Posts

উপন্যাস

চেজিং দ্য ড্রাগন: ব্যাড লাইয়ার

March 22, 2026

Shifat Binte Wahid

Original Author সিফাত বিনতে ওয়াহিদ

100
View

বসন্তকালে এমন বজ্রবৃষ্টির নজির ভালো না খারাপ- জানালা গলে বৃষ্টির ছাট গায়ে পড়তেই একবার মেঘে কালো আকাশটার দিকে উদাসীন তাকিয়ে ভাবলো স্নেহা। আধা ঘণ্টা আগেও এমন ঝড়ো বৃষ্টি হওয়ার কোনো লক্ষণ সে দেখে নাই। সিরিঞ্জ নিয়ে যখন ফার্মেসি থেকে ফিরে, আকাশ তখন ঝকঝকে পরিষ্কার ছিল, তার স্পষ্ট মনে আছে।

দীর্ঘশ্বাস তাকে বিট্রে করলেও নিজের মেমোরি সম্পর্কে বেশ কনফিডেন্স আছে স্নেহার। যদিও আবির মাঝে মাঝে দাবি করতো উত্তেজিত হয়ে গেলে স্নেহা কী বলে বা কী পরিমাণ ইনসেন আচরণ করে, তা নাকি স্নেহার মনে থাকে না। নিজের ইনসেন আচরণগুলা চোখের সামনে ফ্ল্যাশব্যাক হতেই আবিরের জন্য খারাপ লাগলো তার।

এই প্রথম লাগলো, এমন না। যতবার এমন ইনসিডেন্ট ঘটছে, এর পরপরই এবং এরপর যতবার সে ওইগুলা নিয়ে ভাবছে- প্রতিবারই নিজের আচরণের জন্য সে অনুতপ্ত হইছে। আবির তাকে মাঝে মাঝেই বলতো, তাহলে এমন আচরণ কেন করো? এর উত্তরটা এক কথায় দেওয়া কখনোই সম্ভব না, জানালার স্লাইড লাগাতে গিয়ে ভাবে স্নেহা। এসব আচরণের পেছনের কারণগুলা এতই জটিল আর সূক্ষ্ম যে স্নেহা কোনোদিনও তার ট্রিগারড হওয়ার কারণ আবিরকে বলে বোঝাতে পারে নাই।

প্রতিবারই এসব ইনসিডেন্টের পর স্নেহা এর পেছনের কারণ আবিরকে বলার ট্রাই করছে, কয়েকবার বলছেও। আবির হয়তো বুঝছে বা বোঝার ভান করছে। বুঝতে পারলে আবারও একইভাবে ট্রিগার করতো বলে স্নেহার মনে হয় না। যদিও এটাকে আবির ডিফেন্ড করতো এই বলে যে স্নেহাকে কিছু বলাই যায় না, সে এতই বেশি সেন্সিটিভ! স্নেহা সত্য সহ্য করতে পারে না, এমন অভিযোগও ছিল তার শেষের দিকে।

মানুষের সাইকোলজি খুব জটিল! স্নেহা জানে তার বর্ডার লাইন পারসোনালিটি ডিজঅর্ডার আছে। নিজের ট্রিগার পয়েন্টগুলা নিয়ে সে সচেতন থাকার চেষ্টাও করে, তবে সবসময় পারে না। এটা তার সীমাবদ্ধতা। বিশেষ করে আবিরের সঙ্গেই ট্রিগারড হওয়ার ব্যাপারগুলা বেশি ঘটছে বলে আবির এর রিয়্যাকশনগুলাকে ক্যাশ করতে পারছে পরবর্তীতে। নাহলে সে ইনসেন, শি নিডস প্রফেশনাল হেল্প- এই কথাগুলা স্নেহাকে বলার আগে আবির নিজের মিক্সড আচরণগুলা নিয়েও ভাবার সুযোগ পেত, সংশোধনেরও।

