Hero or Villain (পর্ব -২)
—"চোখে দেখেন না নাকি"?
ইরসার সামনে দাড়িয়ে থাকা ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে বললো কথাটি।
আর তার সামনের ব্যক্তি টি ইরসাকে উদ্দেশ্য করে বললো-
—" আপনি নিজে চোখে দেখেন না, আবার
আমাকে বলে.........
লোকটি এর থেকে বেশি কিছু বলতে পারলো না।তার আগেই সে ইরসার চোখের দিকে তাকিয়ে স্তব্ধ হয়ে গেল।
ইরসা সামনে তাকাই থাকা লোকটিকে বললো-
—"এভাবে তাকাইছেন কেন"?
তার একটুর জন্য মনে হলো পুরো পৃথিবীটা ঘুরছে।সে একদৃষ্টিতে ইরসার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকলো।তার দৃষ্টি যেন সরছেই না ইরসার চোখ থেকে।পলকও ফেলছে না।পাশে থাকা লোকটা তাকে অনবরত ডেকে যাচ্ছে তাকে কিন্তু তার কোনো হুশ নেই।
_কিরে রিভান তোর উপরে কি ঠাটা পড়ছে!-এমনে তাকাই আছোছ কেন?ওই রিভা........
রিদ ও কিছুক্ষনের জন্য তব্দা খেয়ে গেলো জুঁইকে দেখে।কি হলো সে এখনো বিশ্বাস করতে পারছে না নিজের চোখকে।রিভান আর রিদ দুই জনই তাকিয়ে আছে এক দৃষ্টিতে। রিদ হঠাৎ জুঁইয়ের দিকে তাকিয়ে রিভানকে কনোই দিয়ে খোঁচা দিয়ে বললো-
_এই.....দারা আবিরকে ফোন দেই.......
তৎক্ষনাৎ আবির উপস্থিত হলো আর বললো-
_কিরে তোরা এখানে এমনে দাড়াই আছোছ কেন?ভেবলার মতো মাইয়া মানুষের দিকে তাকাই আছোচ কেন বউ ফালাইয়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়....
আবির ও স্তব্ধ। তিনজনই ঘোর লাগা ভঙ্গিতে তাকিয়ে আছে সামনের তিনটি কালো কালার জর্জেট শাড়ি পড়া মেয়ের দিকে।তবে একেক জনের দৃষ্টি একেক জনের উপরে। রিভান তাকিয়ে ইরসার দিকে।রিদ তাকিয়ে আছে জুঁইয়ের দিকে আর আবির তাকিয়ে আছে নাবিলার দিকে।
এদের এরকম কান্ড দেখে নাবিলা জুঁইকে কনুই দিয়ে হালকা খোঁচা দিয়ে বললো-
নাবিলা:-কিরে ভাই এদের কি হ্যাং হওয়ার রোগ টোগ আছে নাকি আবার।এমনে চাইয়া আছে ক্যা?
জুঁই:-মনেহয় আছে।
নাবিলা আর জুঁই এর কথোপকথন শুনে তাদের তিনজনের টনক নড়লো।নাবিলা বললো:-
নাবিলা:-কি বা**ল। এই চল তো যাই।নয়তো ২মিনিট পড়ে আসি দেখবো আরোও কতগুলো আসি তাকাই এমনে হ্যাং হই থাকবে হাহ।সুন্দরী মেয়ে দেখলে লোভ সামলাইতে পারে না। অসভ্য লোক কোথাকার সামনে থেকে সরেন।
জুঁই :-হে হে সামনে থেকে সরেন তো নয়তো লাথি মারি চান্দের দেশে পাঠাই দিবো।
ইরসা:-আরেহ তোরা এতো প্যাচাল করতেছছ কেন!এতো কথা না বলে হাটবি নাকি......সারাদিন শুধু বকবক করছ।
জুঁই, নাবিলা আর ইরসার কথোপকথন শুনে আবির আর রিদ কিছু বলতে যাবে এমন সময় রিভান ইশারা দিয়ে নিষেধ করে কিছু না বলতে।আবির আর রিদ ও কথা বাড়ায় না।তারা অন্য দিকে চলে যায়।
•••••••••••••••
ইরসা, জুঁই আর নাবিলা "কহিনুর" এর স্পেশাল মিটিং রুমে বসে আছে। এবং তাদের সাথে বসে আছে কহিনুরের মালিক এবং তার পার্সোনাল সেক্রেটারির সাথে।
ইরসা, জুঁই আর নাবিলা পাশাপাশি বসে আছে পায়ের উপর পা তুলে। এবং তাদের সাথে বিজনেস এর বিষয়ে নানা ধরনের কথা বলছে।
ঠিক এমন সময় রুমে প্রবেশ করলো তিনজন ব্যক্তি। তিন জনেই সাদা কালারের শার্ট এবং কালো কালারের কোট পরা। হাতে রয়েছে ব্রেন্ডের ঘড়ি যার দাম বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪৯ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা। এর চেয়ে বেশি ও হতে পারে।
তাদের তিনজনকে দেখে সবাই দাড়িয়ে গেল শুধু মাএ ইরসা, জুঁই আর নাবিলা ছাড়া তারা আগের মতো করেই বসে আছে। বাকি সবাইকে দাড়াতে দেখে জুঁই বললো-
—"আরে এদের জন্য আবার দাড়াইতে হয়?
