Posts

উপন্যাস

শেষ বসন্ত

March 27, 2026

Ismart Jahan

18
View

শেষ বসন্ত,,

ইসমাত জাহান

পর্ব,১

ইলহাকে রাস্তায় একটা ছেলের সাথে দেখে ওর চাচা চাচি,, বিয়ে ঠিক করে তাও আবার একজন ডির্ভোসি ছেলের সাথে যার একটা ৩ বছরের বাচ্ছা আছে,,ও এ বিয়েটা করতে চায় না, কিন্তু চাচা চাচির মুখের উপর কিছু বলতে পারছে না,পুরো নাম ইলহা বিনতে নূর সবে ১৯ পা রেখেছে, এবার ইন্টার প্রথম বর্ষে,  ওর যখন ৮ বছর ছিল তখন ওর বাবা মা একটি দুর্ঘটানয় মারা যায়,তখন থেকে চাচা চাচি নিজের মেয়ের মতো করে বড় করে,কোনদিন অন্য চোখে দেখে নি কিন্তু এখন কেন তার চাচা চাচি তাকে এক বাচ্ছার বাপের সাথে বিয়ে দিতে চাইছে তা জানা নেই ইলহার, ৭ বছরের চাচাতো ভইয়ের থেকে শুনেছে ছেলের নাম নাকি আহিল রেজওয়ান,তাদের নাকি পারিবারিক ব্যবসা আছে, আজকে সন্ধ্যায় নাকি তাকে বিয়ে পড়িয়ে ঢাকা নিয়ে যাওয়া হবে,সময় চলমান ইলহা খাটের একপাশে বসে আছে,, তখন দরজাটা খট খট শব্দ করে খুলে যায়, এগিয়ে আসেন তার চাচি নাছিমা বেগম,,, তার হাতে একটি লাল টকটকে শাড়ি আর গহনা,, চাচি কে দেখে ইলহা জাপিয়ে পড়ে তার উপর হু হু করে কেঁদে উঠে নাছিমা বেগম ও শড়ির আছল দিয়ে চোখ মুছে নেয় তাদের হাতে যে কোন উপায় নেই,ইলহা মুখ তুলে কান্নারত স্বরে বলে,

চাচি আমি এ বিয়ে করতে চাই না,

নাছিমা বেগম ওর মাথাটা আবার বুকে চেপে ধরেন তিনি কি বলে শান্তনা দিবেন মেয়েটা কে, তিনি একই স্বরে জাবাব দেন, 

তুই সুখি হবি মা আহিল খুব ভালো ছেলে,

ইলহা এবার চাচির থেকে সরে আসে,কিছুটা বুজানোর তাগিদে বলে,

আমার সাথে ওই ছেলেটা আমাকে বোন ডাকে আমিও ওকে ভাইয়ের চোখে দেখি।

নাছিমা বেগমের মনটা হু হু করে উঠে কি করে বুজাবে কেন বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে, তিনি মন কে শান্ত করে একটু গর্ম্ভির স্বরে বলেন,

একটু পর সবাই চলে আসবে এটা পরে নিবি,

নাছিমা বেগম চলে যায় তিনি যায়, একটু পর কিছু মেয়ে এসে ওকে সাজিয়ে দিয়ে যায়, ইলহা আয়নার সামনে বসে নিজেকে খুটিয়ে খুটিয়ে দেখছে,ফর্সা গায়ে শাড়িটা যেন ফুটে উঠেছে, বাইরে মনে হয় ছেলের বাড়ির লোক চলে এসেছে হইচই শুনা যাচ্ছে,কিছুসময় পর তাকে বসার ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়, ছেলের বাড়ির লোক বলতে আছে ছলে তার কোলে তার মা আর ছোট একটি বাচ্ছা, কিছু সময়ের ব্যবধানে বিয়ে টাও হয়ে যায়, অতিথি দের খাওয়া দাওয়ার পর্ব শেষ, এবার বিদায়ের পালা, ইলহা তার চাচার দিকে তাকিয়ে আছে, ভদ্রলোক চোখের পানি টা মুছে নেন সযত্নে, আহিলের হাতের উপর ইলহার হাত রেখে কান্নারত স্বরে বলেন, 

আমার মেয়েটা কে দেখে রেখ বাবা,

আহিল চোখ দিয়ে আস্বাস দেয়, বিদায়ের পালা শেষ করে গাড়িতে উঠে পড়ে, গাড়িতে উঠার পরপর থেকে একটা বাচ্ছা ছেলে তার কলে জায়গা করে নিয়েছে, ছেলেটা কথা বলতে বলতে একসময় তার কলে ঘুমিয়ে যায়,, কিছুসময় পর ইলহার ও চোখ লেগে আসে, ড্রাইব করতে করতে লুকিং গ্লাসে সবকিছু দেখছে আহিল, কেন জানি তার একটু ও ভালো লাগছে না, মনে মনে কিছু একটা ভেবে নিজেকে সান্তনা দিল,

