Posts

উপন্যাস

চেজিং দ্য ড্রাগন: ব্যাড লায়ার

March 22, 2026

Shifat Binte Wahid

Original Author সিফাত বিনতে ওয়াহিদ

282
View

[ডিসক্লেইমার: এই গল্পে চিত্রিত প্রভাবশালী চরিত্র ও ক্ষমতার অলিগলি সম্পূর্ণ কাল্পনিক। মানুষের মনের গহীনের অন্ধকার ও জটিল প্রবৃত্তিগুলো বাস্তব হলেও, এখানকার চরিত্র, তাদের কর্মকাণ্ড এবং প্রেক্ষাপটের সঙ্গে বাস্তবের কোনো ব্যক্তি বা স্থানের মিল নেই।]

বসন্তকালে এমন বজ্রবৃষ্টির নজির ভালো না খারাপ? জানালা গলে বৃষ্টির ছাট গায়ে পড়তেই একবার মেঘে কালো আকাশটার দিকে উদাসীন তাকিয়ে ভাবলো স্নেহা। আধা ঘণ্টা আগেও এমন ঝড়ো বৃষ্টির কোনো লক্ষণই দেখে নাই ও। বরং স্পষ্ট মনে আছে, ফার্মেসি থেকে ফেরার সময় আকাশটাকে বেশ ঝকঝকে পরিষ্কারই দেখে আসছিল। দীর্ঘশ্বাস ওকে বিট্রে করলেও নিজের মেমোরি সম্পর্কে বেশ কনফিডেন্স আছে ওর। যদিও আবির মাঝে মাঝে দাবি করতো- উত্তেজিত হলে স্নেহা কী বলে, বা কী পরিমাণ ইনসেন আচরণ করে, ওর নাকি মনে থাকে না! হবে হয়তো! আবিরেরও কি ওর ড্রাঙ্ক হওয়ার পর বলা কথা বা বিহেভিয়র মনে থাকে?

নিজের ইনসেন আচরণগুলা চোখের সামনে ফ্ল্যাশব্যাক হতেই আবিরের জন্য ওর খারাপ লাগা শুরু হলো। এই প্রথম লাগলো, এমন না। যতবার ওই রকম ইনসিডেন্ট ঘটছে, ততবার তো বটেই; এরপরও কারণে-অকারণে যখনই এসব মনে পড়ছে, প্রতিবারই নিজের আচরণের জন্য লজ্জা পাইছে স্নেহা, অনুতপ্তও হইছে। আবির মাঝে মাঝে বলতো- এমন আচরণ কেন করো তাহলে? এর উত্তরটা যদি এত সহজ হতো! অথবা এক-দুই বাক্যে পুরাপুরি বুঝিয়ে বলা সম্ভব হতো ওর জন্যে- জানালার স্লাইড লাগাতে গিয়ে ও ভাবে। এসব আচরণের পেছনের কারণগুলা এতই জটিল আর সূক্ষ্ম ছিল, চাইলেও তাই নিজের ট্রিগার পয়েন্টগুলা বহুবার বহু চেষ্টাতেও আবিরকে ও বোঝাতে সক্ষম হয় নাই।

অনেকবারই বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করে দেখছে; আবির হয়তো বুঝছে, কিংবা পরিস্থিতি শান্ত রাখতে বোঝার ভান করে গেছে। বুঝতে পারলে তো বারবার একই আচরণে স্নেহাকে উত্তেজিত করে তুলতো বলে মনে হয় না। তোমাকে তো কিছু বলাই যায় না। ইউ আর টু সেন্সেটিভ। সত্য সহ্যই করতে পারো না তুমি- শেষের দিকে এই অভিযোগ আবিরের ঠোঁটের গোড়ায় একদম এক পা বাড়িয়ে রেডি হয়ে থাকতো। প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে, যখন-তখন, এই অভিযোগে অভিযুক্ত করার সুযোগ ও কিছুতেই ছাড়তো না। অথচ কতটুকু স্পষ্টভাবে ও সত্য বলতো আসলে?

মানুষের সাইকোলজি খুব জটিল! স্নেহা জানে, ওর বর্ডার লাইন পারসোনালিটি ডিজঅর্ডার আছে। নিজের ট্রিগার পয়েন্টগুলা নিয়ে সচেতন থাকার চেষ্টাও করে ও। কিন্তু সবসময় পেরে উঠে না, কলাপ্স করে মাঝে মাঝে। এটা ওর সীমাবদ্ধতা। সুস্থ মানুষরাই বা কি নিজেদের আচরণের একই রকম কনসিসটেন্সি বজায় রাখতে পারে সবসময়? আবিরের সঙ্গে ওর ট্রিগারড হওয়ার ঘটনাগুলা বেশি ঘটছে বলেই নিজের প্রয়োজনে ওইসব রিয়্যাকশনকে আবির ক্যাশ করতে পারছে আসলে। 

