Posts

উপন্যাস

চেজিং দ্য ড্রাগন: কনসেন্ট পেপার

March 30, 2026

Shifat Binte Wahid

Original Author সিফাত বিনতে ওয়াহিদ

163
View

[ডিসক্লেইমার: এই গল্পে চিত্রিত প্রভাবশালী চরিত্র ও ক্ষমতার অলিগলি সম্পূর্ণ কাল্পনিক। মানুষের মনের গহীনের অন্ধকার ও জটিল প্রবৃত্তিগুলো বাস্তব হলেও, এখানকার চরিত্র, তাদের কর্মকাণ্ড এবং প্রেক্ষাপটের সঙ্গে বাস্তবের কোনো ব্যক্তি বা স্থানের মিল নেই।]

একটা সময় কোথায় যেন আটকে আছে বা একটা সময়কে আটকে রাখার তীব্র ইচ্ছাটা স্নেহাকে এখনো আত্মহত্যার পথে তেমন একটা উদ্বুদ্ধ করতে পারতেছে না বলে ওর মনে হইতেছে। ঘড়ির কাটা এখন রাত তিনটা সতের মিনিটের ঘরে। জেনেভা ক্যাম্প থেকে আসা পার্সেলটা ওর মস্তিষ্ককে যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে সজাগ রাখার দায়িত্ব পালন করতেছে। গত দেড় মাসের অভিজ্ঞতা বলে, এই ধোঁয়ার জার্নিই আপাতত জাগতিক সকল যন্ত্রণার তীব্রতা আর যুক্তি-তর্ক থেকে ওকে আড়াল করে রাখছে। না হলে, ভেতর থেকে সম্পূর্ণ ফাঁকা আর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাওয়া একটা মানুষ কোন যুক্তিতে বা কীসের জন্যই এত তীব্র হাহাকার নিয়েও বেঁচে থাকবে- এমন ভাবনা প্রায়ই ওকে কিছুটা সময় স্তব্ধ রাখে।

আবিরের অনুপস্থিতি এই মুহূর্তে ওর দুনিয়াটাই শুধু ভয়াবহভাবে ফাঁকা করে নাই, পাশাপাশি জীবনটাকেও এক প্রকার বিপন্ন করে তুলছে। এই যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার আগে এই রকম অসহনীয় শূন্যতার অনুভূতির সঙ্গে ওর পরিচয় অথবা কোনো ধরনের সংযোগই কখনো ছিল না। আবির ছিল ওর প্যাটার্নাল ট্রান্সফারেন্স। আব্বা চলে যাওয়ার পর অবচেতনভাবেই ও স্নেহার জীবনের এক বিশাল শূন্যতা পূরণে বিকল্প হয়ে উঠছিল। গত দুই বছরে ও-ই ছিল স্নেহার পুরা পৃথিবী। ওই পৃথিবী এখন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। স্নেহার পুরা সমস্ত অস্তিত্বই এখন ফাঁকা আর বীভৎস রকমের শূন্য। ভেতর আর বাইরের পুরাটাই ওর কাছে এখন জনশূন্য মরুভূমি ছাড়া কিছুই মনে হয় না আর। আত্মা, হৃদয়, আত্মমর্যাদা…একে একে সবকিছু হারানোর পর চূড়ান্ত বিদায়; এই বিদায়কে বরং স্নেহা মানুষের একমাত্র মুক্তি মনে করে। মুক্তির প্রতীক্ষায় বসে ও নিজের ধ্বংস হওয়া সেলিব্রেট করতেছে, এটা ভাবতেই মলিন একটা হাসি আসলো মুখে।

আব্বার প্রতি তীব্র ভালোবাসা, তীব্র অধিকার বোধ আর তার কাছেই একমাত্র নিজের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ার যে সহজাত প্রবৃত্তি ছিল ওর, নিজের অজান্তেই কখন আর কীভাবে যেন আবিরের মধ্যে ও এসব খুঁজে পাওয়া শুরু করছিল! এই ট্রানজিশনটা যে খুব কনসাশলি অথবা পরিকল্পিতভাবে হইছে, ওর তা মনে হয় না। আবির নিজেও একজন কন্যার বাবা, ওর অনেক আচরণের মধ্যেই স্নেহা মাঝে মাঝে আব্বার রিফ্লেকশন খুঁজে পাইতো। ওর ওই স্নেহ আর আদর-আদর আচরণগুলাই মনে হয় এই প্যাটার্নাল ট্রান্সফার ঘটাইছে।

