✨ শেষ ট্রেনের যাত্রী
রাত তখন প্রায় বারোটা। স্টেশনটা অদ্ভুতভাবে নির্জন—চারপাশে শুধু কুয়াশা আর দূরের কুকুরের ডাক। রেললাইনের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল রাহাত। তার চোখে ক্লান্তি, কিন্তু মনে এক অদ্ভুত অস্থিরতা।
আজই সে এই শহর ছেড়ে চলে যাবে—চিরদিনের জন্য।
হঠাৎ দূর থেকে ট্রেনের হুইসেল শোনা গেল। ধীরে ধীরে আলোটা কাছে আসতে লাগল। এটাই শেষ ট্রেন।
ট্রেনটা থামতেই রাহাত উঠে পড়ল। অবাক হয়ে দেখল, পুরো বগিতে সে ছাড়া আর কেউ নেই। জানালার পাশে বসে সে বাইরে তাকিয়ে রইল।
কিছুক্ষণ পর সে অনুভব করল, কেউ যেন তার সামনে এসে বসেছে।
মাথা তুলে তাকাতেই তার বুক কেঁপে উঠল।
একজন মেয়ে—সাদা শাড়ি, শান্ত মুখ, কিন্তু চোখে এক গভীর দুঃখ।
রাহাত জিজ্ঞেস করল, “আপনি কে?”
মেয়েটা মৃদু হাসল, বলল, “আমি এই ট্রেনের শেষ যাত্রী… অনেক বছর ধরে।”
রাহাতের শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল। “মানে?”
মেয়েটা জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল, “একসময় আমিও কারও জন্য অপেক্ষা করতাম। সে আসেনি… আর আমি এই ট্রেনে উঠেছিলাম। তারপর আর নামা হয়নি।”
ট্রেনটা হঠাৎ গতি বাড়াতে লাগল। চারপাশের দৃশ্য অদ্ভুতভাবে বদলে যেতে লাগল—স্টেশন, আলো, সব যেন মিলিয়ে যাচ্ছে।
রাহাত আতঙ্কিত হয়ে উঠল। “আমি নামতে চাই!”
মেয়েটা ধীরে বলল, “যারা শেষ ট্রেনে উঠে… তারা আর সহজে নামতে পারে না।”
ঠিক তখনই ট্রেনটা হঠাৎ ঝাঁকুনি দিয়ে থামল।
রাহাত চোখ খুলে দেখল—সে স্টেশনেই দাঁড়িয়ে আছে। ট্রেনটা নেই, মেয়েটাও নেই।
শুধু বাতাসে ভেসে আসছে এক ফিসফিসানি—
“ভাগ্য ভালো… তুমি এখনো সময় পেলে।”
রাহাত ধীরে ধীরে স্টেশন ছেড়ে বেরিয়ে গেল।
আর কখনো সে “শেষ ট্রেন”-এর জন্য অপেক্ষা করেনি।
25
View