Posts

উপন্যাস

চেজিং দ্য ড্রাগন: ব্যাড ট্রিপ

March 19, 2026

Shifat Binte Wahid

Original Author সিফাত বিনতে ওয়াহিদ

298
View

[ডিসক্লেইমার: এই গল্পে চিত্রিত প্রভাবশালী চরিত্র ও ক্ষমতার অলিগলি সম্পূর্ণ কাল্পনিক। মানুষের মনের গহীনের অন্ধকার ও জটিল প্রবৃত্তিগুলো বাস্তব হলেও, এখানকার চরিত্র, তাদের কর্মকাণ্ড এবং প্রেক্ষাপটের সঙ্গে বাস্তবের কোনো ব্যক্তি বা স্থানের মিল নেই।]

রাজশাহীতে কাটানো প্রথম দিনের মতো সুন্দর ছিল না শেষদিনটা। সম্ভবত ওইদিন থেকেই আবির-স্নেহার বিদায়ের মুহূর্তগুলা অসুন্দর হওয়া শুরু হয়। ১৫ তারিখ সকালে আবির আসতে পারে না। পারবে কি না, তা নিয়েও কিছুটা সংশয়ে ছিল। হুট করেই ওর অফিসের কনফারেন্স কল করলে সকাল থেকে ও কাজে আটকে পড়ে। স্নেহা এতে বিন্দুমাত্রও মন খারাপ করে না। ওর মনে হয়, দেখা হলে ভালো লাগতো, না হলে একটু খারাপ লাগবে- এতটুকুই।

সকাল থেকে একটু পর পরই আবির আসা না আসার দোলাচলে একটার পর একটা টেক্সট পাঠাতে থাকে। কিন্তু দুপুর দুইটায় ঠিক হোটেলের নিচে এসে স্নেহাকে কল করে নিচে নামতে বলে। এর কিছুক্ষণ আগেই ব্রিথিং প্রব্লেম শুরু হয় স্নেহার। বাইরে না গিয়ে, দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত হোটেলের রুমেই ওরা গল্প করে সময় কাটায়। স্নেহার ফ্লাইট রাত আটটায়। ছয়টায় ও হোটেল থেকে চেক আউট করে বের হয়ে যাবে। এর আগে আবিরের পীড়াপীড়ির কারণে পাশেই এক বারে যেতে হয়। ও অল্প পরিমাণ ব্যালেন্টাইন আবিরের জন্য রেখে দিছিল; ওইটা শেষ করার পরও আবিরের বারে গিয়ে একটু খাওয়া লাগবেই লাগবে। নাছোড়বান্দার মতো ও প্লিজ চলো না…চলো না শুরু করছিল। ঘণ্টা খানিক পরই ওর আরেকটা কনফারেন্স জয়েন করতে হবে। ড্রিংক করে গাড়ি ড্রাইভ করে যাবে বলে স্নেহা বারে যেতে রাজি হইতেছিল না প্রথমে। জাস্ট একটা পেগ খেয়েই বের হয়ে যাবে প্রমিজ করায় শেষ পর্যন্ত যায়, কিংবা বলা যায় আবির এক প্রকার জোর করেই নিয়ে যায়। 