ইউ আর ইনসেন’, ‘ইউ নিড প্রফেশনাল হেল্প’- আরেকজনকে এইসব বলার আগে নিজের অ্যাংজাইটি আর ডুয়েল পারসোনালিটি নিয়ে কি কখনো ভাবছে ও? অথবা ওইসব সংশোধনের কথা? এই একবিংশ শতাব্দীর অস্থির পৃথিবীতে প্রত্যেকেই কোনো না কোনো মানসিক অস্থিরতা অথবা ডিজঅর্ডার নিয়েই জীবন পার করতেছে বলে ধারণা স্নেহার। ও নিজেরটা জানে, অন্য আরেকজন হয়তো জানে না। আবির কি জানে ওর মধ্যে কী কী ডিজঅর্ডার আছে? এটা কখনো ওর জানার প্রয়োজনই হয় নাই কারণ নিজের আচরণগুলাকে ও স্বাভাবিক হিসাবে ধরে নিয়েই এতকাল জীবন যাপন করে আসতেছিল।

গত বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারির কথা মনে পড়ে স্নেহার। এর সপ্তাহ খানিক আগেই রাজশাহী থেকে আবিরের সঙ্গে দেখা করে ফিরছিল ও। ফেরার আগ মুহূর্তে বলা আবিরের বেফাঁস কথার কারণে ঢাকায় ফিরলে রাগ আর অভিমানের সিলসিলাটা জারি ছিল। যেচে ও কথাও কম বলতেছিল। আবির কিছু বললে উত্তর দিতো, অনেকটা না দেওয়ার মতোই। এরমধ্যেই একদিন দুপুরে আবির হঠাৎ টেক্সট পাঠায়- ওয়ানা মিট? ১৯ অথবা ২০ ফেব্রুয়ারি হবে। ডেটটা এই মুহূর্তে ওর এগজেক্টলি মনে পড়তেছে না। কোনো আগাম পূর্বাভাস ছাড়া ওয়ানা মিট লেখা টেক্সটে ও বেশ সারপ্রাইজডই হইছিল ওইদিন। যদিও আবির এমন হুটহাটই দেখা করতে চেয়ে টেক্সট পাঠাতো সব সময়। তবুও ওইদিনেরটা স্নেহার কাছে খুব আনএক্সপেক্টেড ছিল।

বিকালে ওদের দেখা হলো কিংফিশারে। কয়েক ঘণ্টা ড্রিংক আর গল্প-গুজবে কাটানোর পর আবির সন্ধ্যায় ওকে বাসায়ও পৌঁছে দেয়। কিন্তু ঢাকায় ওইবার ও কেন এবং কতদিনের জন্য আসছে, ওইসব নিয়ে কোনো কথাই নিজ থেকে বলে না, স্নেহাও কিছু জানতে চায় না। ওর ব্যক্তিগত ব্যাপারগুলাতে তখনও স্নেহা কোনো আগ্রহ দেখায় নাই, দেখানোর প্রয়োজনও হয় নাই। ইন ফ্যাক্ট, রাজশাহীতে পোস্টিং হওয়ার আগ পর্যন্ত আবিরের সঙ্গে কখনোই ও দেখা করতে চায় নাই, অথবা আবিরকে দেখা করতেও বলে নাই। এমন কী দুই বছরের পুরাটা সময়, নিজে থেকে আগ বাড়িয়ে কোনোদিন কোনো টেক্সটও দুই-একটা ব্যতিক্রম ঘটনা ছাড়া করে নাই ও। আবির টেক্সট করলে উত্তর দিছে; কল করতে চাইলে, কথা বলছে, দেখা করতে চাইলে, দেখাও করছে। এর মানে এই না যে ওর এইসব ইচ্ছা করতো না। করতো, অনেক বেশিই ইচ্ছা করতো। এই ইচ্ছাগুলা প্রকাশ করতে না পারায় মাঝে মাঝে ও প্রচণ্ড ছটফটও করতো। তবুও, নিজের কোনো ইচ্ছার কারণে আবিরকে ও বিরক্ত করতে চায় নাই কোনোদিন।

বিকট এক বজ্রপাতের শব্দ হলো হঠাৎ! আকাশের বুক চিরে মাঝ বরাবর আগুন ঝলকানোর মতো বিদ্যুৎ রেখা দেখা গেল। ওই দৃশ্য দেখতে দেখতেই ও ভাবার চেষ্টা করে- ঠিক কবে থেকে ওদের মধ্যে জটিলতা শুরু হইছে আসলে? ও কি প্রথম থেকেই এমন ‘ইনসেন’ ছিল? আবিরের ডুয়েল বিহেভিয়র প্যাটার্ন অথবা ইনকনসিসটেন্ট পারসোনালিটি এক্সপ্রেশনগুলা কি এর প্রভাবক হিসাবে কাজ করে নাই?