এই একবিংশ শতাব্দীর অস্থির পৃথিবীতে প্রত্যেকেই কোনো না কোনো মানসিক অস্থিরতা অথবা ডিজঅর্ডার নিয়েই জীবন পার করছে বলে স্নেহার ধারণা। সে নিজেরটা জানে, অনেকেই জানে না। আবির কি জানে তার মধ্যে কী কী ডিজঅর্ডার আছে? এটা তার জানার প্রয়োজন হয় নাই কারণ সে নিজের আচরণগুলা স্বাভাবিক হিসেবে ধরে নিয়েই এতকাল জীবন যাপন করে আসছে।

গত বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারির আবিরের কথা মনে পড়ে স্নেহার। এর কিছুদিন আগেই সে রাজশাহী থেকে আবিরের সঙ্গে দেখা করে ফিরছিল। ফেরার আগে আবিরের ভুল সময় বেফাঁস কথা বলার রাগ কিছুদিন পুষে রাখছিল স্নেহা। ঢাকায় ফেরার পরও তাই অভিমানের সিলসিলা চলছিল কিছুদিন। এরমধ্যেই একদিন দুপুরে হুট করেই আবির স্নেহাকে টেক্সট করে- ওয়ানা মিট?

১৯ অথবা ২০ ফেব্রুয়ারি, ডেটটা এই মুহূর্তে এগজ্যাক্টলি স্নেহার মনে পড়তেছে না। ঠিক আজকের বৃষ্টির মতোই কোনো আগাম পূর্বাভাস ছাড়া আবিরের ওয়ানা মিট লেখা টেক্সটে স্নেহা সারপ্রাইজড হয় ওইদিন। যদিও আগে আবির এমন হুট করেই দেখা করার কথা জানাতো স্নেহাকে। তবুও ওইদিনেরটা স্নেহার কাছে খুবই আনএক্সপেক্টেড ছিল।

সেদিন বারে দেখা হয়, কয়েক ঘণ্টা গল্প-গুজবের পর স্নেহাকে আবির আফতাবনগরের বাসায় ড্রপ করে যায়। ঢাকায় ওইবার সে কেন এবং কতদিনের জন্য আসছে, সেসব নিজে থেকে কিছু জানায় না আবির। স্নেহাও জানতে চায় না। তখনো পর্যন্ত স্নেহা আবিরের ব্যক্তিগত ব্যাপারগুলো নিয়ে আগ্রহ দেখায় নাই কখনো, প্রয়োজনও হয় নাই। ইন ফ্যাক্ট রাজশাহীতে ট্রান্সফার হওয়ার আগ পর্যন্ত কোনোদিন নিজ থেকে স্নেহা আবিরকে দেখা করার কথাও বলে নাই। এমন কী দুই বছরে আবিরকে সে নিজে থেকে আগ বাড়িয়ে কোনো টেক্সটও দুই-একটা ব্যতিক্রম ঘটনা ছাড়া করে নাই।

বিকট বজ্রপাতের শব্দ হলো হঠাৎ! আকাশের বুক চিরে মাঝ বরাবর আগুন ঝলকানোর মতো একটা বিদ্যুৎ রেখা দেখা গেল। স্নেহা ওই বিদ্যুৎ চমকানোর দৃশ্য দেখতে দেখতেই ভাবার চেষ্টা করলো- ঠিক কখন থেকে আসলে তাদের মধ্যে জটিলতা শুরু হইছে? স্নেহা কি এমন ইনসেন প্রথম থেকেই ছিল? আবিরের ডুয়েল বিহেভিয়র প্যাটার্ন অথবা ইনকনসিসটেন্ট পারসোনালিটি এক্সপ্রেশনগুলা কি এর প্রভাবক না? স্নেহার মনে পড়ে, ওইবার সেকেন্ড টাইম দেখা হয় ২৩ ফেব্রুয়ারি।

