আমি হাসলাম। বিষণ্ণ সেই হাসি। আমি তো নিজেকে তোমার নামে দলিল করে দিয়েছিলাম। আমার সত্তা, আমার অস্তিত্ব, আমার ভবিষ্যৎ—সবই তো তোমার নামের পাশে লেখা ছিল। তুমি যখন অন্য কারো ঘরনি হওয়ার সিধান্ত নিলে, তখন তুমি শুধু আমাকে ছাড়লে না, তুমি আমার অস্তিত্বের সেই দলিলটা ছিঁড়ে ফেললে।
অধ্যায় ৪: অচেনা রাজপথের সেই মুহূর্ত
আজ সেই দিন। যে দিনটা আমাদের ক্যালেন্ডারে থাকার কথা ছিল না। আমি রাস্তার একপাশে দাঁড়িয়ে আছি, আর তুমি ঠিক আমার পাশ দিয়ে হেঁটে গেলে। তোমার শরীরে এখন অন্য কারোর ঘ্রাণ, তোমার হাতে অন্য কারোর দেওয়া আংটি।
আমরা এতটাই কাছাকাছি ছিলাম যে, একসময় তোমার চোখের পাতা পড়ার শব্দও আমি টের পেতাম। আর আজ? আজ আমি তোমার ঠিক দুই ইঞ্চি দূর দিয়ে হেঁটে গেলাম, অথচ তুমি একবারের জন্যও তাকালে না। তোমার চোখে আমাকে চেনার কোনো চিহ্ন নেই। তুমি এমনভাবে আমাকে অতিক্রম করলে যেন আমি রাস্তার ধারের কোনো ল্যাম্পপোস্ট বা একটা জ্যান্ত পাথর।
আমি তোমাকে হারিয়ে ফেলার পর নিজেকেও আর খুঁজে পাইনি। কারণ আমি তো আর আমার মধ্যে নেই। আমি তো তোমার কাছেই রয়ে গেছি—সেই অবিক্রিত পাণ্ডুলিপি হয়ে, যা তুমি কোনোদিন আর পড়বে না। আমরা ভালোবাসা বাঁচাতে পারিনি, কিন্তু আমরা এক অদ্ভুত দূরত্ব তৈরি করতে পেরেছি। যে দূরত্বে মানুষ পাশাপাশি থেকেও অন্য গ্রহের বাসিন্দা হয়ে যায়।