এই ভাবনা থেকে বের হয়ে ও আবারও ফিরে যায় ফেব্রুয়ারিতে। ওইবার সেকেন্ড টাইম ওদের দেখা হলো ২৩ ফেব্রুয়ারি। প্রথমদিন দেখা করার পর আবির যে ও কয়দিন ঢাকাতেই ছিল, ননা বললেও স্নেহা অনুমান করতে পারে। কিন্তু আবির নিজে থেকে এ বিষয়ে কিছুই বলতেছিল না দেখে বেশ অবাকও লাগতেছিল ওর। ঢাকায় থাকার পরও ওদের দেখা হইতেছে না- এই ভাবনায় ও অস্থির হয়ে উঠতেছিল। ২৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরে খুব ডিপ্রেসড লাগায় আবিরের প্রেজেন্স ফিল করার জন্য ও কিংফিশারে গিয়ে বসে। দুঃখে থাকলে মানুষ কত কী করে! হুইস্কির গ্লাসে চুমুক দিতে দিতে স্নেহা ওইখানে বসে নিজের পায়ের ছবি তুলতেছিল বিভিন্ন এঙ্গেলে। একটা ছবি টেলিগ্রামের স্টোরিতে পোস্ট করতেই আবিরের টেক্সট আসে- ওয়েট ফর মি। আই'ম ট্রায়িং টু কাম দেয়্যার। ওর প্রচণ্ড লো ফিল হইতেছিল ওইদিন। ওইদিনই না ঠিক, এর এক-দুইদিন আগে থেকেই ওর ডিপ্রেসড লাগতেছিল আসলে। আবিরকে এর আগের রাতে এই সংক্রান্ত একটা দীর্ঘ রচনাও লিখে পাঠাইছে।

বিকালে কিংফিশারে ঢুকে ওর আগের রাতের টেক্সটা আবির খুব মনোযোগ দিয়ে পড়ে প্রথমে। এরপর ওর অভিমানে কালো হয়ে থাকা মুখের দিকে তাকিয়ে কাছে গিয়ে বসতে ডাকে। তাতে অভিমান কমার বদলে আরো বেড়ে যায় হুর হুর করে। কিছুটা দূরত্ব রেখে ফ্রিজ হয়ে বসে থাকে আগের জায়গাতেই। আবিরের ডাকে এক চুলও স্থান বদল হয় না ওর। অন্ধকারে গোমরা হয়ে থাকা মুখেও দেখা যায় না কোনো আলোর ছিটেফোঁটা। আবির নিজেই কাছে এসে হাতটা টান দিয়ে বলে- আই এক্সেপ্ট, প্রোবাবলি আই অ্যাম অ্যা ব্যাড ম্যান, কিন্তু এত খারাপ যে আমার পাশেও বসা যাবে না? একটা খারাপ লোকের পাশে তো এট লিস্ট বসা যায়, নাকি? স্নেহার ভেতরের বরফ গলতে বেশিক্ষণ সময় লাগে না আর। আবিরের ব্যাপারে ও বরাবরই ভয়ংকর রকম দুর্বল, হেল্পলেসও! অথচ এই দুর্বলতা নাকি আবির বুঝতেই পারে নাই বহুদিন পর্যন্ত!

ওর ওই উদ্ভট ডিনায়াল আর ডিফেন্সিভ বিহেভিয়রের কথা মনে পড়লে এখনো স্নেহার খুব আশ্চর্য লাগে! মানুষ নিজেকে ডিফেন্ড করার জন্য আরেকটা মানুষকে এত বাজেভাবে ছোট করতে পারে? ও তো শেষদিন নিজেকে ভালো মানুষ বলে দাবি করতেছিল। স্নেহা এটা বিশ্বাসও করে। ওর কখনোই আবিরকে খারাপ মানুষ বলে মনে হয় নাই। এমন ভাবনা বা বোধ, একটাবারের জন্য ওর মনের আনাচে-কানাচে কখনো উঁকি দেয় নাই। এমন কী, এত কিছুর পর; এখনো, এই মুহূর্তে এখানে বসেও ওর আবিরকে চমৎকার একজন মানুষ বলেও মনে হয়। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ওকে আও ‘ওয়ান্ডারফুল হিউম্যান বিং’ হিসাবেই বিশ্বাস করছে, সেটা বারবার মেনশনও করে গেছে। কিন্তু একজন চমৎকার মানুষ নিজের মান-মর্যাদা আর সম্মান রক্ষা করার জন্য মরীয়া হয়ে কনসেন্টের মাধ্যমে দুইজন মানুষের মধ্যে ঘটা সমস্ত কিছুর দায় শুধু একজনের উপর এত নগ্নভাবে চাপিয়ে দিতে পারে? মুহূর্তের মধ্যেই সমস্ত মায়া-আবেগ, এত এত চমৎকার মেমোরি ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে কারো অস্তিত্ব এইভাবে ধ্বংস করে দিতে পারে? ভালো মানুষরা কি কখনো ভুল করে না, নাকি ভুল করতে পারে না? হাদিসে কি বর্ণিত আছে- ভালো মানুষ দ্বারা পৃথিবীতে কোনো ভুল কাজ ঘটে নাই; ঘটার সম্ভাবনা বা সুযোগও নাই? বরং কোরআনে তো দেখা গেছে- আল্লাহ তার তৈরি প্রথম মানুষ এবং দুনিয়ার সর্বপ্রথম নবী আদম (আঃ)কে সৃষ্টির পর সকল ফেরেশতাকূলকে তার সম্মানে সিজদাহ করার আদেশ দিছিলেন। ফেরেশতাদের চেয়েও শ্রেষ্ঠ, মানব সেই জাতির আদি পিতাকেও খোদার আদেশ অমান্য করে গন্ধম ফল খাওয়ার কারণে পৃথিবীর বুকে পতিত হতে হইছিল স্বর্গ থেকে বিতারিত করার কারণে। আজাজিলের প্ররোচনায়, (যিনি ইবলিশ নামে অধিক পরিচিত) অথবা মা হাওয়া (আঃ) এর মারফত, বাবা আদম (আঃ) এর গন্ধম খাওয়ার কারণ যা-ই হোক না কেন, মূল বিষয় তো হইতেছে উনি খোদার আদেশ অমান্য করছেন।

