বৃষ্টি থেমে আসছে। কালো মেঘগুলা ভেসে ভেসে সরে গিয়ে নীল-সাদা অংশগুলাকে দৃশ্যমান করে তুলতেছে। আকাশের রঙ পরিবর্তন দেখতে গিয়ে স্নেহার খুব জানতে ইচ্ছা করলো- ওর সঙ্গে ওই ৪৬ ঘণ্টা ৪২ মিনিটের স্মৃতি কেন আবির বেমালুম গুম করে দিয়ে এর ৫ মাস পরের আলাপগুলাকেই বারবার মুখ্য করে তুলতেছিল বিদায়বেলা? কেন বারবার ও সিলেক্টিভ কিছু বিষয়ই মেনশন করতেছিল এই গুরুত্বপূর্ণ টাইম ফ্রেমটাকে পুরাপুরি ইগনোর করে? অথচ এই গুম করে দেওয়া সময়কালের মধ্যেই অনেক প্রশ্নের উত্তর লুকানো ছিল। স্নেহা ওইটা মেনশন করে নাই আবিরকে ছোট না করতে চাওয়ার কারণে। স্নেহা হয়তো ইমপালসিভ, হয়তো ইনসেনও, কিন্তু আবির ওর কাছে দেবতাই ছিল। ওকে ছোট করার মাধ্যমে নিজেকে ডিফেন্ড করার প্রয়োজন স্নেহার কখনোই হয় নাই। ছোটলোকের মতো নোংরা ঘেটে সবকিছু অস্বীকার করে ওর উপর সমস্ত দায়ও স্নেহা কখনোই চাপাতে চায় নাই। যেটুকু ওর দায় ছিল, এর কিছুটাও যদি আবির নিজে থেকেই স্বীকার করে নিতো, তাতে স্নেহার চোখে ও কোথায় আর কী অবস্থায় থাকতো- তাতে আবিরের কিছুই যায়-আসে না অবশ্য, কিন্তু ওর ওই দায় স্বীকারে ওর ঘাড়ে থাকা দুইজন ফেরেশতা অন্তত ওর স্পষ্টবাদিতার সাক্ষী হতে পারতো কেয়ামতের দিনের জন্য...