নিজের জন্য মায়া হয়। ইদানিং এ রকম অসহায়ত্ব দেখলে স্নেহার খুব ইচ্ছা করে নিজেকে একটু আদর করে দিতে। আবার ছোটবেলায় ফিরে যেতে মন চায় ইদানিং। খুব ছোট হয়ে যেতে ইচ্ছা করে। অনেক ছোট। যত ছোট হয়ে গেলে কোনোকিছু নিয়েই ওকে আর ভাবতে হবে না কখনো। এসবের মধ্যেই হঠাৎ নিজেকে ও প্রশ্ন করে- আবির কি এখন ওকে ঘৃণা করে? ওর কথা ভাবলেই নিশ্চয় আবিরের প্রচণ্ড রাগ হয়? এই ভাবনায় বুকটা কেঁপে ওঠে ওর। ও ভাবে- শেষ পর্যন্ত বাকিটা জীবন ওর আবিরের চোখে ঘৃণিত হয়ে বেঁচে থাকতে হবে? কিন্তু এর পরপরই মনে হয়, ঘৃণার অনুভূতিটা থাকার জন্য তো ভালোবাসার অনুভূতিটা আগে থাকা লাগবে। ঘৃণা আর ভালোবাসা দুইটাই খুব তীব্র অনুভূতি। একটা না থাকলে, অন্যটা থাকে না। ভালোবাসা ফুরালে এর বিপরীতে আসে উদাসীনতা, ঘৃণা না। আবির তো ওর ব্যাপারে আগে থেকেই উদাসিন। যেখানে ভালোবাসাই ছিল না কোনোদিন, সেখানে ঘৃণা কি আসে? স্নেহা উত্তর মেলাতে পারে না। কী একটা দ্বন্দ্ব কাজ করে ওর নিজের ভেতরে। ওর মনে হয়, আবিরের অনেক কথা শেষ দিনও পুরাপুরি সত্য ছিল না। আর কিছু ও স্ট্রেইট চিন্তা করতে পারে না। শুধু ভাবে- আবিরের ঘৃণাটাই কি শেষ পর্যন্ত প্রাপ্য ছিল ওর...