অনেকেই এই ঘটনাকে ‘পাপ’ হিসাবে উল্লেখ করার চেষ্টা করেন। কোরআনে কিন্তু একে বর্ণনা করা হইছে ‘বিস্মৃতি’ হিসাবে। সূরা ত্বহা-র ১১৫ নম্বর আয়াতে বলা হইছে- “ওয়া লাকাদ আহিদনা ইলা আদামা মিন ক্বাবলু ফানাসিয়া ওয়া লাম নাজাদ লাহু আযমা”, অর্থাৎ “আমি ইতিপূর্বে আদমের প্রতি নির্দেশ দিয়েছিলাম, কিন্তু সে ভুলে গিয়েছিল এবং আমি তার মধ্যে দৃঢ় সংকল্প পাইনি।” এই ঘটনার পর তারা অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চাইলে আল্লাহ তায়ালা তাদের ক্ষমাও করে দেন। মানব জাতির শুরু থেকেই তো ভুল করার ইতিহাস কোরআনেই বর্নিত আছে! আদম (আঃ) যদি ভুল করতে পারেন, একবিংশ শতাব্দির একজন মানুষের ভুল করাটা কি খুব অস্বাভাবিক ঘটনা? নাকি মিলিটারি অফিসারদের ভুল করলেও স্বীকার না করতে এক্সট্রা কোনো ট্রেনিং করানো হয়? কে জানে! হয়তো ভুল স্বীকার না করার স্ট্রিক্ট রুলসও মানতে হয় তাদের! তা নাহলে নিজের ভুল স্বীকার করতে ভালো মানুষদের এত সমস্যা থাকবে কেন? নাহ! এইসব ভাবতে গেলে আবিরের প্রতি খুব বাজে ফিলিং হয় ওর। অথচ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ও ভালোবাসার অনুভূতিটাই তো মনে রাখতে চাইছিল সবসময়।

২৩ ফেব্রুয়ারির ওই বিকালে কাছে টেনে বসানোর পর আবির বলতেছিল- তুমি এমন বাংলার পাঁচের মতো মুখ করে বসে আছো, আর আমি সাভার থেকে কত কী ফ্যান্টাসাইজ করতে করতে আসলাম এখানে। ওর ওই কথায় বেশ অবাক হয় স্নেহা! নিজের থেকে এমন অ্যাপ্রোচ সম্ভবত ওইবারই ডিরেক্টলি প্রথম করছিল আবির। যদিও শেষ পর্যন্ত, কোনোদিনই না কী ও নিজ থেকে ইন্টিমেট হওয়ার এপ্রোচ করে নাই- এমনই দাবি ছিল ওর। খুব একটা ভুল দাবিও করে নাই আসলে। এই এপ্রোচ করার ওর তেমন প্রয়োজনই তো হয় নাই কখনো। স্নেহাই সবসময় ইন্টিমেট হতে চাইছে; আর ও যে বারবারই এটা চাবে- তা কি আবির জানতো না? না কি বুঝতো না? না বোঝার কি কোনো কারণ ছিল ওর? অবশ্য নিজেকে ডিফেন্ড করতে গিয়ে কত কিছুই তো শেষ পর্যন্ত ও অস্বীকার করলো! এইগুলা ভাবতেও স্নেহার খুব নোংরা লাগে এখন। বিশ্রী রকম একটা অনুভূতি হয়। অথচ ওই স্মৃতিগুলা ওর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সব থেকে দামি ছিল। কিন্তু শেষদিন আবিরের বিশ্রী-নির্লজ্জ সব ন্যারেটিভের আঘাতে সমস্ত সুন্দর স্মৃতিগুলার মৃত্যু ঘটলো। খুব নিখুঁতভাবে সবকিছু বিষাক্ত বানিয়ে স্নেহার সমস্ত এগজিসটেন্সকেই ও নোংরা আর সস্তা ফিল করিয়ে যেতে পারছে।

