হারানো চিঠির গল্প
পুরনো শহরের এক কোণে ছিল একটা ছোট্ট ডাকঘর। সময়ের সাথে সাথে আধুনিক প্রযুক্তি এসে যাওয়ায় সেখানে আর খুব একটা চিঠি আসত না। তবুও বৃদ্ধ ডাকপিয়ন করিম চাচা প্রতিদিন নিয়ম করে তার কাজ করে যেতেন।
একদিন বিকেলে, পুরনো কাঠের আলমারি পরিষ্কার করতে গিয়ে করিম চাচা একটা হলুদ হয়ে যাওয়া খাম খুঁজে পেলেন। খামের ওপর লেখা—
“প্রাপক: রিনা
ঠিকানা: ১২ নম্বর লেন, পুরাতন শহর”
চিঠির তারিখ দেখে তিনি অবাক হলেন—প্রায় ২৫ বছর আগের!
করিম চাচার মনে হলো, এতদিন পর হলেও চিঠিটা পৌঁছে দেওয়া উচিত। তিনি ঠিকানাটা ধরে খুঁজতে বের হলেন।
অনেক খোঁজাখুঁজির পর তিনি একটা পুরনো বাড়ির সামনে দাঁড়ালেন। দরজায় কড়া নাড়তেই এক মধ্যবয়সী মহিলা দরজা খুললেন।
— “আপনি কি রিনা?”
— “জি… আমি রিনা। কিন্তু আপনি?”
করিম চাচা চিঠিটা এগিয়ে দিলেন।
— “এটা আপনার জন্য… অনেক বছর আগে আসা একটা চিঠি।”
রিনার হাত কেঁপে উঠল। ধীরে ধীরে খামটা খুলে ভেতরের চিঠিটা পড়তে শুরু করলেন।
চিঠিটা ছিল আরিফ নামের এক যুবকের—
যে একসময় রিনাকে খুব ভালোবাসত।
চিঠিতে লেখা ছিল—
“রিনা,
আমি জানি না এই চিঠি তুমি পাবে কিনা। কিন্তু আমি তোমাকে বলতে চাই—আমি কখনো তোমাকে ভুলিনি। সেদিন না বলে চলে যেতে হয়েছিল, কারণ পরিস্থিতি আমাকে বাধ্য করেছিল। আমি ফিরে আসব… শুধু তুমি অপেক্ষা করো।
— তোমার, আরিফ”
চিঠিটা পড়ে রিনার চোখ ভিজে গেল।
তিনি ফিসফিস করে বললেন—
“আমি অপেক্ষা করেছিলাম… অনেক বছর।”
করিম চাচা চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলেন।
— “তিনি কি আর ফিরে এসেছিলেন?”
রিনা হালকা হাসলেন, চোখের পানি মুছে—
“না… হয়তো এই চিঠিটাই তার শেষ চেষ্টা ছিল।”
সন্ধ্যার আলো তখন ম্লান হয়ে আসছে। করিম চাচা ফিরে যাচ্ছিলেন, কিন্তু তার মনে হচ্ছিল—একটা চিঠি শুধু কাগজ নয়, এটা কারো জীবনের গল্প, কারো না বলা অনুভূতি।
আর কোথাও হয়তো, আরিফও অপেক্ষা করে গিয়েছিল—একটা উত্তর না পাওয়া চিঠির জন্য।
20
View