আপনারা কাদের জন্য দাড়াইছেন এই লুইচ্চা গুলোর জন্য? যারা কিনা সুন্দর মেয়ে দেখলেই হ্যাং হয়ে যায়,, হাহ"....
জুঁই য়ের কথা শুনে কহিনুরের মালিক বললো-
— "আরে কী বলছেন কী? ওরা কারা জানেন? London এর সবচেয়ে বড় বিজনেস মেন তারা। দেশ- বিদেশে তাদের সাথে মানুষ কোলাবরেশন করার জন্য পাগল হয়ে থাকে। তারা আর কেউ না, The Top's business men group of............
"HSBC Holdings" owner of the great,
Atlas Rivan, Rid khan and Abir khan....
লোকটির কথা শুনে নাবিলা আর নিজের হাসি আটকায় রাখতে পারে নাই। বেচারা থুক্কু বেচারি শেষ পর্যন্ত হেসেই দিল। আর অন্য দিকে জুঁই নিচের ঠোঁট কামরে ধরে নিজের হাসি আটকানোর চেষ্টা করছে।
নাবিলা:- হাহাহাহা, ও আল্লাহ গো,, হাহা
টপ বিজনেস মেনদের চরিত্রের এতো বাজে অবস্তা,,, হাহা
আর সম্ভব হয়ে উঠে নাই জুঁই য়ের হাসি থামানো। বেচারে শেষ পর্যন্ত না পারতে হেসেই দিল আর বললো-
—" হাহাহাহা,,, ওদের জন্য কে দাড়াবে হ্যাঁ,, যারা পাগল সেই দাড়াবে তাদের জন্য। লিসেন, আমরা জাস্ট আপনাদের জন্য জাস্ট আপনাদের জন্য টপে যাইতে পারি নাই। আপনারা না থাকলে আমাদেরকে টপে যাওয়া থেকে কেউ আটকাইতে পারতো না। বাট,বাট আমি কিন্তু আপনাদের কে অপমান করছি না কিন্তু বলতে বাদ্ধ হচ্ছি যে......
" আপনাদের চরিত্র ঠিক করা উচিত "...
জুঁই য়ের কথা শুনে তাদের তিন জনেরই মাথা গরম হয়ে গেল।ওরা কিছু একটা বলতে নিবে তার আগেই ইরসা বললো-
ইরসা:- আহ` জুঁই আর কিছু বলিছ না বইন। বাদ দে যাই হোক আপনারা এসেছেন ভালোই হয়েছে। আমার কথাটা বলতে বেশি সুবিধা হবে। আর হ্যাঁ ওদের কথায় কিছু মনে করবেন না। আপনারা যেই গ্রুপের সাথে কোলাবরেশন করতে এসেছেন অর্থাৎ,
''BEXIMCO Group"আমরা সেই গ্রুপের মেইন ওনার । ইরসা, জুঁই এবং নাবিলা। এই বিজনেসটি আমরা তিনজনই সামলাই। আসা করি আপনারা বুঝতে পারছেন।
ইরসার কথা শুনে রিভান তার এক ভ্রু কুচকে বললো-
—"এতক্ষণ অপমান করে এখন এতো ভালো করে কথা বলতেছেন জিনিস টা ঠিক,জুতা মেরে গরু দানের মতো হলো না?"