স্নেহা ভাবে- এই পৃথিবীতে একমাত্র আব্বাই ওকে আনকন্ডিশনালি ভালোবাসতেন, অন্য কেউ কোনোদিন ওই আদর-ভালোবাসা অথবা প্রশ্রয় দেওয়ার ক্ষমতার ধারের কাছেও আসতে পারে নাই। আব্বা ছাড়া ওকে কেউ আসলে কোনোদিন ভালোই বাসে নাই হয়তো। ওর মনের ভেতরটা হাহাকার করে উঠলো! খুব অল্প বয়স থেকেই দুনিয়ার নানা যন্ত্রণার সঙ্গে যুদ্ধ করে জীবনটা পার করতে হইতেছে ওর; তবুও আব্বা যখন ছিলেন, ও জানতো- এই দুনিয়ায় অন্তত একজনের কাছে ওর অগাধ প্রশ্রয় আর প্রশান্তির জায়গা আছে। আব্বা চলে যাওয়ার পর আবির ছিল ওর সেই জায়গা। এখন প্রশ্রয়, প্রশান্তি, মানুষ অথবা আশ্রয়ের জায়গা…কোনোকিছুই আর কোথাও ওর জন্য থাকলো না।

আব্বার ক্যান্সার ধরা পড়ছিল অনেক দেরিতে। ২০২২ সালে এনজিওর একটা প্রজেক্টের কাজে এক মাস উনি রামু আর উখিয়ায় ছিলেন। তখন থেকেই জ্বর-কাশিটা ছিল, কিন্তু সিজনাল ফ্লু মনে করে অত পাত্তা দেন নাই। ঢাকায় আসার কয়েকদিনের মধ্যে প্রচণ্ড কাশির সঙ্গে রক্ত পড়া শুরু করলে বিষয়টার সিরিয়াসনেস বুঝে ডাক্তার দেখাতে যান। নানা রকম টেস্ট করার পর ডাক্তার জানান তার টিবি হইছে। ওইদিন হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরার পর থেকে বাধ্য ছেলের মতো উনি ডাক্তারের সমস্ত নির্দেশনাই মানতেছিলেন, কিন্তু তাতেও কোনো লাভ হইতেছিল না। কাশির আর রক্ত পড়া আগের চেয়ে আরো অনেক বেশি বাড়তে থাকে।

এরও প্রায় পনের দিন পার হওয়ার পর অনেক অনুনয়-বিনয় করে একটা সেকেন্ড অপিনিয়নের জন্য আব্বাকে আরেকজন ডাক্তারের কাছে নেওয়া হয়। ওইখানেই প্রথম ক্যান্সারের বিষয়ে অনুমান করা হইছে, কিন্তু বায়োপসি রিপোর্টে ক্যান্সারের কোনো আলামতই পাওয়া গেল না। আরো পনেরদিন টিবির ট্রিটমেন্ট নেওয়ার পর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে আরেকবার বায়োপসি আর পেট স্ক্যান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রায় দুই মাস ভুল ট্রিটমেন্টের পর ওই হাসপাতালের রিপোর্টে উনার লাং ক্যান্সার ধরা পড়ে। কিন্তু ততদিনে ক্যান্সার তার শরীরের অনেকগুলা অর্গানেই ছড়িয়ে যায়। রিপোর্ট পাওয়ার পরই ডাক্তার জানিয়ে দিছিলেন- লাস্ট স্টেজ!