কোনোদিনই ও ইন্টিমেট হওয়ার এপ্রোচ করে নাই, বা ইন্টিমেট হতে চায় নাই- এই দাবিগুলা স্নেহা চাইলেই ভুল প্রমাণ করতে পারতো! কিন্তু ওই ছোটলোকিটা ওর করতে ইচ্ছা করে নাই। ওই অভ্যাসও ওর নাই, করার ইচ্ছাও হয় নাই কখনো। ‘কোনোদিন’ শব্দটা নিজের টুলস হিসাবে ব্যবহার না করে আবির যদি শুধু বলতো- ‘ম্যাক্সিমাম টাইম’ স্নেহাই ইন্টিমেট হতে চাইছে, ওই স্টেটমেন্টটা বরং তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক হতো। অবশ্যই স্নেহা ইন্টিমেট হতে চাইতো, বারবারই চাইছে। চাবেই বা না কেন? এই চাওয়াটাকে তো ও অস্বীকারও করে নাই কখনো। বরং বারবার স্পষ্টভাবেই স্বীকার করছে। এটা চাওয়াই কি স্নেহার জন্য স্বাভাবিক ছিল না? নিজের সর্বস্ব দিয়ে ও আবিরকে ভালোবাসছিল। এবং অফকোর্স, পাগলের মতোই ভালোবাসছে। লেট থার্টিজের একজন সিঙ্গেল নারীর জন্য লং ডিসটেন্সে থাকা তার পার্টনারকে বহু দিন পর পর কাছে পেলে এমন ডিজায়ার কি নরমাল আর ন্যাচারাল না? অথচ নিজেকে এক ‘পত্নীব্রত’ পুণ্যবান পুরুষ প্রমাণে, এই নরমাল আর ন্যাচারাল ব্যাপারটাকে শেষদিন আবির নিজের তলোয়ার হিসাবে ব্যবহার করে যা যা বলছে, তাতে স্নেহার মনে হইতেছিল- দুইটা বছর সম্ভবত ও আবিরকে ব্ল্যাকমেইল করে ওর সঙ্গে শুইতে বাধ্য করছে! ইয়া আল্লাহ! এই ভাবনায় নিজের কবর নিজেই খুঁড়ে জিন্দা শুয়ে পড়তে মন চাইতেছিল স্নেহার। 

আচ্ছা, ব্ল্যাকমেইল করে কেউ সেক্সুয়ালি এত ইন্টেন্সিভ মোমেন্ট ক্রিয়েট করতে পারে? তাও আবার প্রতিবারই? লাগাতার? দুই বছরের প্রতিটা সময়ই? স্ট্রেঞ্জ! নিজের পাওয়ার আর অ্যাবিলিটির কথা ভেবে স্নেহার কি প্রাউড ফিল করা উচিত, নাকি লজ্জার গলায় দড়ি দেওয়া? মাঝেমাঝে এই ভাবনায় ও খেই হারিয়ে ফেলে! ওর কাছে আবিরের স্থান ছিল অনেক অনেক উঁচুতে। একরকম পূজাই তো করতো ও আবিরকে। স্নেহার ধারণা ছিল, আবির ওর দেখা সবচেয়ে মার্জিত, বুদ্ধিমান এবং জেনুইন একজন জেন্টলম্যান; সাধারণ আর দশটা পুরুষের চেয়ে অনেক ঊর্ধ্বে। এই বিশ্বাসের কারণেই জীবনের এই পর্যায়ে, এই বয়সে এসেও অন্ধের মতো ও ভালোবাসছে। কিন্তু শেষমেশ, নোংরা সব ব্লেম গেমে সমস্ত কিছু অস্বীকার করার মাধ্যমে আবির নিজের ভেতরে থাকা ‘বেটাগীরি’টাকে আর লুকিয়ে রাখতে পারে নাই। গত দুই বছরের সমস্ত দায় যখন ও স্নেহার কাঁধে চাপিয়ে দিতে একটার পর একটা খোঁড়া যুক্তি দাঁড়, করাইয়া যাইতেছিল, দূর থেকেও স্নেহার মনে হইছে- দীর্ঘদিন ‘জেন্টলম্যানে’র আবরণে ঘাপটি মেরে থাকা আবিরের মুখোশটা চোখের সামনে ও খসে পড়তে দেখতেছে। ওই মুহূর্তে রাস্তা-ঘাটে যত্রতত্র ঘুরে বেড়ানো সস্তা পুরুষদের মতোই লাগতেছিল আবিরকে। হয়তো তাদের থেকেও বেশি নোংরা! আহ! স্নেহার জন্য এরচেয়ে হৃদয়বিদারক আর কী হতে পারে! ও কখনো ভাবতেই পারে নাই আবির এতটা নিচে নামতে পারে! বুকটা ওর ভেঙে খান খান হয়ে যাইতেছিল ওই মুহূর্তে! শেষ ওই কনভার্সেশনের পর অনেকদিন কোনো মানুষের সঙ্গে আর স্নেহা কথাই বলতে পারে নাই; এখনো পারে না ইন ফ্যাক্ট। মানুষ দেখলেই, মানুষের সঙ্গে কথা বলতে হবে ভাবলেই ওর গা গুলাতে থাকে, বমি বমি ভাবও চলে আসে মাঝেমধ্যে।