রিভানের কথা শুনে ইরসাও তার একটি ভ্রু কুচকে বললো-
—"জুতা কই মারলাম আপনার মুখে নাকি অন্য জায়গায় কোনটা? " আর হ্যাঁ মনে করবেন না কোলাবেরশন করার জন্য আপনার সাথে কথা বলতেছি। যদি ওইটা ভেবে থাকেন তাহলে ভুল ভাবতেছেন।
ইরসার কথা শুনে রিভান বললো-
—" আপনি চাইলেই অন্য জায়গায় জুতা না মেরে হাত দিতে পারেন। আমি কিছু মনে করবো না। আর হ্যাঁ এতো সিরিয়াসলি সবকিছু নিলে হয় বলেন। আপনি মনে হয় কথায় কথায় রেগে যান। সমস্যা নাই আমার কাছে আসিয়েন আমি ঠান্ডা করে দিব"।
রিভান এর কথা শুনে জুঁই আর নাবিলা একে অপরের দিকে তাকিয়ে একটু ছোট করে হেসে দিল। আর অন্য দিকে ইরসা কিছু বুঝতে না পেরে হেবলার মতো তাকিয়ে আছে।নিরবতা ভেঙ্গে রিদ বললো-
—"আরে কী তখন থেকে দাড়িয়ে কথা বলছি চল যাই বসি"
রিদের কথা অনুযায়ী তারা তিন জন ইরসা, জুঁই এবং নাবিলার সামনাসামনি হয়ে বসলো।
বসতে বসতে আবির নাবিলার দিকে তাকিয়ে বললো-
" আপনার মাইন্ড এবং মিস, জুঁই মানে আমার শালিকা থুক্কু আমার ভাবির মাইন্ড কিন্তু আস্তাগফিরুল্লাহ "...
আবিরের কথা শুনে জুঁই বললো:-
—" প্রথমত না আমি আপনার শালিকা আর না ভাবি, সো এই সব নাম ইউজ করা বন্ধ করুন"
জুঁই য়ের কথা শুনে রিদ বললো:-
— "আর দ্বিতীয়ত কী "জান"...
রিদের কথা শুনে জুঁই বললো-
—"ফা**ক... What the meaning of jan...?
রিদ:-কেন বুঝ না জান মানে কী। বুঝাই দিতে হবে।
নাবিলা :- আস্তাগফিরুল্লাহ, বলে কি এই বেডা।
আবির:- কেন বুঝ না? বুঝাই দিতে হবে। চলো একটা রুমে যাই বুঝাই দিব।
নাবিলা:- অসভ্য....!
আবির :- ডন্ট মাইন্ড বাট-আমার তোমার মাইন্ড পছন্দ হইছে।
হঠাৎ করে রিদ জুঁই কে উদ্দেশ্য করে বললো -
— " জুঁই, আমার না একটা গান মনে পরতেছে আপনাকে দেখে। "
জুঁই:- মানে, গান... কী গান?
রিদ:- "প্রেম করি করে মরি"
"কি যে করি মাথা ধরি"
"দিলের বাজে বারটা"
"কি যে অবস্তা"
"পায় না রাস্তা"
" হয়ে গেছে ফাটা ফুচকা "
"হাজার হাজার কনফিউশন"
"পায় না ডিসিশান"…
" বলবে কথা নাকি গিলবে কথা"?
" চায় যে পারমিশন"…
" তার কাছে চাই যে প্রশ্ন নিয়ে "
" নেই কোনো Answer"...
রিদের গান শুনে আবির বললো -
—"আরে ভাই আমারও একটা গান মনে পরছে বলবো মিস, নাবিলা? "
নাবিলা:- হুম, শুনি আপনার আবার কী গান মনে পরছে।
আবির:- " বুক চিনচিন করছে হায়"
"মন তোমায় কাছে চায়"
" আমরা দুজন দুজনারি প্রেমের দুনিয়ায়" "তুমি ছুয়ে দিলে হায় আমার কিযে হয়ে যায়"
নাবিলা:- " আমি ছুঁয়ে দিলে সামলাইতে পারবেন তো। আমি কিন্তু যেন তেন জায়গায় ছোঁব না একে বারে মেইন জায়গায় ধরবো"।
আবির:- আচ্ছা, তাই নাকি চলে আসিও।
জুঁই:- "আস্তাগফিরুল্লাহ, নাউজুবিল্লাহ.. তোওবা তোওবা,,, তোরা কি এখানেই সব করে ফেলবি নাকি"।
ইরসা :- আরে ভাই থাম তোরা আচ্ছা চল বাসায় যাই। তোদের কথা শুনলে সবাই হার্টে এটাক করবে।