ওইখানে বসে দুইজন কিছুক্ষণ গল্প-টল্প করে। সময় স্বল্পতা ছিল দুইজনেরই। আবিরকে সাতটার মধ্যে অফিসে গিয়ে কনফারেন্স অ্যাটেন্ড করতে হবে, স্নেহাকেও এয়ারপোর্টের জন্য বের হতে হবে সাতটার মধ্যে। অফিশিয়াল কমিটমেন্ট থাকায় আবিরকে আগেই ওইখান থেকে বের হতে বলে স্নেহা। কিছুক্ষণ চুপচাপ মন খারাপ করে বসে থাকার পর, যাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে আবির ডাকে- স্নে…হা…। কিছুটা অন্যমনস্ক ছিল ও। ওর মন তখন খারাপ হওয়ার পথে। প্রায় দুই মাস পর ওদের দেখা হলো; আগেরদিন কী অদ্ভুত সুন্দর সময় কাটালো দুইজন। ওইদিনও দুপুর থেকে ওরা একসঙ্গে ছিল। আবার কবে দেখা হবে, কে জানে! এইসব ভাবনার মধ্যেই আবিরের ডাক শুনে ওর দিকে তাকালো স্নেহা। আউট অফ নো হোয়্যার আবির তখন বলে বসে- ডোন্ট কাম হেয়্যার লাইক দিজ এগেইন। স্নেহার কী হলো তখন, ও নিজেও জানে না। ওই কথা ব্রেনে প্রসেস হওয়া মাত্রই ও ঠাস করে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দিলো আবিরের গালে। আচমকা ওই চড়ে আবিরের চশমাটা নিচে পড়ে ভাঙে। কিছুক্ষণ হতভম্ব হয়ে আবির মাথা নিচু করে চুপচাপ বসে থাকে।

স্নেহার মনে হলো, ও একটা ঘোরের ভেতর দিয়ে যেন ঘুরে আসলো জাহান্নাম থেকে। হুঁশ ফিরতেই তাড়াতাড়ি ও হাঁটু গেড়ে নিচে বসলো আবিরের চশমা খুঁজে দিতে। আবির ওকে থামানোর চেষ্টা করলো- ইট'স ওকে। কাম অন। উঠো, প্লিজ। ভাঙা চশমা উঠিয়ে ও কয়েকবার সর‍্যি বলে। এর পর পরই খুব ঠান্ডা স্বরে রিকোয়েস্ট করে- প্লিজ, লিভ। জাস্ট লিভ! রাইট নাউ। আবির মাথা নিচু করেই চলে যেতে উঠে। কিন্তু ও চশমা ছাড়া কীভাবে গাড়ি চালাবে ভাবতেই আবার পেছন থেকে স্নেহা ডাক দেয়- আ…বির…তুমি গাড়ি কীভাবে চালাবা? শিট! আই'ম সর‍্যি! তোমার চশমাটাও আমি…। ও পেছনে ঘুরে অপরাধীর মতো বলে- ইট'স ওকে। ডোন্ট ওয়ারি। স্পেয়ার একটা চশমা আছে গাড়িতে। তুমি সাবধানে যেও। ঢাকায় পৌঁছে টেক্সট দিও।

ওই রাতে স্নেহার আর ঢাকায় ফেরা হয় না। প্রচণ্ড অপমান, রাগ, জেদ আর কষ্টে বার থেকে উঠে ও হোটেলের রুমে চলে যায়। ফ্লাইটও ক্যান্সেল করে না, এয়ারলাইন্সেও জানায় না কিছু। হোটেলের নিচের একটা এজেন্সি থেকে সকালের ফ্লাইটের টিকেট কাটে। আবির সম্ভবত কনফারেন্সে ছিল। ওকেও কোনো টেক্সট দিলো না; ঢাকায় না ফেরার কথাও জানালো না। বারের ওই ইনসিডেন্ট ওর দুঃস্বপ্নের মতো লাগতে থাকে। রুমে ফেরার পর দীর্ঘক্ষণ রাগে-অপমানে, এমন কী আবিরের গায়ে হাত তোলার জন্য অনুশোচনাতেও পেগের পর পেগ হুইস্কি খেতে খেতে কাঁদতে থাকে। একটা সময় কাঁদতে কাঁদতেই ঘুমিয়ে পড়ে। অনেক রাতে ঘুম ভাঙলে আবিরের অসংখ্য টেক্সট টেলিগ্রামে এসে জমে আছে দেখে। এতগুলা টেক্সটের কোনো জবাব না দিয়ে স্নেহা শুধু জানায়- আমি এখানেই আছি, ঢাকায় যাইনি। শরীর খারাপ লাগছিল। কথাটা মিথ্যা ছিল না আসলে। বার থেকে হোটেলে ফেরার পর ওর শরীর কিছুটা খারাপ হয় ঠিকই, ওভারড্রিংকের কারণে। আবির রিপ্লাই দেয়- কাজটা ভালো করলা না। স্নেহার ওই টেক্সটের আর উত্তর দিতে ইচ্ছা করে না। আবির ভাবে ফেরার ফ্লাইটের টিকেটটা অনেক জোরজবরদস্তি করে ও কেটে দিছিল বলে হয়তো স্নেহা জেদ করে ওকে শাস্তি দেওয়ার জন্যই ওই টিকেটে ঢাকায় ফিরলো না। আর স্নেহা ভাবে, বিদায়ের আগ মুহূর্তে “ডোন্ট কাম হেয়্যার লাইক দিজ এগেইন” বলাটা কি খুব জরুরি ছিল আবিরের?