২৩ ফেব্রুয়ারির স্মৃতি ঘাটতে গিয়েই এতকিছু মনে পড়লো ওর। ওইদিনের আগে বা পরে অধিকাংশ সময়ই, হয় সিচ্যুয়েশনের ডিমান্ডে, অথবা স্নেহার এপ্রোচেই ওরা ইন্টিমেট হইছে। বরং ওইদিন আবির এত ডিরেক্ট এপ্রোচ করার পরও স্নেহার কিছুটা অনীহা ছিল ফিজিক্যাল কারণে। ওইটা ও বলেও। তা সত্ত্বেও আবির আবারও একই এপ্রোচ করলে ওরা কিংফিশার থেকে বের হয়ে বনানীর এনচ্যানটেডে যায়। সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত বেশ কয়েক ঘণ্টা ওইখানে ইনটেন্স সময় কাটানোর পর রাতে আরেকবার গিয়ে কিংফিশারে বসে। ঘণ্টা খানিক পর আবিরের সাভার ফেরার সময় হলে, আরেকটু সময় একসঙ্গে থাকার জন্য স্নেহাও কিছুটা পথ ওর সঙ্গে যায়।

গুলশান ২ থেকে গাবতলী পর্যন্ত ওই যাত্রার এক ফাঁকেই আবিরের ফ্যামিলির রাজশাহীতে মুভ করার কথা জানতে পারে ও। যদিও আবির নিজে থেকে জানায় নাই। স্নেহা বুঝতে পেরে প্রশ্ন করার পর আবির কনফার্ম করে। শ্যামলী সিনেমা হলের সামনে ট্র্যাফিক জ্যামে বসে হঠাৎই আবির বলতেছিল- আবার কবে ঢাকায় আসবো জানি না। কবে আবার দেখা হবে কে জানে! হয়তো এক বছরের আগে না। তখনই স্নেহা বুঝতে পারে, আবিরের ফ্যামিলি রাজশাহী মুভ করবে বলেই এক বছর আর ঢাকায় আসার প্রয়োজন হবে না ওর। এটা বোঝার জন্য সায়েন্সের স্টুডেন্ট হওয়া লাগে না। এসএসসি-এইচএসসিতে বাণিজ্য শাখার ছাত্রী হয়েও ঠিকই ও পরিষ্কার বাকি সিনারিও বুঝে ফেলে। তারপরও জানতে চায়- তোমার ফ্যামিলি মুভ করতেছে ওইখানে?

একটা অপরাধীর মতো চেহারা বানিয়ে আবির হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ায়। কিন্তু কী কারণে কে জানে, ওর চোখ লুকানোর চেষ্টা স্নেহার চোখকে এড়াতে পারে নাই ওই সময়। কবে তারা যাইতেছেন জানতে চাইলে ওর এক শব্দের উত্তর, ছিল- সুন। একটু পর আবার নিজে থেকেই বলতে থাকে- আমার মেয়েটা নরমাল চাইল্ড না। এবার এসে উই বোথ সিট উইদ হার সাইকিয়্যাট্রিস্ট। আলাদা আলাদাভাবেও ওর মায়ের সঙ্গে ও সেশন নিছে, আমার সঙ্গেও। মেয়েটা সাইকিয়্যাট্রিস্টকে অনেককিছু বলছে যেটা আমাদের বলে না। ওর সাইকিয়্যাট্রিস্টই আমাদের সাজেস্ট করছেন, শি নিডস বোথ অব হার প্যারেন্টস উইদ হার। একা একা ফ্ল্যাট থেকে ও বের হয়ে পড়ছিল কয়দিন আগে।

