লেখালেখির পাশাপাশি একজন নিবেদিতপ্রাণ পলিটিক্যাল এক্টিভিস্টও ছিলেন নোবেলজয়ী দক্ষিণ আফ্রিকান লেখক নাদিন গর্ডিমার। তিনি নিজ দেশের বর্ণবাদী শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর নেলসন ম্যান্ডেলা প্রথম যাদের দেখতে চেয়েছিলেন তাদের মধ্যে তিনিও ছিলেন। সম্প্রতি নোবেল প্রাইজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেয়া একটি স্ট্যাটাসে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
গর্ডিমার দক্ষিণ আফ্রিকার জাতিগত দ্বন্দ্বের প্রভাব নিয়ে লেখালেখি করেছেন। বর্ণবাদী শাসন নিয়ে প্রতিবাদ করার অপরাধে গর্ডিমারের প্রিয় বন্ধু বেটি ডু টোইটকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় তিনি (গর্ডিমার) ম্যান্ডেলার আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করার এবং তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হওয়ার সুযোগ পান। বলা হয় যে, ম্যান্ডেলাকে তার বিখ্যাত ভাষণ ‘আই এম প্রিপেয়ার্ড টু ডাই’ এডিট করতে সাহায্য করেছিলেন নাদিন গর্ডিমার।
এদিকে ১৯৯০ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ম্যান্ডেলা যাদের প্রথম দেখতে চেয়েছিলেন, তাদের মধ্যে গর্ডিমারও ছিলেন। এই দুই নোবেল লরিয়েট প্রায়ই একসঙ্গে ডিনার করতেন। ধীরে ধীরে তারা একে অপরের ভালো বন্ধুতে পরিণত হন। তারা একসাথে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ ব্যবস্থা দূর করার চেষ্টা করেছিলেন।
উল্লেখ্য, নাদিন গর্ডিমার ১৯৯১ সালে সাহিত্যে নোবেল প্রাইজ পান। এছাড়া ১৯৭৪ সালে তিনি বুকার প্রাইজও পেয়েছিলেন। তার উল্লেখযোগ্য বই হলো, ‘জুলি’স পিপল’, ‘বার্গার্স ডটার’, ‘এ ওয়ার্ল্ড অব স্ট্রেঞ্জার্স’, ‘দ্য লেট বুর্জোয়া ওয়ার্ল্ড’। বর্ণবৈষম্যের যুগে তার ‘বার্গার্স ডটার’, ‘এ ওয়ার্ল্ড অব স্ট্রেঞ্জার্স’, ‘দ্য লেট বুর্জোয়া ওয়ার্ল্ড’ বই তিনটি দক্ষিণ আফ্রিকায় নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।