https://rkmri.co/po0M3mNMMyIy/ এই বইটি হয়তো আপনাদের অনেক ভালো লাগতে পাড়ে চাইলে দেখে আসতে পারেন
মে মাসের দুপুরে গ্রামের আকাশটা যেন অন্যরকম। রোদে ঝলমল করে উঠলেও বাতাসে থাকে এক অদ্ভুত কোমলতা। ঠিক এই সময়েই রুদ্রর জীবনে ঘটে গেল সেই ঘটনাটা, যা তার সমস্ত দিনলিপি পাল্টে দিল।
রুদ্র নবম শ্রেণির ছাত্র। বই পড়া, গল্প লেখা আর নদীর ধারে বসে আকাশ দেখা—এই তিনটিই তার প্রিয় কাজ। কিন্তু এই মে মাসে তার জীবনে ঢুকে পড়ল এক অচেনা চিঠি।
চিঠিটা পাওয়া গেল গ্রামের ডাকঘরের পুরনো কাঠের বাক্সে। ডাকপিয়ন বলল, “এটা তোমার নামে এসেছে, কিন্তু প্রেরকের ঠিকানা নেই।” রুদ্র অবাক হয়ে খাম খুলল। ভেতরে লেখা—
“মে মাসের প্রতিটি বিকেল তোমাকে ডাকছে। নদীর ধারে এসো, আমি অপেক্ষা করব।”
কোনো নাম নেই, কোনো পরিচয় নেই। শুধু এই কয়েকটি লাইন।
রহস্যের শুরু
রুদ্র প্রথমে ভেবেছিল কেউ মজা করছে। কিন্তু পরদিনও আরেকটা চিঠি এল। এবার লেখা—
“তুমি যদি সত্যিই আকাশ ভালোবাসো, তবে আমার সঙ্গে ভাগ করে নাও। মে মাস শেষ হওয়ার আগে দেখা করো।”
রুদ্রর মনে কৌতূহল জাগল। কে হতে পারে? তার সহপাঠী কেউ? নাকি গ্রামের বাইরে থেকে আসা কোনো অচেনা মানুষ?
সে ঠিক করল, বিকেলে নদীর ধারে যাবে।
নদীর ধারে দেখা
মে মাসের হালকা বাতাসে নদীর জল চিকচিক করছিল। রুদ্র বসে রইল অনেকক্ষণ। কিন্তু কেউ এল না। শুধু দূরে একটা লাল রঙের ওড়না বাতাসে উড়তে দেখা গেল।
পরদিন আবার চিঠি এল। এবার লেখা—
“আমি এসেছিলাম, তুমি আমাকে দেখোনি। কাল আবার এসো।”
রুদ্রর মনে অদ্ভুত উত্তেজনা। সে যেন কোনো উপন্যাসের চরিত্র হয়ে গেছে।
অচেনা মুখ
তৃতীয় দিনে অবশেষে দেখা হল। নদীর ধারে দাঁড়িয়ে ছিল এক মেয়ে। বয়স রুদ্রর সমান। চোখে কৌতূহল, হাতে সেই লাল ওড়না।
মেয়েটি বলল, “আমি মায়া। তোমার লেখা কবিতা আমি পড়েছি স্কুলের দেয়ালপত্রিকায়। মনে হল তুমি আকাশকে আমার মতোই ভালোবাসো। তাই চিঠি লিখেছিলাম।”
রুদ্র স্তব্ধ হয়ে গেল। এতদিন ধরে যে রহস্য তাকে ঘিরে রেখেছিল, তার উত্তর এত সহজ!
বন্ধুত্বের জন্ম
মায়া আর রুদ্র প্রতিদিন নদীর ধারে দেখা করতে লাগল। তারা আকাশের রঙ নিয়ে কথা বলত, কবিতা পড়ত, গল্প বানাত। মে মাস যেন তাদের জন্য এক উৎসব হয়ে উঠল।
মায়া বলল, “মে মাস শেষ হলে আমি শহরে চলে যাব। বাবার চাকরির বদলি হয়েছে। তাই এই কয়েকটা দিনই আমাদের।”
রুদ্রর মনে হঠাৎ এক শূন্যতা। এত দ্রুত কি বন্ধুত্ব শেষ হয়ে যাবে?
শেষ বিকেল
মে মাসের শেষ বিকেলে তারা আবার নদীর ধারে বসেছিল। আকাশে সূর্য ডুবে যাচ্ছিল। মায়া বলল, “তুমি লিখতে থাকো। একদিন তোমার গল্প বই হয়ে ছাপা হবে। তখন আমি শহরে বসে পড়ব।”
রুদ্র চুপ করে রইল। তার চোখে জল এসে গেল।
মায়া হাসল, “কাঁদছ কেন? বন্ধুত্ব কখনো শেষ হয় না। শুধু জায়গা বদলায়।”
বিদায়ের চিঠি
পরদিন সকালে ডাকঘরে আবার একটা চিঠি এল। এবার প্রেরকের নাম লেখা—মায়া।
“রুদ্র, মে মাস শেষ হয়ে গেল। কিন্তু আমাদের গল্প শেষ হয়নি। তুমি লিখে যাও, আমি পড়ব। আকাশের মতোই আমাদের বন্ধুত্ব সীমাহীন।”
রুদ্র চিঠিটা বুকের কাছে চেপে ধরল।
উপসংহার
মে মাস তার জীবনে শুধু এক ঋতু নয়, এক স্মৃতি হয়ে রইল। মায়ার সঙ্গে কাটানো কয়েকটা বিকেল তাকে শিখিয়ে দিল—বন্ধুত্বের সৌন্দর্য সময়ের সীমা মানে না।
রুদ্র ঠিক করল, সে এই গল্প লিখে রাখবে। হয়তো একদিন বই হয়ে ছাপা হবে। আর তখন মায়া শহরে বসে পড়বে—যেমন সে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।