প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজকে একসাথে অনেকগুলো সুন্দরের উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। রাষ্ট্রপতির সাথে এক কাতারে পাশাপাশি বসে নামাজ আদায় করেছেন। আজকাল কোলাকুলি বেদআতের দেশে কোলাকুলিও করেছেন। নামাজ আদায়কালে প্রফেসর ইউনূসের মতো দেখানো টুপি পরেন নাই। স্পষ্টভাবেই বার্তা দিয়েছেন তিনি -নামাজটা একান্ত নিজস্ব আচারনিষ্ঠার বিষয়। লোকদেখানোটা ধার্মিকের কাজ নয় বা ধর্মাচারের অংশও নয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর সিকিউরিটি স্টাফদের সাথে আন্তরিকতার সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কোলাকুলি করেছেন। সেটিও দেখতে দারুণ লেগেছে। কূটনীতিকদের সাথে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ে অতি উৎসাহী অপজিশন লিডারের মতো কাউকে ঝাপটে ধরেননি। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ অপর কোনো প্রাপ্তবয়স্কের পূর্বানুমতি ছাড়া জড়িয়ে ধরাটা নৈতিকতার কোনো মানদণ্ডেই জাস্টিফাইড হয় না। সেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ম্যানার মেনে কূটনীতিকদের সাথে হ্যান্ডশেক ও হাসি বিনিময়টা গুড কনডাক্ট ও পরিমিতিবোধের পরিচায়ক।
কারা নির্যাতিত সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে তারেক রহমান ফোন করেছেন। কুশলাদি বিনিময়ের সাথে ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতিও আনিস আলমগীরকে পত্রযোগে বঙ্গভবনে ঈদ শুভেচ্ছায় নিমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। এরমধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়, প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সমালোচনা করার জন্য সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা খাওয়া এবং গ্রেফতার করাটা আনিস আলমগীরের প্রতি চরম অবিচার ছিল। এর মানে দাঁড়ালো প্রফেসর ইউনূসও জনগণের ওপর ব্যক্তিগত আক্রোশ মিটিয়েছেন। অনেক ভুলভাল কাজ করেছেন -যা রাষ্ট্রীয় সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের জন্য চরম ক্ষতিকর। এটি কালে কালে আরো প্রমাণিত হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একমাসে যতটুকু পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন তাতে আশাবাদী হওয়ার মতো অনেকগুলো ব্যাপার আছে। তিনি অতীত নিয়ে পড়ে থাকবেন না এবং অন্যের প্রতি বিষোদগার কিংবা প্রতিশোধস্পৃহাকে পাত্তা দেবেন না -এটি খুব ভালোভাবে প্রতিভাত হচ্ছে।
অনেকেই ভাবছেন মৌলভিদের ডেকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী পাত্তা দিয়েছেন। বিএনপির সমালোচক চরমোনাইয়ের পীর সৈয়দ ফয়জুল করিমকে দিয়ে ইমাম ও মোয়াজ্জিনদের ভাতা প্রদান শুরু করেছেন। আমরা মনে করি খুব দূরদর্শী চিন্তা থেকেই প্রধানমন্ত্রী এমনটা করেছেন। স্মরণ করা যেতে পারে নির্বাচনের আগে হেফাজতের আমির
নবতিপর আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী লিখিতভাবে বিএনপিকে সমর্থন জানিয়েছিলেন। এবং জামায়াতকে ভোট দিতে দেশবাসীকে বারণও করেছিলেন। বলেছিলেন প্রকৃত ইসলামের ধারক জামায়াত নয়।
রাজনীতিতে টিকে থাকতে হলে অপজিশনকে নার্সিং করতে হয়। হ্যান্ডেল করা জানতে হয়। বিএনপির সামনে ক্ষমতাচ্যুত আ.লীগ এখন অপজিশন নয়। বিএনপির প্রতিপক্ষ হলো জামায়াত এবং এনসিপিসহ তাদের সহযোগীরা। জামায়াতকে বাগে রাখতে হলে তারেক রহমানকে ভিন্ন আকিদার মৌলভি তথা হেফাজত বা চরমোনাইয়ের পীরকেই লাগবে। লাগবে নিষ্কলুষ আওয়ামীপন্থীদের সমর্থনও। কাজেই সময়ের দাবি মেনে যথোপযুক্ত রাজনৈতিক মিত্র খুঁজে নেয়ার কৌশলটাই হলো রাজনৈতিক পরিপক্কতা। আমরা দেখতে পাচ্ছি তারেক রহমান সেই ম্যাচিউরিটিই দেখাচ্ছেন। গণভোট ও জুলাই চার্টার ইস্যুতে এখন পর্যন্ত বিএনপির স্ট্যান্ড ইতিবাচক। যেটি ধরে রাখতে পারলে ফলাফল বিএনপির ঘরেই যাবে। এবং ভালোভাবেই চাপে থাকবে অপজিশন।
আজকে ঈদের দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এক মাসের পারফরম্যান্স নিয়ে আলাপ করলাম। সেই সাথে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে ঈদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে রাখলাম।
ফারদিন ফেরদৌস
২১ মার্চ ২০২৬