ফুল জিনিসটা মনে হয় আমার অমন পছন্দ না। আমার ভালো লাগে রঙিন সব রঙ।একটা সময় আমার ফোনের এলার্ম ছিল The Watson Brothers এর গান, ‘রঙ’ -
“ রাঙ্গিয়ে দাও রাঙ্গিয়ে নাও - আমার সত্ত্বাকে
আষাঢ়,শ্রাবণ, কার্তিক, পৌষ মাসে -
আমারমনে যেন রং লেগেথাকে … সারাটিক্ষন ”
এরপর মনে রঙ লাগায়ে আমি আরো ১০ মিনিট ঘুমাইতাম !
কিন্তু প্রথম যেবার সন্ধ্যায় Cherry Blossom দেখলাম ক্যাম্পাসে, অসহ্য সুন্দরে আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিলো। সন্ধ্যা শেষের তারা ভরা রাত, কি আশ্চর্য গাঢ় বেগুনী ফুলে ছেয়ে যাওয়া ক্যাম্পাস – আমার মনে হয়েছিল আমি কল্পনায় হাটছি কোন মায়াবী ইন্দ্রজালে। সে দৃশ্য এই পৃথিবীর কোন জায়গা হতে পারে না।
পরম করুনাময়, সবাইকে এই সুন্দর দেখতে দেন না …
জায়গাটার নাম Quadrangle, পোলাপাইন ডাকে কোয়াড। বছরের অন্য সময়ে, চারপাশের গৌথিক স্থাপত্যের উঁচু বিল্ডিং এর আড়ালে, প্রায় ৯০ বছরের পুরোনো এইসব জাপানী ইউশিনো গাছ সেভাবে চোখে পড়ে না। ফ্ল্যাট বাড়িতে জন্মানো মানুষ; গাছ চিনি না, আমি তো ভাবসিলাম এইসব হবে আর কি কোন বট কিংবা অশ্বথ !
জাপানীরা বন্ধুত্বের নিদর্শন স্বরুপ আমেরিকাকে দেয়া এইসব গাছ এখন University of Washington’র আইকন। বছরের মার্চ মাসে দরজা খুলে দেয়া হয়, মানুষ দল বেধে মুগ্ধ হতে আসে। সকালবেলার দুধে আলতা রঙয়ের ফুল, রাতের বেলা কৃত্রিম বেগুনী আলোতে ক্যাম্পাস মাতিয়ে রাখে। এত সুন্দর যে, চোখ ফেরানো দায়।
আমার প্রার্থনা, প্রিয় মানুষকে শক্ত করে জড়িয়ে আপনি একদিন আমাদের ক্যাম্পাসে আসবেন। অসহ্য পারলৌকিক সুন্দরে দুজন গুটিগুটি পায়ে হেটে বেড়াবেন। যখন দুজনের পা আলো আঁধারের নূপুরে জড়িয়ে যাবে, আপনাদের মাথায় যেন গুনগুন করে বাজে লেভেল ফাইভের গান, ‘বিভোর’ -
“ যদি ঘুম ভেঙে যায়, মাঝরাতে -
তোমায় যেন দেখি, গভীর নিদ্রায় …”
একসাথে বেঁচে থাকলে, জীবনে মার্চ মাস আসবেই। আপনারা কেউ কাউকে ছেড়ে যায়েন না …
রাকীবামানিবাস
২৭শে মার্চ, ২০২৬