প্রথমদিন দেখা করার পর বেশ কয়েকদিন যাবত আবির ঢাকাতেই ছিল, স্নেহা এটা টের পাচ্ছিল অথচ আবির নিজে থেকে এ বিষয়ে কিছু বলতেছে না দেখে তার অদ্ভুতও লাগতেছিল। এতে সে কিছুটা রেস্টলেসও হয়ে ওঠে। ২৩ ফেব্রুয়ারি কিংফিশারে বসে স্নেহা যখন তার পায়ের ছবি টেলিগ্রামের স্টোরিতে দিলো, আবির সে সময় কিংফিশারে আসছে জানিয়ে স্নেহাকে টেক্সট করে। ওইদিন স্নেহা প্রচণ্ড লো ফিল করতেছিল। ইন ফ্যাক্ট, এর এক দুইদিন আগে থেকেই সম্ভবত। আবিরকে সে এর আগের দিন দীর্ঘ একটা মেসেজও পাঠায় এসব নিয়ে।

ওইদিন দুপুরের পরপরই কিংফিশারে এসে হুইস্কি খেতে খেতে আগে স্নেহার ওই টেক্সট বের করে পড়ে আবির। এরপর অভিমানে মুখ কালো করে রাখা স্নেহাকে ডেকে ওর কাছে বসতে বলে। স্নেহা তবু কাছে যায় না, কিছুটা দূরত্ব রেখেই আগের মতো মুখ কালো করে বসে থাকে। আবির ওর হাত টেনে বলে- আমি খারাপ মানুষ ঠিক আছে, তাই বলে আমার কাছেও বসা যাবে না? স্নেহার ভেতরের বরফ গলতে আর বেশিক্ষণ লাগলো না। এরমধ্যেই আবির বললো, তুমি এমন বাংলার পাঁচের মতো মুখ করে বসে আছো, আর আমি সেই সাভার থেকে কত কী ফ্যান্টাসাইজ করতে করতে এখানে আসলাম। স্নেহা কিছুটা অবাক হয়।

আবির নিজ থেকে এমন অ্যাপ্রোচ বোধহয় ওইবারই প্রথম করছিল, অথবা প্রথম আর শেষবারও বলা যায়। এর আগে-পরে সবই হয় সিচ্যুয়েশনের ডিমান্ডে অথবা স্নেহার অ্যাপ্রোচে। বরং ওইদিন স্নেহার কিছুটা অনীহা ছিল। জোর ছিল আবিরেরই। বার থেকে বের হয়ে বেশ কয়েক ঘণ্টা তারা একসঙ্গে প্রচণ্ড ইনটেন্স সময় কাটায়। এরপর আবার বারে গিয়ে কিছুক্ষণ গল্প করে আবির যখন সাভার ফিরে যাবে, স্নেহাও কিছুটা পথ ওর সঙ্গে যেতে চাইলো, আরো কিছুটা সময় পাশে থাকার লোভে।

গুলশান ২ থেকে গাবতলী পর্যন্ত আবিরের সঙ্গে ওই রাতের যাত্রা পথে স্নেহা আবিরের ফ্যামিলি রাজশাহী মুভ করতেছে জানতে পারে। তবে সেটা আবির নিজে থেকে জানায় না। স্নেহা প্রশ্ন করে জানে। শ্যামলী সিনেমা হলের সামনে ট্র্যাফিক জ্যামে বসে আবির হুট করেই বলে- আবার কবে ঢাকায় আসবো জানি না। আবার কবে দেখা হবে কে জানে! হয়তো এক বছর আগে না।

স্নেহা তখনই বুঝতে পারে। আবিরের ফ্যামিলি ওর সঙ্গে রাজশাহী থাকবে বলেই ওর আর ঢাকায় আসার প্রয়োজন হবে না- এটা বোঝার জন্য স্নেহার সায়েন্সের স্টুডেন্ট হওয়া লাগে না। এসএসসি-এইচএসসিতে বাণিজ্য শাখার ছাত্রী হয়েও সে ঠিকই তা পরিষ্কার বুঝতে পারে। এরপর স্নেহা নিজ থেকেই জানতে চায়- তোমার ফ্যামিলি মুভ করছে ওখানে?

