Posts

চিন্তা

ওরা কেন জাইমা রহমানের পেছনে লাগছে?

March 23, 2026

ফারদিন ফেরদৌস

35
View

আমরা বরাবর নারীর ক্ষমতায়ন, সক্ষমতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের পারঙ্গমতা দেখতে চাই। কারণ আমরা বিশ্বাস করি মায়েরা জিতলে জয়ী হয় মানুষ। সেজন্যই কায়মনোবাক্যে চাই জাইমা রহমান যেন রাজনীতিতে থাকেন এবং দেশের নেতৃত্ব দেন। কিন্তু আমাদের এই নেক চাওয়াটায় জ্বলবে কাদের? যারা ডকুমেন্টেডভাবেই বিশ্বাস করে নারীরা দেশের নেতৃত্ব দিতে পারবে না। পুরুষের সমান অধিকার ভোগ করতে পারবে না। এই গোষ্ঠীটা ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে স্পষ্ট ব্যবধানে দেশের মেজরিটি পিপলের কাছ থেকে রিজেক্টেড হয়েছে। তারপরও এদের কোনো শিক্ষা হয়নি। ইনফ্যাক্ট উচিত শিক্ষা নেয়াটা এদের ধাতেই নেই।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জাস্ট একটা তথ্য শেয়ার করেছেন যে, 'জাইমা রহমান চেলসিতে গোলকিপার হিসেবে ডাক পেয়েছিলেন। কিন্তু মা বাবা চেয়েছিলেন খেলাধুলার চেয়ে পড়াশোনায় গুরুত্ব বেশি দিতে তাই জাইমার পেশাদার ফুটবলার হয়ে উঠা হয়নি।' এটা নিয়েই নিম্নস্তরের ট্রল শুরু করেছে নারীর ক্ষমতায়ন বিরোধীরা। রীতিমতো তাদের অন্তরজ্বালা শুরু হয়ে গেছে।

বাপু তোমরা যখন জ্বলে পুড়ে মরছ, সেসময় মিজ জাইমা রহমান পড়াশোনায় মনোনিবেশ করেছেন। তোমরা যখন অন্যের অনিষ্ট চিন্তা আর পরনিন্দা নিয়ে ব্যতিব্যস্ত থেকেছ সেসময় দিব্যি জাইমা রহমান নামের আগে ব্যারিস্টার অভিধা এঁকে নিয়েছেন। তিনি ফুটবল খেললে জ্বলে, কথা বললে জ্বলে, তিনি শাড়ি পরে বাইরে বের হলে তোমরা মগজ ঠিক রাখতে পারো না, চুল খোলা রাখলে তোমাদের গায়ে দাবানল ছড়ায় -এতে জাইমার কিছুই আসে যায় না।

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এদেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন, তাঁর স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন প্রধানমন্ত্রী, তদীয় পুত্র তারেক রহমানও এখন গণরায়ে সরকার প্রধান হয়েছেন। পৃথিবী যদি উল্টে না যায় একদিন জাইমা রহমানও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধান নির্বাহী হবেন। তোমরা যত পারো নারীবিদ্বেষ দেখাতে থাকো, এইদেশের নারীরা জাইমা রহমানকেই আইকন মানবে। এবং একদিন যথাসময়ে কোনো ক্ষিপ্র নারী ফুটবলার হাফপ্যান্ট পরে তোমাদের ঠিক পশ্চাৎদেশ বরাবর ২০০ কিঃমিঃ গতিতে ফুটবল মেরে দেবে। তোমরা নিজেদের কেমনে সামাল দেবে সেই ব্যবস্থা নিয়ে আগেভাগেই ভাবতে বসো।

তোমরা ভেবে নিয়েছিলে -জাইমা রহমান তোমাদের মনমতো চলবে। রক্ষণশীল হবে। ঘরে বসে থাকবে। জনপরিসরে মুখ দেখাবে না। কেনরে বাপু? তুমি নিজেকে মানুষ দাবি করো -জাইমাকে কেন দ্বিতীয় মানুষ ভাবতে বসেছ? তোমরাই বিপথে আছো -জাইমা একদম ঠিক ট্র্যাকে আছে। তোমাদের অন্ধকার ভাবনাটা কখনোই জাইমার ডেসটিনি না। বাংলাদেশের নারীরা ক্রিকেট খেলবে, ফুটবল খেলবে। অ্যাথলেট হবে। জিমন্যাস্ট হবে। বিজ্ঞানী, শিক্ষক, রাজনীতিবিদ, বিচারপতি ও ব্যুরোক্রেট হবে। নারীরা পড়াশোনা করবে। চাকরিবাকরি করবে। ব্যবসায়ী হবে। পুরুষের সমান সমান নেতা হয়ে উঠবে। চোখে চোখ রেখে কথা বলবে। তোমরা বললেই নারীদের কেন মুখ ঢেকে ঘরবন্দি হতে হবে? কেন নিজেরা স্বাবলম্বী না হয়ে স্বামীর গলগ্রহ হয়ে দাসত্বের জীবনযাপন করতে হবে নারীকে?

জাইমারহমান স্বাধীন, সুশিক্ষিতা নারী। তিনি বিনয়ী। তাঁর বাচনভঙ্গি কোমল সুমধুর। তিনি উদারনৈতিক ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলেন। তিনি বাঙালি সংস্কৃতিকে মনেপ্রাণে ধারণ করেন। তিনি পারিবারিক মূল্যবোধে ভীষণভাবে সচেতন। নেতৃত্বের গুণাবলী তাঁর সহজাত। তিনি নারী অধিকার রক্ষার আইকন হিসেবে নিজেকে প্রস্তুত করছেন এবং তা করে দেখাবেন। আর তোমরা? জাইমা রহমান ও তাঁর অনুসারীদের দেখে দেখে তোমাদের চান্দি গরম হতে হতে একদিন ছাইভস্ম হয়ে উড়ে যাবে। ওটাই তোমাদের নিয়তি ও ভবিতব্য।

যে দেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম সেদেশে কখনোই তোমাদের কুৎসিত দিবাস্বপ্ন পূরণ হবে না। 'নারী' কবিতাখানি আবার পাঠ করে এসো নামধারী পুরুষেরা।
সে-যুগ হয়েছে বাসি,
যে যুগে পুরুষ দাস ছিল না ক, নারীরা আছিল দাসী!
বেদনার যুগ, মানুষের যুগ, সাম্যের যুগ আজি,
কেহ রহিবেনা বন্দী কাহারও, উঠিছে ডঙ্কা বাজি!

লেখক: সাংবাদিক 
২৩ মার্চ ২০২৬

Comments

    Please login to post comment. Login