দেশের চিকিৎসা সিস্টেমের উপর রাগ, ক্ষোভ আর বিরক্তি নিয়ে এর কয়েকদিনের মধ্যেই তাকে কলকাতার টাটা মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হলো। ওই লাস্ট স্টেজেই এপ্রিল ২০২২ থেকে জানুয়ারি ২০২৪ পর্যন্ত ক্যান্সারের সঙ্গে উনি একদম রিয়েল ফাইটারের মতো যুদ্ধ করলেন। অসংখ্য কেমো আর ইমিউনোথেরাপির ধকলের মধ্যেও উনি একবারের জন্যও মানসিক শক্তি হারান নাই। ৬ মাসের মাথায় তার শরীর থেকে সব ক্যান্সার সেল ভ্যানিশ হয়ে গেলেও ২০২৩ এর গোড়ার দিকে আবার ব্যাক করে। ওই বছর ডিসেম্বর থেকে তার শরীর চূড়ান্তভাবে খারাপ হওয়া শুরু করলো। ক্যান্সার ততদিনে তার শরীরের প্রতিটা ভাইটাল অর্গান একে একে কাবু করে ফেলেছিল। ব্রেনে ছড়িয়ে পড়ায় জানুয়ারির শুরুতে আব্বা স্ট্রোক করলেন। মন-শরীর-মস্তিষ্ক, আব্বার পুরা সিস্টেমই কলাপ্স করে। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানেই সবকিছু ভুলতে শুরু করলেন উনি, এমনকি স্নেহার নামটাও তার স্মৃতি থেকে ব্লার হয়ে গেল।

২০২৪ এর ২৪ ফেব্রুয়ারিতে আব্বা চলে গেলেন। ভাগ্যের কী বীভৎস পরিহাস! এর মাত্র তিন দিন পরই স্নেহার জন্মদিন ছিল। আব্বা চলে গেলেন ওর জন্মের মাসটাকে চিরস্থায়ী ট্র্যাজেডি বানিয়ে। ফেব্রুয়ারি এখন ওর জন্য শোকের এক অনিবার্য লিগ্যাসি। ওই বছরের পর থেকে জন্মদিনের কোনো অস্তিত্বই ওর কাছে আর নাই। ক্যান্সারের যন্ত্রণা কতটা ডিভাস্টেটিং হতে পারে, এই রোগে আক্রান্ত পেশেন্টদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক না থাকলে পৃথিবীর কারো পক্ষেই তা বোঝা সম্ভব না। তাতেও আসলে শুধু উপরের যন্ত্রণাটাই কাছের মানুষরা দেখতে পারেন, ভেতরের যন্ত্রণার কিছুই আঁচ করা যায় না যতক্ষণ পর্যন্ত কেউ নিজে এই রোগে আক্রান্ত না হন! এই মধ্যরাতে আব্বার ওই অসহ্য যন্ত্রণার কথা মনে পড়লো স্নেহার; ও সামনে গেলে প্রচণ্ড যন্ত্রণা নিয়েও উনি মুখে একটা হাসি আনার চেষ্টা করে বলতেন- সব ঠিক আছে। কিন্তু ও ঠিকই বুঝতে পারতো- কিছুই ঠিক নাই, কিছুই আর ঠিক হবে না কোনোদিন।

আব্বার মৃত্যু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ওর দায়িত্ববোধের বয়সকে এক ধাক্কায় বাড়িয়ে দিছিল। বাবার জন্য একটু কাঁদা অথবা কোথাও কয়েকটা মিনিট চুপচাপ স্থির থেকে নিজের এতিম হয়ে যাওয়ার কষ্টটা যে ও বোঝার চেষ্টা করবে, ওই সময় বা সুযোগ কোনোটাই ওর হয় নাই তখন। ২৪ তারিখ সকাল থেকেই আব্বার শরীরে প্রচণ্ড যন্ত্রনা শুরু হয়। এর দিন চারেক আগে থেকেই উনার খাওয়া-দাওয়া বন্ধ হয়ে গেছিল। আম্মার ধারণা ছিল, টাটাতে নিয়ে গেলে হয়তো উনি আবার ফাইট-ব্যাক করে কিছুটা সুস্থ হবেন। ফেব্রুয়ারিতে এই আশাতেই আবার কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। কিন্তু আম্মার ধারণা ওইবার আর সত্যি হয় নাই। ৩-৪ দিন হাসপাতালে নিয়ে গিয়েও কোনো ট্রিটমেন্ট দেওয়া গেল না। ২১ তারিখ খুব সকালে আবারও যখন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হইতেছিল, কয়েক মিনিট দূরত্বে থাকতেই স্নেহার কাছে মেইল আসে-