আবির মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ সূচক উত্তর দেয় ঠিকই, কিন্তু কী কারণে কে জানে, নিজের চোখ লুকানোর চেষ্টা করে। স্নেহা জানতে চায়, কবে? আবির বলে- সুন। একটু পর নিজে থেকেই বলতে থাকে, আমার মেয়েটা নরমাল চাইল্ড না। এবার এসে উই বোথ সিট উইদ হার সাইকিয়্যাট্রিস্ট। আলাদা আলাদাভাবেও ওর মায়ের সঙ্গে ও সেশন নিয়েছে, আবার আমিও ওর সঙ্গে গিয়ে সেশন নিলাম। মেয়েটা সাইকিয়্যাট্রিস্টকে অনেককিছু বলছে যেটা আমাদের বলে না।

ওর সাইকিয়্যাট্রিস্টই সাজেস্ট করছে শি নিডস বোথ অফ হার প্যারেন্টস উইদ হার। ও একা ফ্ল্যাট থেকে বের হয়ে পড়ছিল কয়দিন আগে। আবির এক নাগাড়ে কথাগুলা বলে সহজভাবেই, কিন্তু তখনো ওর মধ্যে চোখ লুকানোর বিষয়টা স্নেহার নজরে পড়তেছিল। আবিরের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনলেও ওর চোখ দেখে স্নেহার মনে হয়, সামথিং ইজ ডেফিনিটলি ফিশি! সেটা কী, তা না বুঝতে পারলেও এটুকু বুঝতে পারে- আবির অর্ধসত্য বলতেছে।

ওই রাতে আবিরের সঙ্গে গাবতলী পর্যন্ত গিয়ে ফিরে আসার সময় স্নেহা কিছু ডট মেলানোর চেষ্টা করলো। তাতে ৬ ফেব্রুয়ারি রাতের ভিডিও কলে আবিরের কান্না আর সংগত কারণে ভালো না বাসতে পারার হিসাব সে কিছুটা মেলাতে পারলো। স্নেহার মস্তিষ্ক তাকে রেড ফ্ল্যাগের ইঙ্গিত দিলেও তার মন তখন অলরেডি ভালোবাসার ষষ্ট স্তর জুনুনের পথে এক পা বাড়িয়ে ফেলছে। এর ঠিক পরদিন রাত পৌঁনে দশটা থেকে পরবর্তী ৪৬ ঘণ্টা ৪২ মিনিটের সময়কাল স্নেহার জীবনে কাল হয়ে আসছিল, সম্ভবত আবিরের জীবনেও। ওই ৪৬ ঘণ্টা ৪২ মিনিট স্নেহার সঙ্গে স্বেচ্ছায়, সজ্ঞানেই আবির ঢাকাতে স্টে করছিল। সেটাতে কেউ তাকে ফোর্স করে নাই, ভয়-ভীতিও দেখায় নাই।

বৃষ্টি থেমে আসছে। কালো মেঘগুলা ভেসে ভেসে সরে গিয়ে নীল-সাদা অংশগুলাকে দৃশ্যমান করে তুলতেছে। আকাশের রঙ পরিবর্তন দেখতে গিয়ে স্নেহার খুব জানতে ইচ্ছে করলো- তার সঙ্গে ওই ৪৬ ঘণ্টা ৪২ মিনিটের স্মৃতি কেন আবির বেমালুম গুম করে দিয়ে এর ৫ মাস পরের আলাপগুলাকেই বারবার মুখ্য করে তুলতেছিল বিদায়বেলা? কেন বারবার সে সিলেক্টিভ কিছু বিষয়ই মেনশন করতেছিল এই গুরুত্বপূর্ণ টাইম ফ্রেমটাকে পুরাপুরি ইগনোর করে? অথচ এই গুম করে দেওয়া সময়কালের মধ্যেই অনেক প্রশ্নের উত্তর লুকানো। স্নেহা সেটা মেনশন করে নাই শেষ সময়ে আবিরকে ছোট করা হবে ভেবে।