পরদিন সকাল ৮টার ফ্লাইটে ও ঢাকায় রওনা হয়। ১০টার মধ্যে অফিসে ঢুকতে হবে। অত সকালে রওনা হওয়া ছাড়া উপায়ও ছিল না। ফ্লাইট ছাড়ার ঠিক আগ মুহূর্তে আবিরকে ও টেক্সট করে- আইম লিভিং। হোয়েন আই ওয়াজ প্রিপেয়ারিং টু কাম হিয়ার, আই ডিডেন্ট ইভেন নো ইফ আই উড সি ইউ। স্টিল, আই কেইম। আই কেইম নোয়িং আই প্রবাবলি শুডেন্ট হ্যাভ। ইউ টুক রিস্কস জাস্ট টু মিট মি, গেইভ মি মোমেন্টস আই উইল চেরিশ ফরএভার অ্যান্ড ফর দ্যাট আইম ডিপলি গ্রেটফুল। আই নো মিটিং মি ইজ নেভার ইজি ফর ইউ। অ্যান্ড ইউ হ্যাভ টেকেন দিজ রিস্ক এগেইন অ্যান্ড এগেইন, অ্যান্ড আই ক্যান নেভার রিপে ইউ ফর হোয়াট ইউ হ্যাভ গিভেন মি, নট ইভেন ইন অ্যা হান্ড্রেড লাইফটাইমস। বাট ইফ ইউ টেল মি, আফটার আই লিভ, "ডোন্ট কাম হিয়ার লাইক দিস এগেইন", দ্যাট উড বি নাইস। উডেন্ট ইট? ইফ ইউ হ্যাড টোল্ড মি নট টু কাম, আই উড হ্যাভ ইভেন লিসেনড। আই উডেন্ট হ্যাভ ফোর্সড ইউ। বাট আফটার সাচ বিউটিফুল মোমেন্টস, হিয়ারিং দ্যাট ফ্রম ইউ বিফোর আই লিভ, হাউ অ্যাম আই সাপোজড টু ফিল? হাউ উড ইউ ফিল ইফ ইউ ওয়্যার ইন মাই প্লেস, আবির? ফর দ্য ফার্স্ট টাইম ইন মাই লাইফ, আই ওয়ান্টেড টু মিট ইউ অন মাই য়ৌন। আই ওয়াজ হ্যাপি, সো হ্যাপি। বাট দ্য হ্যাপিনেস নেভার স্টেইস লং। দ্য মোমেন্ট আই ফেল্ট ইট, দ্য হোল ওয়ার্ল্ড কনস্পায়ার্ড টু টেক ইট অ্যাওয়ে। ডিডেন্ট আই সে দিস অলওয়েজ? সি... দিস ইজ দ্য প্রুফ। আই য়োন্ট কাম ইন ফ্রন্ট অব ইউ এগেইন। নট আউট অব অ্যাঙ্গার, জাস্ট বিকজ আই নো, আই শুডেন্ট। আমাকে কেন সুন্দর মোমেন্টের ফিলিংটা নিয়ে ঢাকা পর্যন্ত যেতে দিলে না, আবির?