"অ্যাজ অফ নাউ, হি ইজ নট ফিট ফর ফারদার সিস্টেম্যাটিক থেরাপি।
হি উইল নিড প্যালিয়াটিভ কেয়ার অনলি।
টেক হিম ব্যাক টু বাংলাদেশ অ্যান্ড কন্টিনিউ প্যালিয়াটিভ কেয়ার। বেস্ট উইশেস।"

ডাক্তার অর্ণব ভট্টাচার্য, এমডি, ডিএম
কনসালটেন্ট মেডিকেল অনকোলজিস্ট
টাটা মেডিকেল সেন্টার, কলকাতা

মুহূর্তেই সকালটা বিষাদময় হয়ে উঠলো। মেইলটা পড়েই ও বুঝতে পারে- বিদায় আসন্ন, খুব বেশি সময় আর হাতে নাই হয়তো। ওর মুখ দেখে আম্মা, এমন কী আব্বা নিজেও বুঝতে পারেন। কিন্তু এই চরম সত্যটা জানা আর মেনে নেওয়ার মধ্যে বিরাট ফারাক আছে। এটা মেনে নেওয়া ছিল ওর জীবনের সবচেয়ে বড় ট্রমা। ২১ ফেব্রুয়ারি দুপুর সাড়ে ১২টার ফ্লাইটেই আব্বাকে নিয়ে ঢাকায় ফেরা হয়। মাঝে শুধু ২২ আর ২৩- এই দুইটা দিনই উনি ছিলেন। ওই দুই দিন ও একটু একটু পর পরই আব্বার ঘরের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে তাকে কিছুক্ষণ চুপচাপ দেখে চলে আসতো। ২৩ তারিখ রাতে ও যখন ওইখানে দাঁড়ানো, আব্বা তার পাশে রাখা বালিশটা ঠিক করে ওকে ইশারায় কাছে ডাকলেন। এর প্রায় এক মাস আগে থেকেই উনি কথা বলতে পারতেন না। তবে ও ঠিকই বুঝতে পারলো, উনি কী বলতে চাইতেছেন। ও পাশে গিয়ে বালিশে শোয়া মাত্রই মাকে যেভাবে সন্তানরা শৈশবে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ঘুমানোর চেষ্টা করে, ঠিক ওইভাবেই ওকে জড়িয়ে ধরে উনি চোখ বন্ধ করেন। সময় যে আর বেশি নাই, ওইটা বুঝেই হয়তো আব্বা নিজের সন্তানের স্পর্শে মায়ের মমতা খুঁজতেছিলেন শেষবারের মতো।

উনার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে স্নেহা গুন গুন করে গাইতেছিল- “ধীরে ধীরে আ রে বাদল, ধীরে ধীরে আ, মেরা বুলবুল সো রাহা হে, শোরগোল না মাচা…।” ছোটবেলায় আব্বা এই গান গেয়েই ওকে ঘুম পাড়াতেন। ওই রাতে স্নেহাও একইভাবে তাকে ঘুম পাড়ালো। পরদিন সকাল থেকেই উনার শরীরে প্রচণ্ড জ্বালাপোড়া শুরু হয়। গায়ে থাকা কাপড়ও উনি সহ্য করতে পারতেছিলেন না। দুপুরে আরো বেশি খারাপ অবস্থা হলে অ্যাম্বুলেন্সে করে জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পুরা রাস্তাতেই স্নেহা ভাবতেছিল, খাওয়া-দাওয়া না করার কারণে উনি দুর্বল হয়ে পড়ছেন। দুই-একদিন কেবিনে রেখে স্যালাইন দিলেই হয়তো তাকে রিলিজ দিয়ে দেবে। অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামানোর পরই ইমার্জেন্সির ডিউটি ডাক্তার আইসিইউতে নিতে হবে জানালেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ফিল আপ করে আইসিইউতে ভর্তি করার বিল দিতে রিসিপশনে গেল ও। বিল আর পেপার্সের ফরমালিটিজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ট্রিটমেন্ট শুরু করার নিয়ম নাই তাদের। কাঁপা কাঁপা হাতে ও যখন পেপার্সগুলা ফিল আপ করতেছিল, তখনই আবার খবর আসে- আব্বাকে লাইফ সাপোর্টে নিতে হবে।

