https://rkmri.co/ylEyAmSTee3e/ বইটি নিতে চাইলে লিংকে ক্লিক করুন
অন্ধকারের ঋতু
আস্ট মাস—বাংলার আকাশে যখন মেঘের ভাঁজে ভাঁজে অন্ধকার জমে, তখন গ্রামগুলোতে নেমে আসে এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা। ধানের খেতের উপর কুয়াশার চাদর, নদীর বুকে শীতল বাতাস, আর মানুষের মনে এক অজানা আশঙ্কা। এই মাসে যেন প্রকৃতি নিজেই মানুষকে পরীক্ষা নেয়—ক্ষুধা, দারিদ্র্য, আর অজানা ভয়ের মধ্যে দিয়ে।
চরিত্রের জন্ম
এই গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে আছে মহিমা, এক কিশোরী মেয়ে। তার বাবা একজন কৃষক, যিনি আস্ট মাসে জমির ফসল নিয়ে সবসময় চিন্তায় থাকেন। মহিমার চোখে পৃথিবীটা অন্যরকম—সে অন্ধকারে আলো খোঁজে, দারিদ্র্যের মধ্যে স্বপ্ন দেখে।
তার বন্ধু রাহাত, গ্রামের এক দরিদ্র ছেলেও একইভাবে সংগ্রাম করে। দুজনের বন্ধুত্ব আস্ট মাসের অন্ধকারে যেন এক টুকরো প্রদীপ।
সংঘাতের শুরু
আস্ট মাসে গ্রামে খাদ্যের সংকট দেখা দেয়। নদীর পানি বেড়ে যায়, খেত ডুবে যায়। মহিমার পরিবারে খাবার কমে আসে। রাহাতের পরিবারও একই সমস্যায় ভোগে। গ্রামের মানুষরা বিশ্বাস করে, আস্ট মাসে অশুভ শক্তি ঘুরে বেড়ায়। রাতের বেলা তারা অদ্ভুত শব্দ শোনে, কেউ কেউ দাবি করে ছায়ামূর্তি দেখা যায়।
মহিমা কিন্তু এসব বিশ্বাস করে না। সে ভাবে—মানুষের ভয়ই আসল অশুভ শক্তি।
রহস্যের আবির্ভাব
এক রাতে মহিমা নদীর ধারে যায়। কুয়াশার ভেতর সে দেখে এক অদ্ভুত আলো। মনে হয় কেউ যেন তাকে ডাকছে। রাহাতও সেই আলো দেখে। তারা দুজন মিলে খুঁজতে থাকে—আলোটা কোথা থেকে আসছে।
গ্রামের বয়স্করা বলে—এটা আস্ট মাসের দেবতার সতর্কবার্তা। কিন্তু মহিমা ভাবে—এ আলো হয়তো নতুন আশার প্রতীক।
সংগ্রাম ও প্রতিরোধ
গ্রামে দুর্ভিক্ষ বাড়তে থাকে। মহিমা সিদ্ধান্ত নেয়, সে আলো খুঁজে বের করবে। রাহাত তার সঙ্গে যায়। তারা নদীর গভীরে গিয়ে দেখে—আলো আসছে এক পুরনো মন্দির থেকে। মন্দিরে খোদাই করা আছে—“অন্ধকারের ঋতু শেষে আলো আসবেই।”
এই বাক্য মহিমার মনে শক্তি জাগায়। সে গ্রামে ফিরে এসে সবাইকে বোঝায়—আস্ট মাসের অন্ধকার সাময়িক। যদি সবাই একসঙ্গে কাজ করে, তবে তারা টিকে থাকতে পারবে।
সমাধান
মহিমা ও রাহাত গ্রামের তরুণদের নিয়ে খাদ্য সংগ্রহ শুরু করে। তারা নদীর পাড়ে নতুন বাঁধ দেয়, খেত রক্ষা করে। ধীরে ধীরে গ্রামে আশা ফিরে আসে।
আস্ট মাসের অন্ধকার ভেদ করে মহিমা প্রমাণ করে—মানুষের ঐক্যই আসল আলো।
উপসংহার
আস্ট মাসের গল্প শেষ হয় মহিমার চোখে নতুন ভোরের আলো নিয়ে। অন্ধকারের ঋতু তাকে শিখিয়েছে—ভয় নয়, আশা-ই মানুষের শক্তি।