ঢাকার আগারগাঁওয়ের মুক্তি হাউসিং এলাকায় ক্ষণিকালয় নামক বাড়িটি বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় এক সুখী ও সচ্ছল পরিবারের আস্তানা। এই বাড়ির বড় ছেলে বাপ্পি। সমাজের চোখে সে অত্যন্ত সফল একজন মানুষ। বাংলাদেশের আলোচিত এবং নানা বিতর্কে জড়িয়ে থাকা এক বড় রেস ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির ফিন্যান্সিয়াল হেড এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট সে। তার চলন-বলন আর আভিজাত্যে এক ধরনের ভারী ব্যক্তিত্ব খেলা করে। বাপ্পির স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ, প্রায় শয্যাশায়ী। তাদের সংসারে একটি ছেলে আর একটি মেয়ে আছে। বাপ্পির বাবা-মা, ছোট ভাই এবং ভাইয়ের বউ—সবাই এই একই ছাদের নিচে বসবাস করেন। পরিবারের বড় ছেলে হিসেবে বাপ্পির দায়িত্ব যেমন পাহাড়সম, তেমনি অফিসের অর্থকড়ির হিসাব মেলানো আর দুর্নীতির চোরাবালিতে পা ডুবিয়ে রাখা তার নিত্যদিনের কাজ।
বাপ্পি আর বাবলির এই গোপন সম্পর্ক বাড়তে থাকে। বাপ্পি বাবলিকে আগলে রাখার প্রতিশ্রুতি দেয়। তারা একে অপরের শরীরকে এক সুতোয় বেঁধে ফেলেছিল যেন কোনো ঝড় তাদের আলাদা করতে না পারে। বাবলি ভাবত, বাপ্পিই তার জীবনের সবটুকু। সে নিজেকে বাপ্পির নামে লিখে দিয়েছিল। অন্যদিকে বাপ্পিও তার স্ত্রী-সন্তানের মায়া আর অফিসের দুর্নীতির চাপের মাঝে বাবলিকে এক শান্তির দ্বীপ হিসেবে ধরে রাখতে চেয়েছিল। তারা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছিল—কীভাবে এই সমাজ আর বাস্তবতাকে ফাঁকি দিয়ে এক সাথে থাকা যায়।