গ্রামের নাম ছিল শ্যামলডাঙা। চারদিকে সবুজ মাঠ, মাঝে একটা সরু নদী, আর সেই নদীর ধারে দাঁড়িয়ে থাকত রাহাত। তার চোখে সবসময় একটা স্বপ্ন—একদিন সে বড় হবে, নিজের গ্রামের জন্য কিছু করবে।
রাহাত খুব গরিব পরিবারের ছেলে। বাবা একজন দিনমজুর, মা বাড়ির কাজ সামলাতেন। তবুও রাহাতের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ছিল অসম্ভব বেশি। প্রতিদিন স্কুল শেষে সে নদীর ধারে বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবত, “একদিন আমি এই আকাশের মতো বড় হবো।”
একদিন স্কুলে নতুন এক শিক্ষক এলেন—নাম তার আরিফ স্যার। তিনি রাহাতের ভেতরের আগুনটা বুঝতে পারলেন। একদিন ক্লাস শেষে তিনি রাহাতকে ডাকলেন।
“তুমি বড় হয়ে কী হতে চাও?” স্যার জিজ্ঞেস করলেন।
রাহাত একটু লজ্জা পেয়ে বলল, “আমি ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই, স্যার… যাতে আমাদের গ্রামে ভালো রাস্তা আর ব্রিজ বানাতে পারি।”
স্যার মুচকি হেসে বললেন, “স্বপ্নটা বড়, কিন্তু তুমি পারবে—যদি হাল না ছাড়ো।”
এরপর থেকে স্যার রাহাতকে আলাদা করে পড়াতে শুরু করলেন। বই দিলেন, সাহস দিলেন, আর শেখালেন—কঠোর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই।
বছর কেটে গেল। অনেক বাধা এলো—টাকার অভাব, পরিবারের চাপ, সমাজের কথা। কিন্তু রাহাত থামেনি। সে নিজের স্বপ্ন আঁকড়ে ধরে রেখেছিল।
অবশেষে, একদিন সে শহরের একটি বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেল। পুরো গ্রাম যেন আনন্দে ভরে উঠল।
কয়েক বছর পর…
শ্যামলডাঙা গ্রামের সেই নদীর উপর একটি সুন্দর ব্রিজ তৈরি হলো। গ্রামের মানুষ এখন সহজেই শহরে যেতে পারে। আর সেই ব্রিজের পাশে একটা ছোট সাইনবোর্ডে লেখা—
“প্রকৌশলী রাহাতের উপহার”
রাহাত আবার সেই নদীর ধারে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকাল। আজ তার চোখে কোনো স্বপ্ন নেই—কারণ তার স্বপ্ন আজ বাস্তব।
সে মৃদু হেসে বলল,
“আকাশটা আজও একই আছে… শুধু আমি একটু বদলে গেছি।”
শেষ।
18
View