেন্ড ওপেনিং।
—হুম, কে রিদ!আচ্ছা হ্যাঁ জানি কালকে "কহিনোরের " গ্রেন্ড ওপেনিং।ফ্লাইটের টিকিট কাটছোছ?
— হ্যাঁ কাটা হয়েছে। আচ্ছা তাহলে আমি যাই রাত ৩:০০ টায় কিন্তু ফ্লাইট, সব গুছাই রাখিছ।
— ঠিক আছে, আর আবির কোথায়?
— ও কিছু দরকারি জিনিস কিনতে মলে গিয়েছে।
— ও আচ্ছা। ঠিক আছে।
রাত ৩:০০, London এর এয়ারপর্টে দাড়িয়ে আছে রিভান, রিদ আর আবির।এমন সময় এনাওন্সনেন্ট করা হলো-
—"Please, all passengers who are going from London to Bangladesh, go to the designated place and go to the nearest plane for themselves"...
প্রায়, ৯-১০ ঘন্টা জার্ণি করার পর তারা
" আন্তর্জাতিক জাহাজাহান বিমান বন্দরে" এসে পৌছায়। আর কিছুক্ষণ পরে তাদের ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে আসার ফ্লাইট করেছে।
তাই তারা তাদের জন্য বারাদ্ধকৃত স্থানে গিয়ে অপেক্ষা করতে থাকলো।
১ ঘন্টার মধ্যে তারা চট্টগ্রামে এসে পৌছালো। তাদের জন্য বরাদ্ধকৃত BMW কার দাড়া করিয়ে রেখেছিল একজন ব্যাক্তি। যার নাম - সজয়।
এবং সাথে কিছু কালো পোশাক দারি লোক দাড়িয়ে আছে।এয়ারপোর্টে সকলের চোখ এখন তাদের তিন জনের দিকে।
রিভিনের ব্যক্তিত্বে আছে স্বাভাবিক নেতৃত্বের ছাপ। তার হাঁটার ভঙ্গি আত্মবিশ্বাসী, চোখে এক ধরনের স্থির দৃঢ়তা। সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সে দ্রুত ও বাস্তববাদী। এয়ারপোর্টের ভিড়েও তাকে আলাদা করে চেনা যায় তার গম্ভীর অথচ স্মার্ট উপস্থিতির জন্য।পরনে গাঢ় নেভি ব্লু রঙের ফিটেড বিজনেস স্যুট, ভেতরে সাদা শার্ট। গলায় সিলভার গ্রে টাই, হাতে দামি ঘড়ি। পায়ে চকচকে কালো লেদার শু—সব মিলিয়ে একদম পরিপাটি কর্পোরেট লুক।যে কেই দেখলে পাগল হয়ে যাবে।
রিদ স্বভাবগতভাবে শান্ত ও বুদ্ধিদীপ্ত। সে কম কথা বলে, কিন্তু চোখে-মুখে গভীর চিন্তার ছাপ। হাঁটতে হাঁটতে সে চারপাশ পর্যবেক্ষণ করে, যেন প্রতিটি পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করছে।পরনে হালকা ধূসর রঙের ব্লেজার, ভেতরে হালকা নীল শার্ট। টাই নেই—ক্যাজুয়াল অথচ এলিগ্যান্ট। পায়ে ব্রাউন লেদার লোফার, কাঁধে একটি স্লিম ল্যাপটপ ব্যাগ, যা তার প্রফেশনাল স্মার্টনেস বাড়িয়ে তুলেছে।
আবির সবচেয়ে প্রাণবন্ত ও স্টাইল-সচেতন। তার মুখে হালকা হাসি, কথাবার্তায় আত্মবিশ্বাস ও আধুনিক চিন্তাধারা। সে জানে কিভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে হয়।আবিরের পরনে ব্ল্যাক রঙের আধুনিক কাটের স্যুট, ভেতরে কালো শার্ট—টাই ছাড়া। পায়ে ব্ল্যাক ফর্মাল শু, চোখে স্টাইলিশ সানগ্লাস। তার লুকটা একদম ট্রেন্ডি ও পাওয়ারফুল।
তারা তিনজন মিলে গাড়িতে উঠে বসলো প্রায় ঘন্টা খানিকের মধ্যে তারা চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় হোটেল "রেডিসন ব্লু "তে এসে পৌছালো।
তাদের জন্য "রেডিসন ব্লু" এর সবচেয়ে লাগযারিয়াস রোমটি বোক করা হয়।
প্রেসিডেনশিয়াল স্যুট (Presidential Suite)
এটি রেডিসন ব্লু-এর সর্বোচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন রুম। দরজা খুললেই চোখে পড়ে বিশাল লিভিং এরিয়া, যেখানে রাজকীয় নীরবতা আর আধুনিক সৌন্দর্য একসাথে মিশে আছে। মেঝেতে নরম কার্পেট, দেয়ালে শৈল্পিক ডিজাইন, আর বড় কাঁচের জানালা দিয়ে শহরের আলো ঝলমল দৃশ্য।
••আলাদা লিভিং রুম, ডাইনিং স্পেস ও মাস্টার বেডরুম।
••কিং সাইজ বেড, প্রিমিয়াম ম্যাট্রেস।
••মার্বেল ফ্লোরের বাথরুম, জাকুজি ও রেইন শাওয়ার।
••ব্যক্তিগত মিটিং বা বিজনেস আলোচনার জন্য নিখুঁত পরিবেশ।
তারা তাদের জন্য বারাদ্ধকৃত রুমে এসে ডুকলো। এবং এমন সময় আবির বললো-
—"অবশেষে ভাই আসছি। আমি আর পারবো না ভাই। এখন যাস্ট একটা শাওয়ার নিব আর সুন্দর করে এসে একটা ঘুম দিব।
আর আমরা তো সন্ধায় যাব তাই না?
আবিরের কথা শুনে রিদ হেসে বললো-
— ভাই অনেকদিন পর আসলাম বাংলাদেশে। কেমন যানি ফিলিংস হচ্ছে। বুকটা ভাই চিনচিন করতেছে। মনে হচ্ছে কিছু একটা হবে আজকে
রিভান:- আচ্ছা এখন রেস্ট নিয়ে সন্ধ্যায় বের হবো।