এক নাগাড়ে কথাগুলা বলার সময় বারবারই ও চোখ লুকানোর চেষ্টা করে যাইতেছিল। স্নেহার নজরকে একবারের জন্যও ওই চেষ্টা এড়াতে পারলো না। খুব মনোযোগ দিয়ে ওর কথা শুনতে থাকলেও চোখের ওই লুকোচুরির চেষ্টায় স্নেহার বারবারই ফিল হইতেছিল- সামথিং ইজ ডেফিনিটলি ফিশি! পুরাপুরি কিছু না বুঝলেও, আবির যে তখন অর্ধসত্য বলতেছে, এইটুকু ও বুঝতে পারে। এক নাগাড়ে মেয়ের কথা বলার পর পরই আবির ওর মুখটাকে খুব দুঃখী দুঃখী বানানোর চেষ্টা করে। কোনটা মানুষের ভেতর থেকে আসা এক্সপ্রেশন, কোনটা ফেক- বোঝার ক্যাপাবিলিটি থাকলে, অল্প খেয়ালেও বুঝতে পারা যায়। স্নেহার শৈশব-কৈশোর, এমন কী সমস্ত যৌবন কেটে গেছে মানুষ দেখতে দেখতে। চোখ দেখলেই বহুকিছু টের পায় ও।

ওই একই ফেক দুঃখী মুখটা নিয়ে আবির বসে ছিল গাড়ির ভেতরে। স্নেহার জন্য ওর খুব খারাপ লাগতেছে বা সামনেও লাগবে- এমনটাই বোঝানোর চেষ্টা ছিল ওর ওই এক্সপ্রেশনে। স্নেহা ওকে হাসতে হাসতেই বলে- ধুর বোকা! ফ্যামিলি তোমার কাছে গিয়ে থাকবে, এটাই তো স্বাভাবিক! এটা আমাকে এই কয়দিনে বলতে পারতেছিলা না কেন তুমি? ওই প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে চোখ-মুখে আরো বেশি দুঃখী একটা ভাব নিয়ে ও চুপ করেই থাকে।

ওই রাতে স্নেহা কিছু ডট জোড়া লাগানোর চেষ্টা করলে ৬ ফেব্রুয়ারি রাতের ভিডিও কলের কান্না আর সঙ্গত কারণে ভালো না বাসতে পারার হিসাব কিছুটা মেলাতে পারে। ওর মস্তিষ্ক তাৎক্ষণিক রেড ফ্ল্যাগের ইঙ্গিত দিলেও মন তখন অলরেডি জুনুনের রাস্তায় ডান পা দিয়ে, বাম পা প্রবেশের অধীর প্রতীক্ষায় ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। এর ঠিক পরদিন রাত পৌনে দশটা থেকে পরবর্তী ৪৬ ঘণ্টা ৪২ মিনিটের সময়কাল স্নেহার জীবনে হয়তো কাল হয়ে আসছিল, সম্ভবত আবিরের জীবনেও। ওই ৪৬ ঘণ্টা ৪২ মিনিট স্বেচ্ছায়; সজ্ঞানে, নিজের সিদ্ধান্তে, স্বপ্রণোদিত হয়েই আবির ওর সঙ্গে ঢাকায় অবস্থান করছে। কেউ এর জন্য ওকে ফোর্স বা ব্ল্যাকমেইল করে নাই, কোনো অনুরোধ বা কৃপা ভিক্ষাও জানায় নাই, ভয়-ভীতিও প্রদর্শন করে নাই।

বৃষ্টি থেমে আসছে। কালো মেঘগুলা ভেসে ভেসে সরে গিয়ে নীল-সাদা অংশকে দৃশ্যমান করে তুলতেছে। আকাশের রঙ পরিবর্তন দেখতে গিয়ে স্নেহার খুব জানতে ইচ্ছা করলো- ওই ৪৬ ঘণ্টা ৪২ মিনিটের স্মৃতি কেন আবির বেমালুম গুম করে দিয়ে এর ৫ মাস পরের আলাপগুলাকেই বারবার মুখ্য করে তুলতেছিল বিদায়কালে? কেন এই গুরুত্বপূর্ণ টাইম ফ্রেমটাকে পুরাপুরি ইগনোর করে বারবার কিছু সিলেক্টিভ বিষয়ই ও মেনশন করতেছিল? অথচ এই গুম করে দেওয়া সময়কালের মধ্যেই উত্তর লুকানো ছিল অনেক প্রশ্নের। ওইসব মেনশন করে শেষদিন ও আবিরকে ছোট করতে চায় নাই কোনোভাবে।

স্নেহা হয়তো ইমপালসিভ, হয়তো ইনসেনও। কিন্তু আবির ওর কাছে দেবতাই ছিল। ওকে ছোট করার মাধ্যমে নিজেকে ডিফেন্ড করার প্রয়োজন ওর কখনোই হয় নাই। ছোটলোকের মতো নোংরা ঘেটে আর সবকিছু অস্বীকার করে সমস্ত দায়ও ওর উপর চাপাতে চায় নাই ও। যেটুকু দায় আবিরের ছিল, এর কিছুটাও যদি ও স্বীকার করে নিতো, তাতে স্নেহার চোখে ও কোথায় আর কী অবস্থানে থাকতো- তাতে যদিও আবিরের কিছুই যায়-আসে না। কিন্তু ওর ওই দায় স্বীকারে ঘাড়ে থাকা দুইজন ফেরেশতা অন্তত স্পষ্টবাদিতার সাক্ষী হতে পারতো কেয়ামতের দিনের জন্য। এর বদলে তাদের সাক্ষী হতে হলো- নগ্নভাবে একজনের উপর একতরফা সমস্ত দায় চাপিয়ে দিয়ে তাকে চূড়ান্ত পর্যায়ের অপমানের মাধ্যমে পৃথিবীতে বসবাসের অনুপযোগী করে তোলার। স্নেহা ভাবে- ওর অস্তিত্বে যেই তীব্র আঘাত আবির নিজেকে জিতাতে শেষ পর্যন্ত করে গেল, এতে ও শান্তি পেলো তো? পেলেই ভালো!