বিদায়ের আগে শেষ কনভার্সেশনে আবিরের কথাগুলা…উফফফফফ্! স্নেহা আবারও মাথা চেপে ধরে প্রচণ্ড যন্ত্রণায়। কী ভীষণ এক চাপ লাগে ওই ৭৫ মিনিটের কনভার্সেশনের কথা মনে পড়লে। মনটা বিষিয়ে ওঠে! স্নেহা তবুও আবিরের জায়গায় নিজেকে রেখে একবার ভাবে- আহত বাঘের হিংস্রতা তো কেবল আবির একাই দেখায় নাই, স্নেহাও তো দেখাইছে। কিন্তু তাই বলে…সমস্তটাই মিথ্যা করে! শেষ তো এমনিতেই হয়ে গেছিল, তবুও আবিরের কেন এই হিংস্র রূপটা দেখানোর প্রয়োজন ছিল এত নগ্নভাবে?

নিজেকে ডিফেন্ড করতে গিয়ে আবির তার সঙ্গে স্নেহার সমস্ত স্মৃতিকেই শেষ পর্যন্ত মিথ্যা বানালো। শেষদিনের কথাগুলা স্নেহার এখনো বিশ্বাস করতে ইচ্ছা করে না। এখনো তার মনে হয়, আবির শেষদিনও সব সত্য বলে নাই বরাবরের মতোই। ওর মোটিভই ছিল নিজেকে ডিফেন্ড করার মাধ্যমে সব শেষ করা। ও সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছিল। স্নেহা প্রথমে কাউন্টার দিলেও একটা সময় ওর মনে হইছে- ও যদি এভাবেই শেষ করতে চায়, করুক। প্রশ্ন করতে গেলে বিদায়টা আরো বেশি কদর্য হবে।

তবে কোন আবির যে সত্য বলে; আর কোন আবির অর্ধ-সত্য, কোন আবিরই বা সত্য গুম অথবা আড়াল করে- স্নেহা ফয়েল পেপারের নিচে তাপ দিতে দিতে মাল্টিপল পারসোনালিটির আবিরের মিক্সড সব বিহেভিয়রের যেন একটা ফ্ল্যাশব্যাক দেখলো! ফ্রম বার টু রিভার সাইড, ফ্রম লো টু হাই, ফ্রম রেড ফ্ল্যাগ টু বেড! ইটস প্রিটি হার্ড টু কাম টু এনি ক্লিয়ার কনক্লুশন ফ্রম হিজ দোজ মাল্টিপল অ্যান্ড মিক্সড বিহেভিয়র। স্নেহার মনে পড়লো ইম্যাজিন ড্রাগন্সের একটা গান আবিরের বেশ পছন্দের ছিল-

লুক মি ইন দ্য আইজ, টেল মি হোয়াট ইউ সি

পারফেক্ট প্যারাডাইস, টিয়ারিং অ্যাট দ্য সিমস

আই উইশ আই কুড এসকেইপ ইট, আই ডোন্ট ওয়ানা ফেইক ইট

উইশ আই কুড ইরেইজ ইট, মেইক ইউর হার্ট বিলিভ

বাট আইম অ্যা ব্যাড লাইয়ার, ব্যাড লাইয়ার

নাউ ইউ নো, নাউ ইউ নো

আইম অ্যা ব্যাড লাইয়ার, ব্যাড লাইয়ার

নাউ ইউ নো, ইউ আর ফ্রি টু গো…

চলবে…

Comments

    Please login to post comment. Login