
সম্প্রতি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে জনপ্রিয় পরিচালক শিহাব শাহীনের নতুন ওয়েব সিরিজ "ক্যাকটাস"। তবে মুক্তির পর থেকেই সিরিজটির একটি বিশেষ চরিত্র এবং কিছু সংলাপ নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই সিরিজে ধর্মীয় পোশাকধারী বা মৌলভী চরিত্রকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু
সিরিজটির কিছু দৃশ্যে দেখা যায়, একটি ধর্মীয় লেবাসধারী চরিত্রের মুখে অকথ্য গালিগালাজ ব্যবহার করা হয়েছে এবং তাকে চরমপন্থী বা নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত দেখানো হয়েছে। দর্শকদের একটি বিশাল অংশের দাবি, এ ধরনের চিত্রায়ন কেবল ইসলাম ধর্মকে খাটো করে না, বরং সমাজে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেওয়ার একটি অপপ্রয়াস।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন যে, বিনোদনের নামে বারবার একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু বানানো বা তাদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা সুস্থ সংস্কৃতির পরিচায়ক নয়।
জনদাবি ও প্রতিক্রিয়া
ইতোমধ্যেই ইন্টারনেটে অনেক দর্শক পরিচালক শিহাব শাহীনের এই কাজের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। সমালোচকদের প্রধান দাবিগুলো হলো:
ধর্মীয় মূল্যবোধের অবমাননা বন্ধ করা: কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা তার অনুসারীদের অবমাননা করে এমন দৃশ্য সেন্সর করা।
আইনি পদক্ষেপ: ধর্মীয় উসকানি বা বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে পরিচালকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ।
পেশাগত নিষেধাজ্ঞা: ডিরেক্টরস গিল্ড বা সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করে।
শিল্পের স্বাধীনতা বনাম সামাজিক দায়বদ্ধতা
শিল্পীর স্বাধীনতা অবশ্যই অনস্বীকার্য, তবে সেই স্বাধীনতা যখন কোনো সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বিশ্বাসের মূলে আঘাত করে, তখন তা তর্কের ঊর্ধ্বে থাকে না। বিশ্লেষকদের মতে, একজন পরিচালকের সামাজিক দায়বদ্ধতা রয়েছে যাতে তার কাজ সমাজে বিভেদ বা ঘৃণা তৈরি না করে। "ক্যাকটাস" সিরিজের ক্ষেত্রে যে অভিযোগগুলো উঠেছে, তা যদি সত্য হয়, তবে এটি আমাদের সুস্থ ধারার নাট্যচর্চার জন্য একটি অশনিসংকেত।
শেষ কথা

দর্শকদের পক্ষ থেকে দাবি উঠেছে যে- সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন অবিলম্বে বিষয়টি খতিয়ে দেখেন,বিতর্কিত অংশগুলো সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা করেন এবং এ বিষয়ে পরিচালককে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে অন্যথায় তাকে নিজ অন্যায় মেনে নিয়ে জনসম্মুখে ক্ষমা চাইতে হবে। সুন্দর ও সম্প্রতির বাংলাদেশে শিল্পের নামে কোনো প্রকার বিদ্বেষমূলক প্রচার কাম্য নয়।