Posts

উপন্যাস

চেজিং দ্য ড্রাগন: ব্যাড ট্রিপ

March 19, 2026

Shifat Binte Wahid

Original Author সিফাত বিনতে ওয়াহিদ

265
View

[ডিসক্লেইমার: এই গল্পে চিত্রিত প্রভাবশালী চরিত্র ও ক্ষমতার অলিগলি সম্পূর্ণ কাল্পনিক। মানুষের মনের গহীনের অন্ধকার ও জটিল প্রবৃত্তিগুলো বাস্তব হলেও, এখানকার চরিত্র, তাদের কর্মকাণ্ড এবং প্রেক্ষাপটের সঙ্গে বাস্তবের কোনো ব্যক্তি বা স্থানের মিল নেই।]

রাজশাহীতে কাটানো প্রথম দিনের মতো সুন্দর ছিল না শেষদিনটা। সম্ভবত ওইদিন থেকেই আবির-স্নেহার বিদায়ের মুহূর্তগুলা অসুন্দর হওয়া শুরু হয়। ১৫ তারিখ সকালে আবির আসতে পারে না। পারবে কি না, তা নিয়েও কিছুটা সংশয়ে ছিল। হুট করেই ওর অফিসের কনফারেন্স কল করলে সকাল থেকে ও কাজে আটকে পড়ে। স্নেহা এতে বিন্দুমাত্রও মন খারাপ করে না। ওর মনে হয়, দেখা হলে ভালো লাগতো, না হলে একটু খারাপ লাগবে, এই এতটুকুই।

সকাল থেকে একটু পর পরই আবির আসা না আসার দোলাচলে একটার পর একটা টেক্সট পাঠাতে থাকে। কিন্তু দুপুর দুইটায় ঠিক হোটেলের নিচে এসে স্নেহাকে কল করে নিচে নামতে বলে। এর কিছুক্ষণ আগেই ওর ব্রিথিং প্রব্লেম শুরু হয় স্নেহার। বাইরে না গিয়ে তাই দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত হোটেলের রুমেই ওরা গল্প করে সময় কাটায়। স্নেহার ফ্লাইট রাত আটটায়। ছয়টায় ও হোটেল থেকে চেক আউট করে বের হয়ে যাবে। এর আগে আবিরের পীড়াপীড়ির কারণে পাশেই এক বারে যেতে হয়। ও অল্প পরিমাণ ব্যালেন্টাইন আবিরের জন্য রেখে দিছিল; ওইটা শেষ করার পরও আবিরের বারে গিয়ে একটু খাওয়া লাগবেই লাগবে। নাছোড়বান্দার মতো ও প্লিজ চলো না…চলো না শুরু করছিল। ঘণ্টা খানিক পরই ওর আরেকটা কনফারেন্স জয়েন করতে হবে।

ড্রিংক করে আবির গাড়ি ড্রাইভ করে যাবে বলে স্নেহা যেতে রাজি হইতেছিল না প্রথমে। জাস্ট একটা পেগ খেয়েই বের হয়ে যাবে প্রমিজ করে আবির এক প্রকার জোর করেই ওকে বারে নিয়ে যায়। ওইখানে বসে দুইজন কিছুক্ষণ গল্প-টল্প করে। দুইজনেরই সময় স্বল্পতা ছিল। আবিরকে সাতটার মধ্যে অফিসে গিয়ে কনফারেন্স অ্যাটেন্ড করতে হবে, স্নেহাকেও এয়ারপোর্টের জন্য সাতটার মধ্যেই বের হয়ে যেতে হবে। অফিশিয়াল কমিটমেন্ট থাকায় আবিরকেই আগে ওইখান থেকে বের হতে বলে স্নেহা। কিছুক্ষণ চুপচাপ মন খারাপ করে বসে থাকার পর, যাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে আবির ডাকে- স্নে…হা…

স্নেহা কিছুটা অন্যমনস্ক। ওর মন তখন কিছুটা খারাপ হওয়ার পথে। ও তখন ভাবতেছিল, প্রায় দুই মাস পর ওদের দেখা হলো। আগেরদিন কী অদ্ভুত সুন্দর সময় কাটালো দুইজন। ওইদিনও দুপুর থেকে ওরা একসঙ্গে ছিল। আবার কবে দেখা হবে, কে জানে! এইসব ভাবনার মধ্যেই ডাক শুনে ও আবিরের দিকে তাকালো। আউট অফ নো হোয়্যার আবির ওকে বলে বসলো- ডোন্ট কাম হেয়্যার লাইক দিজ এগেইন। স্নেহার তখন কী হলো, ও নিজেও জানে না। ওই কথা ওর ব্রেনে প্রসেস হওয়া মাত্রই ও ঠাস করে আবিরের গালে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দিলো। ওর ওই আচমকা চড়ে আবিরের চশমাটা নিচে পড়ে ভাঙে। কিছুক্ষণ হতভম্ব হয়ে আবির একইভাবেই চুপ করে বসে থাকে ওইখানে।