ঢাকায় ল্যান্ড করার পর আবিরের টেক্সট আসে ফোনে- আই'ম রিয়েলি সর‍্যি, স্নেহা। হ্যাভ ইউ ল্যান্ডেড? রাজশাহীর ওই শেষদিনের কুফাটা আর কাটে না ওদের জীবনে, বরং প্রতিবারই আরো বেশি বাড়তে থাকে। একটা সময় বিদায় মুহূর্তটা দুইজনের জন্যই ট্রমা হয়ে উঠে। ওদের কেউই হয়তো তেমনটা আশা করে নাই কখনো; কিন্তু মানুষ যা আশা করে, তা আর সবসময় হয় কই? এক সময়ের শান্তি ক্রমশই অশান্তিতে পরিণত হয়। আনন্দের মুহূর্তগুলা তো আর কেউ চিরকাল বাক্সবন্দি করে রাখতে পারে না। সেটা পারলে তো বাক্স খুলে খুলে মানুষ নিজেদের প্রয়োজন মাফিক আনন্দ বের করে কাটিয়ে দিতে পারতো পুরাটা জীবন। সময় বদলায়, মুহূর্তগুলাও আর আগের মতো থাকে না সবসময়। যা এক সময় আনন্দ ছিল, তা বিষাদ হয়ে উঠে- কী যেন কার, বা কীসের দোষে!

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় কোনোকিছু কিনতে যাওয়া একটা পেইনফুল কাজ। তবুও স্নেহাকে নামতে হলো। ফার্মেসি থেকে নতুন সিরিঞ্জ এনে সুঁইয়ের নিচের দিকের প্লাস্টিকের অংশটা আগুন দিয়ে গলাতে গলাতে ও ভাবতেছিল- শেষটা কেন সবসময় এত অসুন্দর হয়? মানুষ কেন অভিযোগ আর কদর্য অনুভূতি দেওয়া ছাড়া বিদায় জানাতে পারে না? আবিরের ক্ষতি হোক, এমন কিছু ও স্বপ্নেও কি কখনো ভাবছিল? এ কথা এখন হাজারবার চিৎকার করে বললেও কি আর আবির বিশ্বাস করবে? ওর হঠাৎ ব্রেক ডাউন হয়। সমস্ত শরীর ঘাম দিয়ে কাঁপতে থাকে। লাইটারে সুঁইটা সেট করে জ্বালানোর চেষ্টা করতেই আগুন ধরে যায় পুরা ফয়েল পেপারে। আগুন নিভিয়ে ও কিছুক্ষণ মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকে চুপচাপ। সমস্ত শরীর দিয়ে ঘাম পড়তে থাকে দর দর করে। বেঁচে থাকার অনুভূতিটা ইদানিং যন্ত্রণার লাগতেছে ওর, কিন্তু মৃত্যুও তো সহজ লাগে না। এইসব ভাবনায় ওর ভীষণ ক্লান্ত লাগে। যতটা না শারীরিক, মানসিক ক্লান্তিটা এর চেয়েও বেশি। চোখ বন্ধ করে ব্লুটুথ স্পিকারটায় ও শোনে, সুবীর সেন গাইতেছেন-

ক্ষতি নেই আজ কিছু আর, ভুলেছি যতকিছু তার
এ জীবনে সবই যে হারায়, জানি ভুলে যাবে যে আমায়…

গান শুনতে শুনতে স্নেহার মনে পড়ে, সিলেটের ওই অদ্ভুত সকালটার কথা। সারা রাত লোকাল বাসে জার্নির পর ভোরে যখন ও সিলেট শহরের লাস্ট স্টপেজ কদমতলীতে নামে, পরবর্তী গন্তব্যস্থল নিয়ে একদমই ভাবতে হয় নাই ওর। বাস থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গেই হাক-ডাক শুরু হয়ে যায় সিএনজি আর বাংলা টেসলার ড্রাইভারদের। স্নেহা যে সিলেটি ফুরি না, ওইখানে যে ও নতুন আসছে, ওর মুখ দেখেই হাকডাক ওয়ালাদের সবাই সম্ভবত বুঝে ফেলছিল এটা। বাস থেকে নেমে মাটিতে পা রাখা মাত্রই একেকজনের ডাক শুরু হয়ে গেল- আপা, দরগাহ যাইবায়নি, না চান্দনী ঘাট?

