আত্মজীবনী বিভাগে চলতি বছরের ন্যাশনাল বুক ক্রিটিকস সার্কেল (এনবিসিসি) অ্যাওয়ার্ড জিতেছে অরুন্ধতী রায়ের স্মৃতিকথা ‘মাদার মেরি কামস টু মি’ । ২৬ মার্চ নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এনবিসিসির বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বুকারজয়ী ভারতের প্রখ্যাত এ লেখককে যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কারের বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
‘মাদার মেরি কামস টু মি’ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত হয়। অরুন্ধতী রায় তার মা মেরি রায়ের ঘটনাবহুল জীবনকে কেন্দ্র করে এই স্মৃতিকথাটি লিখেছেন। এই বইয়ে বুকারজয়ী লেখকের সঙ্গে তার মায়ের সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে ৬৪ বছর বয়সী এ লেখক বলেছেন, 'এটি আমার মায়ের সঙ্গে আমার সম্পর্ক নিয়ে লেখা। তিনি কীভাবে আমাকে আজকের এই লেখক বানিয়েছেন এবং তারপর তা নিয়ে অসন্তুষ্টও হয়েছেন তা তুলে ধরা হয়েছে।'
এই বইটি অরুন্ধতী রায়ের লেখা প্রথম স্মৃতিকথা। বহু বছর ধরে রাজনৈতিক প্রবন্ধ লেখার পর এর মাধ্যমে দীর্ঘ আখ্যানমূলক রচনায় তার প্রত্যাবর্তন হয়। বইটি তার লেখক হয়ে ওঠার পেছনের মূল অনুসন্ধানের একটি প্রয়াসও বটে। এটিকে দুজন অসাধারণ নারীর জীবনী ও আত্মজীবনী হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চলতি বছরের এনবিসিসি অ্যাওয়ার্ডের আত্মজীবনী বিভাগের চূড়ান্ত তালিকায় অরুন্ধতী রায়ের স্মৃতিকথা ছাড়াও জেরালডিন ব্রুকসের ‘মেমোরিয়াল ডেজ’, বেথ মেসির ‘পেপার গার্ল’, হানিফ কুরেশির ‘শ্যাটার্ড’, মিরিয়াম টোয়েজের ‘আ ট্রুস দ্যাট ইজ নট পিস’ জায়গা করে নিয়েছে।
অরুন্ধতী রায় ১৯৯৭ সালে ‘দ্য গড অব স্মল থিংস’ উপন্যাসের জন্য বুকার প্রাইজ জিতেছেন। তিনিই প্রথম ভারতীয় নাগরিক, যিনি সাহিত্যের মর্যাদাবান এই পুরস্কারটি পান। তার উল্লেখযোগ্য বইগুলো হল, ‘দ্য মিনিস্ট্রি অব আটমোস্ট হ্যাপিনেস’, ‘আজাদি’, ‘দ্য এন্ড অব ইমাজিনেশন’।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৭৪ সালে বুক ক্রিটিকস সার্কেল প্রতিষ্ঠিত হয়। এই প্রতিষ্ঠান থেকেই ১৯৭৬ সালের ১ জানুয়ারি প্রথম এনবিসিসি অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়েছিল। ইংরেজিতে প্রকাশিত সেরা সাহিত্যের জন্য প্রতি বছর ছয়টি ক্যাটাগরিতে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।