________________________

এই যে মিস শুনছেন আমরা চলে এসেছি,

কারও ডাকে ইলহা ঘুমে ক্লান্ত চোখ জোড়া খুলে সামনে দেখতে পায় তার সদ্য হওয়া স্বামিকে,তার চোখ থেকে ঘুম চলে উড়ে যায় এতসময় পর ইলহা আহিল কে একটু ভালো করে দেখে, ফর্সা গাল, চাপ দাড়ি, কঠোর বেক্তিত্তের অধিকারি, আর সিক্স ফেক সবকিছু তার আর্কষনিয়,, তাকে প্রথম দেখায় কেউ বলবে না তার যে একটা ৩ বছরের ছেলে আছে, ইলহা কে তার দি কে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে আহিল কিছুটা গম্ভির স্বরে বলে,

মিস আমরা চলে এসেছি ওকে আমার কলে দিন,

ইলহা এবার নিজের কলে দিকে তাকায়, তার কলে ছোট আয়াত ঘুমিয়ে আছে, আহিল এবার নিজে এগিয়ে এসে আয়াত কোলে নেয়, ইলহা গাড়ি থেকে নামে, আহিলের পেছন পেছন যেতে থাকে, সামনে একটা দোতালা ডুপ্লেক্স বাড়ি, তার শাশুড়ি আলিহা বেগম তাকে নিয়ে গিয়ে সোফায় বসিয়ে কিছুটা সোজন্য স্বরে বলেন, 

আমাদের বাড়িতে আমরা তিনজন ছাড়া কেউ নেই মা, তোমার সংসার তুমি গুছিয়ে নিয়,

এ বলে তিনি রান্নাঘরের দিকে চলে যায়, একটু পর ইলহাকে একটা ঘরে নিয়ে যাওয়া হয় বিগত এক ঘন্টা সে এই ঘরে বসে আছে, তার কোলে ঘুমিয়ে আছে আয়াত,,একটু পর দরজায় আওয়াজ হয়, আহিল এগিয়ে আসে ইলহাকে তার বিছানায় দেখে কিছুটা রাগি স্বরে বলে,

এই মেয়ে তুমি আমার রুমে কেন এসেছ, 

ইলহা কিছুটা ভিতু হয়, তারপর মিনমিনিয়ে বলে,

আমাকে আম্মু বলছে এটাই নাকি আমার রুম,

আহিলের মেজাজ খারাপ হয় এমনিতে তার মা তাকে ইমোশোনাল ব্ল্যাকমিল করে বিয়ে করিয়েছে এবার একটু চিৎকার করে বলে উঠে,

এই মেয়ে আমি তোমাকে কোনদিন ও নিজের স্ত্রী হিসেবে মেনে নিব না অধিকার দিব তোমাকে আমি বিয়ে করেছি শুধু আমার ছেলের দেখাশোনার জন্য,আসা করি তোমার মাথায় ডুকেছে আমি কি বলেছি,, 

আহিল এই বলে এক মূহর্ত ও দেরি করলো না ইলহাকে টেনে নিয়ে গিয়ে দরজার বাইরে রেখে চিৎকার দিয়ে বলল, 

তোমাকে এই ঘরে বা আসেপাশে যেন না দেখি, 

এই বলে দরজা টা বিকট শব্দে বন্ধ করে দেয়, দরজার শব্দে আলিহা বেগম তড়িগড়ি করে উপরে উঠেন এসে দেখেন ইলহা দরজার পাশে বসে ফুপিয়ে কাদঁছে,তিনি এসে ইলহার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে শান্ত স্বরে বলেন,

সব ঠিক হয়ে যাবে মা একটু শান্ত হ,,,

তিনি ইলহাকে পাশের ঘরে নিয়ে যায়, ইলহাকে বলেন ফ্রেশ হয়ে শুয়ে পড়তে যাওয়ার আগে  বলে যান আজকে থেকে  এটা তার নিজের ঘর, ইলহা এখনো কাদঁছে আর তার জীবনের হিসাব কষতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল,কাদঁতে কাদঁতে এক সময় খাটের একপাশে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ল,

চলবে,,

সবাই একটু পড়বেন আসা করি ভালো লাগবে,

Comments

    Please login to post comment. Login