সিলেটে ওইবারই স্নেহার প্রথম ট্যুর না। ২৩ বছর আগে ওই শহরে প্রথম গেছিল ও। অগুরুত্বপূর্ণ মেমোরি প্রিজার্ভেশনে ওর ব্রেন খুব একটা ইন্টারেস্টেড না থাকায় ২৩ বছর আগে সিলেট শহরে ঠিক কী কী করছিল বা কোথায় কোথায় গেছিল, ওইসব আর খুব একটা মনে পড়লো না। দরগাহতে যে গেছিল, এইটুকুই শুধু মনে আছে। ১২ বছর আগে আরও একবার গেছিল যদিও। ওইবারই শেষ। ওই স্মৃতি মোটামোটি মনে আছে। সেই হিসাবে তৃতীয়বারের মতো ওই ভোরে সিলেট শহরে পা রাখছিল স্নেহা। তবে একা ওইবার প্রথমই।

এত এত হাক-ডাকের মধ্যে ও একজন বয়স্ক লোকের টানা রিকশার সামনে গিয়ে জিজ্ঞেস করে- চাচা, দরগাহ রোড যাবেন? কোনো কথা না বলে, মুখের হাসিতেই উনি দরগায় নিয়ে যাওয়ার সম্মতি জানালেন। ওমর ফারুক উনার নাম। সিলেট শহরে কাটানো তিন ঘন্টার পুরাটা সময় তার রিকশায় করেই এদিক-সেদিক ঘুরে বেড়াইছে স্নেহা। প্রথমেই ও যায় জালালী কবুতর দর্শনে। খুব সকালে হযরত শাহজালাল (রহঃ)-এর মাজারে গিয়ে কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকে গজার মাছ খ্যাত পুকুরের পাশে। ওই ভোর থেকেই নানা জায়গার নানা কিছিমের ভক্ত-মুরীদরা মাজারে কত কী মানত নিয়ে ছুটে আসতেছিলেন! স্নেহা ভাবে- ওরও কি কোনো মানত করার আছে? ভক্তরা তো ওলী-আউলিয়াদের মাধ্যমে মূলত খোদার কাছেই মানত করে।

খোদার সঙ্গে তো বান্দার যোগাযোগ থাকার কথা সরাসরি, ও ভাবে। যে বিশ্বাসী, তার কি কোনো মাধ্যম লাগে খোদার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে? নাহ! ও সিদ্ধান্তে আসে- সংযোগ ঘটাতে জানলে কোনো মাধ্যমই কারো লাগে না! ডাকার মতো ডাকলে, খোদার জবাব বান্দা নিজেই খুঁজে পায়। কোনো মাধ্যমেরই এর জন্য প্রয়োজন নাই। তবু ও মাজারের ভেতর ঢুকে একবার সালাম জানিয়ে বাইরের সফেদ কবুতরগুলার উড়াউড়ি দেখে কিছুক্ষণ। দরগাহ থেকে বের হয়ে ও ওমর ফারুক চাচার রিকশায় উঠে চলে যায় চাঁদনী ঘাট। সুরমা নদীর পাড়ে বাঁধানো সিঁড়িতে বসে হঠাৎ ওর মনটা ভীষণ শান্ত হয়ে উঠে। ফাল্গুনের মিষ্টি রোদ আর হালকা বাতাস; কোথা থেকে যেন ভেসে আসে কোকিলের ডাক- খুব মন দিয়ে ওই ডাক শুনতে শুনতে কিছুক্ষণের জন্য দুনিয়াদারির সমস্ত যন্ত্রণা বোধের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজের ভেতর ও হারিয়ে যায়; একেবারে একা, খুব নির্জনে!

চেজিং দ্য ড্রাগন: ব্ল্যাকহোল

Comments

    Please login to post comment. Login