আবার নতুন কাগজপত্র হাতে নিয়ে ফ্যামিলির রেসপন্সিবল অথোরিটি হিসেবে সব পেপার্সে ওকেই সাইন করতে হইতেছিল। ওইদিকে পেমেন্ট ক্লিয়ার না করলে লাইফ সাপোর্টের ট্রিটমেন্টও শুরু করা হবে না। ওর কাছে তখন পঞ্চাশ হাজার টাকা ক্যাশ ছিল না। দৌড়াতে দৌড়াতে সীমান্ত স্কয়ারের নিচের এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলে আবার দৌড়াতে দৌড়াতে রিসিপশনে গিয়ে টাকা জমা করে। কিন্তু ওই ফরমালিটিজ শেষ করার আগেই ডিউটি ডাক্তার দোতলার আইসিইউ'র বাইরে একটা ছোট রুমে ওকে ডেকে নেন। কিছু বুঝে উঠার সময় না দিয়েই ওর সামনে একটা কনসেন্ট পেপার সাইন করতে দিয়ে উনি ভেতরে চলে যান। কনসেন্ট পেপারের কাজটা কী বোঝার চেষ্টা করতে ও যখন কাগজটা পড়তে শুরু করে, ডাক্তার আবার আইসিইউর বাইরে এসে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য ওদের প্রস্তুত থাকতে বলেন। নিচের ফ্লোরে আম্মা তখন তসবীহ হাতে বসে আছেন। আত্মীয়স্বজনরাও কেউ কেউ আসা শুরু করছিল ততক্ষণে। কে আসতেছেন, বা কে কী বলতেছেন- ওর মাথায় তখন কিছুই আর ঢুকতেছিল না।

কনসেন্ট পেপারটার দিকে টানা ৫ মিনিট তাকিয়ে থাকার পর সাইন করে ও। এরপর ডাক্তার এসে আব্বার কানের কাছে শেষবারের মতো দোয়া পড়তে আইসিইউর ভেতরে নিয়ে যান। নাকে-মুখে অসংখ্য নল লাগানো আব্বাকে দেখে ওর ভয়ংকর যন্ত্রণা হলেও ওই মুহূর্তে শক্ত থাকতে হইতেছিল। ভাইটাল সাইন মনিটরে একদিকে বিপ বিপ সাউন্ড হইতেছে, অন্যদিকে ক্রমশ আব্বার রক্তচাপ আর অক্সিজেন ড্রপ করতেছিল। ঠান্ডা হয়ে আসা আব্বার কপালটা ছুঁয়ে কানের কাছে কয়েকবার কালেমা তাইয়্যিবা পড়ে ও। একবার সূরা ইয়াসিন। লাইলাতুল বরাতের রাত ছিল সেদিন। মাগরিবের আজান দেওয়ার ঠিক কয়েক মুহূর্ত আগে ডাক্তাররা লাইফ সাপোর্ট খুলে ফেলার সিদ্ধান্ত জানালেন। কিছু বুঝে উঠার অথবা এক ফোঁটা চোখের পানি ফেলবার আগেই ওর হাতে ধরিয়ে দেওয়া হলো- ডেথ ডিক্লারেশন পেপার।

দায়িত্ব ওখানেই শেষ হয় নাই। আব্বার গোসল, জানাজা, দাফন- একে একে এ রকম অসংখ্য সিদ্ধান্ত নিতে হইতেছিল ওকে। ওই রাতে ফ্রিজার অ্যাম্বুলেন্সে আব্বাকে রাখা হয় নিকেতনের বাসার গ্যারেজে। রাত তিনটা পর্যন্ত আত্মীয়স্বজনের খাওয়া আর ঘুমের জায়গার তদারকি করে কেউ কেউ যখন ঘুমে বা দোয়া-দুরুদ পড়তে ব্যস্ত, ও তখন চুপচাপ গ্যারেজে গিয়ে আব্বার সঙ্গে শেষবারের মতো কথা বলার সুযোগ পেল। লাইফ সাপোর্টের নলের কারণে কি না, কে জানে, উনার নাকের কাছে ও রক্ত শুকিয়ে কালো হয়ে যাওয়া ছোপ ছোপ দাগ দেখলো। কপালে বরফের কারণে বিন্দু বিন্দু পানি জমে ছিল। অনেকক্ষণ অ্যাম্বুলেন্সের জানালার কাঁচটা ধরে দাঁড়িয়ে থাকার পর ও বিড় বিড় করে বলছিল- আমাকে মাফ করে দিও, আব্বা। আমি তোমার ব্যর্থ সন্তান। এই দুনিয়ায় যন্ত্রণা ছাড়া আর কিছুই দিতে পারি নাই তোমাকে। অনেকদিন ঘুম হয় নাই তোমার, এবার একটু আরামে ঘুমাইয়ো।

