রাতের এই নিস্তব্ধতা যখন আমাকে গ্রাস করতে আসে, তখন ঘরের দেয়ালগুলোও যেন জাবেদের সেই কণ্ঠস্বরে কথা বলে ওঠে। সে আমাকে ভালো রাখার জন্য কী ভীষণ অভিনয়টাই না করে গিয়েছিল! আমি ভাবতাম, সে হয়তো লোকলজ্জার ভয়ে আমাকে জনসমক্ষে আপন করে নিতে পারছে না, কিন্তু আড়ালে তো সে আমারই। অথচ আজ আয়নার সামনে দাঁড়ালে নিজের প্রতিবিম্বটাকেও অচেনা মনে হয়। আমি কী করে বুঝতে পারলাম না যে, সে আমাকে কখনো তার জীবনের অংশ করতে চায়নি? সে কেবল আমাকে একটা 'প্রয়োজন' হিসেবে ব্যবহার করেছে।
সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় এটা ভেবে যে, আমার ভালোবাসা তার জন্য এক মস্ত বড় বোঝা ছিল। সে আমার সাথে ফোনে কথা বলেছে বিরক্তি চেপে রেখে, আমার সাথে দেখা করেছে দায় মেটানোর জন্য। অথচ আমি বোকার মতো ভেবেছি, সে বুঝি আমার জন্যই সব ত্যাগ করছে। জাবেদ ইকবালের সেই চতুর হাসি আর মেকি যত্নের আড়ালে যে এতবড় এক নিষ্ঠুরতা লুকিয়ে ছিল, তা আমি টের পাওয়ার আগেই সে আমাকে নিঃস্ব করে দিয়েছে। সে তার সাজানো সংসারে ফিরে গেছে এক বিজয়ী বীরের মতো, আর আমাকে রেখে গেছে একরাশ অপবাদ আর ছয় লক্ষ টাকার একটা অভিশপ্ত চুক্তিতে।