বিদায়ের আগে শেষ কনভার্সেশনে আবিরের কথাগুলা…উফফফফফ্! আবারও মাথা চেপে ধরে প্রচণ্ড যন্ত্রণায়। কী ভীষণ চাপ লাগে ওই ৭৫ মিনিটের কনভার্সেশনের কথা মনে পড়লে। মনটা সম্পূর্ণ বিষিয়ে উঠে। তবুও আবিরের জায়গায় নিজেকে রেখে বহুবারই ও ভাবার চেষ্টা করছে- আহত বাঘের হিংস্রতা তো কেবল আবির একাই দেখায় নাই, ও নিজেও তো দেখাইছে। কিন্তু তাই বলে…সমস্ত কিছু মিথ্যা প্রমাণ করতে চেয়ে? শেষ তো এমনিতেই হয়ে গেছিল, তবুও কেন ওর এত নোংরা আর নগ্নভাবে ওই হিংস্র রূপটা দেখানোর প্রয়োজন হলো? নিজেকে ডিফেন্ড করতে গিয়ে সমস্ত সুন্দর মেমোরি, একসঙ্গে কাটানো প্রতিটা মুহূর্তকেই শেষ পর্যন্ত ও ধ্বংস করে ছাড়লো। মুহূর্তের মধ্যেই সব অনুভূতিকে অস্তিত্বহীনতায় পরিণত করলো কত নির্বিকারভাবে!

শেষদিন বলা ওর কথাগুলা স্নেহার এখনো বিশ্বাস করতে ইচ্ছা করে না। এখনো ওর মনে হয়, আবির সব সত্য বলে নাই বরাবরের মতোই। রাগে বলছে, জেদে বলছে, ক্ষোভ বা আতঙ্ক থেকে বলছে। কিংবা ওর মোটিভই ছিল নিজেকে ডিফেন্ড করার মাধ্যমে সব শেষ করা। ও সেই চেষ্টাটাই করে গেছে কনভার্সেশনের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত। প্রথমে কাউন্টার দিতে গিয়েও স্নেহার এরপর মনে হইছে- আবির যদি এভাবেই শেষ করতে চায়, এভাবে শেষ করেই যদি ও শান্তি অথবা মুক্তি পায়, করুক। প্রশ্ন করতে গেলেই বিদায়টা আরো বেশি কদর্য হবে।

কোন আবির যে সত্য বলতো; কোন আবির বা অর্ধ-সত্য, কোন আবিরই বা সত্য গুম অথবা আড়াল করতো- ফয়েল পেপারের নিচে তাপ দিতে দিতে মাল্টিপল পারসোনালিটির আবিরের মিক্সড সব বিহেভিয়রের একটা দীর্ঘ ফ্ল্যাশব্যাক দেখতে পেল ও চোখের সামনে- ফ্রম বার টু রিভার সাইড; ফ্রম লো টু হাই, ফ্রম রেড ফ্ল্যাগ টু বেড! ইটস প্রিটি হার্ড টু কাম টু এনি ক্লিয়ার কনক্লুশন ফ্রম হিজ দোজ মাল্টিপল অ্যান্ড মিক্সড বিহেভিয়র। ইম্যাজিন ড্রাগন্সের একটা গান ওর বেশ পছন্দের ছিল, হুট করেই এখন ওই গানটা স্নেহার মনে পড়লো-

লুক মি ইন দ্য আইজ,
টেল মি হোয়াট ইউ সি
পারফেক্ট প্যারাডাইস, টিয়ারিং অ্যাট দ্য সিমস
আই উইশ আই কুড এসকেইপ ইট,
আই ডোন্ট ওয়ানা ফেইক ইট
উইশ আই কুড ইরেইজ ইট,
মেইক ইউর হার্ট বিলিভ
বাট আই'ম অ্যা ব্যাড লায়ার, ব্যাড লায়ার
নাউ ইউ নো, নাউ ইউ নো
আই'ম অ্যা ব্যাড লায়ার, ব্যাড লায়ার
নাউ ইউ নো, ইউ আর ফ্রি টু গো…

চেজিং দ্য ড্রাগন: মাঞ্জা সুতা

Comments

    Please login to post comment. Login