স্নেহার মনে হলো, ও একটা ঘোরের ভেতর দিয়ে যেন ঘুরে আসলো জাহান্নাম থেকে। হুঁশ ফিরতেই তাড়াতাড়ি ও হাঁটু গেড়ে নিচে বসলো আবিরের চশমা খুঁজে দিতে। আবির ওকে থামানোর চেষ্টা করলো- ইট'স ওকে। কাম অন। উঠো, প্লিজ। স্নেহা ভাঙা চশমা উঠিয়ে কয়েকবার সর‍্যি বলে ওকে। এর পরপরই ও খুব ঠান্ডা স্বরে বলে উঠে- প্লিজ, লিভ। জাস্ট লিভ! রাইট নাউ। আবির মাথা নিচু করেই চলে যেতে উঠে। কিন্তু ও চশমা ছাড়া কীভাবে গাড়ি চালাবে ভাবতেই আবার পেছন থেকে স্নেহা ডাক দেয়- আ…বির…তুমি গাড়ি কীভাবে চালাবা? শিট! আই'ম সর‍্যি! তোমার চশমাটাও আমি…। ও পেছনে ঘুরে অপরাধীর মতো বলে- ইট'স ওকে। ডোন্ট ওয়ারি। স্পেয়ার একটা চশমা আছে গাড়িতে। তুমি সাবধানে যেও। ঢাকায় পৌঁছে টেক্সট দিও।

ওই রাতে স্নেহার ঢাকায় ফেরা হয় না। প্রচণ্ড অপমান আর কষ্টে বার থেকে উঠে ও হোটেলের রুমে চলে যায়। ফ্লাইটও ক্যান্সেল করে না, এয়ারলাইন্সেও কিছু জানায় না। হোটেলের নিচের একটা এজেন্সি থেকে সকালের ফ্লাইটের টিকেট কাটে। আবির সম্ভবত কনফারেন্সে ছিল। স্নেহা ওকে কোনো টেক্সট দেয় না; ঢাকায় না ফেরার কথাও জানায় না। বারের ওই ইনসিডেন্ট ওর দুঃস্বপ্নের মতো লাগতে থাকে। রুমে ফেরার পর দীর্ঘক্ষণ ও রাগে-অপমানে, এমন কী আবিরের গায়ে হাত তোলার জন্য অনুশোচনাতেও পেগের পর পেগ হুইস্কি খেতে খেতে কাঁদতে থাকে। একটা সময় কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়ে। অনেক রাতে ওর ঘুম ভাঙলে দেখে, আবিরের অসংখ্য টেক্সট টেলিগ্রামে এসে জমে আছে।

ও শুধু লেখে- আমি এখানেই আছি, ঢাকায় যাইনি। শরীর খারাপ লাগছিল। কথাটা মিথ্যা ছিল না। বার থেকে হোটেলে ফেরার পর ওর শরীর কিছুটা খারাপ হয় ঠিকই, ওভারড্রিংকের কারণে। আবির রিপ্লাই দেয়- কাজটা ভালো করলা না। স্নেহার আর উত্তর দিতে ইচ্ছা করে না। আবির ভাবে ও জেদ করে হয়তো ওই রাতে ঢাকায় ফিরে নাই, কারণ ফেরার ফ্লাইটের টিকেটটা আবির অনেক রিকোয়েস্ট করে কেটে দিছিল। ও মনে করে, ওকে শাস্তি দেওয়ার জন্যই স্নেহা ওর কাটা টিকেটে ঢাকায় ফেরে নাই। আর স্নেহা ভাবে, বিদায়ের আগ মুহূর্তে “ডোন্ট কাম হেয়্যার লাইক দিজ এগেইন” বলাটা কি খুব জরুরি ছিল আবিরের?

পরদিন সকাল ৮টার ফ্লাইটে ও ঢাকায় রওনা হয়। ১০টার মধ্যে অফিসে ঢুকতে হবে। অত সকালে রওনা হওয়া ছাড়া উপায়ও ছিল না। ফ্লাইট ছাড়ার ঠিক আগ মুহূর্তে আবিরকে ও টেক্সট করে- যাচ্ছি। ১৪ তারিখ আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর দিন ছিল। আমি এত হ্যাপি কোনোদিন ছিলাম কি না, মনে পড়তেছে না। কিন্তু যাওয়ার আগ মুহূর্তে আর কখনো না আসার কথাটা বলা কি খুব দরকার ছিল? ঢাকায় ফেরার পরও তো বলতে পারতা। খুব ক্ষতি হতো?

এর পরেই আরেকটা টেক্সটে লেখে- পরশু আমরা এত সুন্দর একটা দিন কাটালাম। আমার কাছে ওইটা একটা স্বপ্নের মতো দিন! ওই অনুভূতি সঙ্গে নিয়ে কেন আমাকে ঢাকা পর্যন্ত যেতে দিতে পারলা না, আবির? সি…আমি যে সবসময় বলি না? আমার কপালে আনন্দের মুহূর্ত খুব বেশিক্ষণ থাকে না? দ্যাটস দ্য প্রুভ! কালকের বারের ইনসিডেন্টের জন্য আই'ম সর‍্যি। প্রচণ্ড কষ্ট পেয়েছিলাম। মাথা কাজ করছিল না ওই সময়। তুমি যদি না চাইতে, আমি তো জোর করে এখানে আসতাম না, আবির। জোর করে দেখা করাও কখনো সম্ভব না। এবারও আমি তোমাকে কোনো রকম জোর করিনি। তাহলে…কেন? লিভ ইট…ভালো থাকো। তোমার কাছ থেকে দূরে যেতে সবসময়ই আমার কষ্ট হয়, এখনো হচ্ছে।

ঢাকায় ল্যান্ড করতেই আবিরের টেক্সট আসে- আই'ম রিয়েলি সর‍্যি, স্নেহা। হ্যাভ ইউ ল্যান্ডেড? রাজশাহীর ওই শেষদিনের কুফাটা আর কাটে না ওদের জীবনে, বরং প্রতিবারই আরো বেশি বাড়তে থাকে। একটা সময় বিদায় মুহূর্তটা দুইজনের জন্যই ট্রমা হয়ে উঠে। ওদের কেউই হয়তো তেমনটা আশা করে না; কিন্তু মানুষ যা আশা করে, তা সবসময় আর হয় কই? এক সময়ের শান্তি ক্রমশই অশান্তিতে পরিণত হয়। আনন্দের মুহূর্তগুলা তো আর কেউ চিরকাল বাক্সবন্দি করে রাখতে পারে না। সেটা পারলে তো বাক্স খুলে খুলে মানুষ নিজেদের প্রয়োজন মাফিক আনন্দ বের করে কাটিয়ে দিতে পারতো পুরোটা জীবন। সময় বদলায়, মুহূর্তগুলাও আর আগের মতো থাকে না সবসময়। যা এক সময় আনন্দ ছিল, তা বিষাদ হয়ে উঠে- কী যেন কার, বা কীসের দোষে!

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় কোনোকিছু কিনতে যাওয়া একটা পেইনফুল কাজ। তবুও স্নেহাকে নামতে হলো। ফার্মেসি থেকে নতুন সিরিঞ্জ নিয়ে এসে সুঁইয়ের নিচের দিকের প্লাস্টিকের অংশটা আগুন দিয়ে গলাতে গলাতে ও ভাবতেছিল- সব শেষ কেন এত অসুন্দর হয়? মানুষ কেন অভিযোগ আর কদর্য অনুভূতি দেওয়া ছাড়া বিদায় জানাতে পারে না? আবিরের ক্ষতি হোক, এমন কিছু ও স্বপ্নেও কি কখনো ভাবছিল? এ কথা এখন হাজারবার চিৎকার করে বললেও কি আর আবির বিশ্বাস করবে? ওর হঠাৎ ব্রেক ডাউন হয়। সমস্ত শরীর ঘাম দিয়ে কাঁপতে থাকে।

লাইটারে সুঁইটা সেট করে জ্বালানোর চেষ্টা করতেই আগুন ধরে যায় পুরা ফয়েল পেপারে। আগুন নিভিয়ে ও কিছুক্ষণ মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকে চুপ করে। সমস্ত শরীর দিয়ে দর দর করে ঘাম পড়তে থাকে। বেঁচে থাকার অনুভূতিটা ইদানিং যন্ত্রণার লাগতেছে ওর, কিন্তু মৃত্যুও তো সহজ লাগে না। এসব ভাবনায় ভীষণ ক্লান্ত লাগে। যতটা না শারীরিক, মানসিক ক্লান্তিটা এর চেয়েও বেশি। চোখ বন্ধ করে ও ব্লু টুথ স্পিকারটায় শোনে, সুবীর সেন গাইতেছেন-

ক্ষতি নেই আজ কিছু আর, ভুলেছি যতকিছু তার
এ জীবনে সবই যে হারায়, জানি ভুলে যাবে যে আমায়…

গান শুনতে শুনতেই ওর মনে পড়ে, সিলেটের ওই অদ্ভুত সকালটার কথা। সারা রাত লোকাল বাসে জার্নির পর ভোরে যখন ও সিলেট শহরের লাস্ট স্টপেজ কদমতলীতে নামে, পরবর্তী গন্তব্যস্থল নিয়ে একদমই ভাবতে হয় নাই ওর। বাস থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে হাক-ডাক শুরু হয়ে যায় সিএনজি আর বাংলা টেসলার ড্রাইভারদের। স্নেহা যে সিলেটি ফুরি না, আর ও যে ওইখানে নতুন আসছে, এটা ওর মুখ দেখেই ওইখানে হাকডাক ওয়ালাদের সবাই সম্ভবত বুঝে ফেলছিল। বাস থেকে নেমে মাটিতে পা রাখা মাত্রই একেকজনের ডাক শুরু হয়ে গেল- আপা, দরগাহ যাইবায়নি, না চান্দনী ঘাট?

সিলেটে ওইবারই ওর প্রথম ট্যুর না। ২৩ বছর আগে প্রথম সিলেটে গেছিল ও। অগুরুত্বপূর্ণ মেমোরি প্রিজার্ভেশনে ওর ব্রেন খুব একটা ইন্টারেস্টেড না থাকায়, ২৩ বছর আগে সিলেট শহরে ও ঠিক কী কী করছিল বা কোথায় কোথায় গেছিল, ওইসব আর খুব একটা মনে পড়ে না। দরগাহতে যে গেছিল, এটুকুই শুধু মনে আছে। ১২ বছর আগে আরও একবার গেছিল। ওইবারই শেষ। ওই স্মৃতি অবশ্য মোটামোটি মনে আছে। সেই হিসাবে তৃতীয়বারের মতো ও সিলেট শহরে পা রাখছিল ওই ভোরে। তবে একা ওইবারই প্রথম গেছে।

এত এত হাক-ডাকের মধ্যে একজন বয়স্ক লোকের টানা রিকশার সামনে গিয়ে স্নেহা জিজ্ঞেস করে- চাচা, দরগাহ রোড যাবেন? কোনো কথা না বলে, মুখে একটা হাসি এনে উনি দরগায় নিয়ে যাওয়ার সম্মতি জানালেন। উনার নাম ওমর ফারুক। সিলেট শহরে কাটানো তিন ঘন্টার পুরাটা সময় উনার রিকশায় করেই ও এদিক-সেদিক ঘুরে বেড়াইছে। সিলেটে নামার পর প্রথমেই ও জালালী কবুতর দর্শনে যায়। খুব সকাল হযরত শাহজালাল (রহঃ)-এর মাজারে গিয়ে কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকে গজার মাছ খ্যাত পুকুরের পাশে। ওই ভোর থেকেই নানা জায়গার নানা কিছিমের ভক্ত-মুরীদরা মাজারে কত কী মানত নিয়ে ছুটে আসতেছিলেন! স্নেহা ভাবে- ওরও কি কোনো মানত করার আছে? ভক্তরা তো ওলী-আউলিয়াদের মাধ্যমে মূলত খোদার কাছেই মানত করে।

কিন্তু খোদার সঙ্গে তো বান্দার যোগাযোগ থাকার কথা সরাসরি, ও ভাবে। যে বিশ্বাসী, তার কি কোনো মাধ্যম লাগে খোদার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে? নাহ! ও সিদ্ধান্তে আসে- সংযোগ ঘটাতে জানলে কোনো মাধ্যমই কারো লাগে না! ডাকার মতো ডাকলে, খোদার জবাব বান্দা নিজেই খুঁজে পায়। কোনো মাধ্যমেরই এর জন্য প্রয়োজন নাই। তবু ও মাজারের ভেতর ঢুকে একবার সালাম জানিয়ে বের হয়ে যায়। বাইরে দাঁড়িয়ে এরপর সফেদ কবুতরগুলার উড়াউড়ি দেখে কিছুক্ষণ।

দরগাহ থেকে বের হয়ে ওমর ফারুক চাচার রিকশায় উঠে চলে যায় চাঁদনী ঘাট। সুরমা নদীর পাড়ে বাঁধানো সিঁড়িতে বসে হঠাৎ ওর মনটা ভীষণ শান্ত হয়ে উঠে। ফাল্গুনের মিষ্টি রোদ আর হালকা বাতাস; কোথা থেকে যেন ভেসে আসে কোকিলের ডাক- খুব মন দিয়ে ওই ডাক শুনতে শুনতে কিছুক্ষণের জন্য ও দুনিয়াদারির সমস্ত যন্ত্রণা বোধের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজের ভেতর হারিয়ে যায়; একেবারে একা, খুব নির্জনে!

চেজিং দ্য ড্রাগন: ব্ল্যাকহোল

Comments

    Please login to post comment. Login