পরদিন বাদ জোহর মিরপুরে স্নেহার দাদাবাড়ির পাশের মসজিদে আব্বার জানাজা পড়ানো হলো। এরপর কালশী কবরস্থানে দাফন করা হয় ওর দাদীর কবরের পাশে। দাফনের কাজ শেষ হওয়ার পর ও আম্মার সঙ্গে নিকেতনের ফ্ল্যাটে যায়। যদিও ওই সময় ও চন্দ্রিমা মডেল টাউনের ফ্ল্যাটে থাকতো। নিকেতনে গিয়ে শাওয়ার নিয়ে যখন বিছানায় গিয়ে মাত্র বসলো, ঠিক ওই সময়ই আবিরের টেক্সট আসে ওর কাছে। ওইটাই সম্ভবত স্নেহাকে লেখা আবিরের সবচেয়ে দীর্ঘ আর মনের ভেতর থেকে আসা একমাত্র সত্যিকারের অনুভূতিসম্পন্ন টেক্সট ছিল। ওই টেক্সটের শেষ প্যারাতে সূরা বাকারার আয়াত ২৮৬ মনে করিয়ে দিয়ে ও লেখে- “আল্লাহ ডাজেন্ট বারডেন অ্যা সৌল দ্যাট ইট ক্যান বিয়্যার।”

পুরা টেক্সটা পড়ার পর বাবার মৃত্যুর প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর স্নেহা কাঁদার শক্তি পাইছিল। হাহাকার জড়ানো চিৎকারে কেঁদে নিজেকে ও উপলব্ধি করালো- আব্বা আর এই পৃথিবীতে নাই। সারা জীবনের জন্য ও পিতৃহারা হলো, ভালোবাসা শূন্যও। পৃথিবীতে ওকে একজন মানুষই ভালোবাসতেন, সেও একা রেখে চলে গেলেন। আবিরের ওই চমৎকার দীর্ঘ টেক্সটটাই ওকে দায়িত্ববোধের খোলস থেকে বের হয়ে বাবা হারানোর শোকে কাঁদার সুযোগ করে দিলো। সম্ভবত ওই মুহূর্ত থেকেই, সম্পূর্ণ অবচেতন মনে ও আবিরের ওপর কিছুটা ডিপেন্ডেন্ট হয়ে পড়ছিল। যদিও তখন ওদের সম্পর্ক অতটা গভীর ছিল না; বরং আগের কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে তখনও পর্যন্ত সম্পর্কটা ফরমালই ছিল। আবিরকে যে ও ভালোবাসে, তখনও পুরাপুরি বুঝে উঠে নাই। এর আগেই অনেক ঘটনা ঘটে যায়। তবে আবিরকে ও প্রথম থেকেই প্রচণ্ড পছন্দ করতো। ও ছিল ওর কাছে আর আট-দশটা পুরুষের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। আবিরের ব্যক্তিত্ব আর মায়ার আকর্ষণে না পড়ার কোনো কারণ ও তখনও পর্যন্ত খুঁজে পায় নাই। ফলে কিছু চড়াই-উতরাই থাকলেও ভালো লাগার জায়গায় ওইসব খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারে নাই। ঠিক দুই বছর এক মাস ৫ দিন পর এই মধ্যরাতে ওর যখন আবিরের ওই দীর্ঘ টেক্সটটার কথা মনে পড়তেছে, ভেতরে এখনো যতটুকু হৃদয় অবশিষ্ট আছে, এর অন্তঃস্থল থেকে কৃতজ্ঞতা বোধ অনুভব করলো। আবিরের কাছে ওর আরও অসংখ্য বিষয়ে কৃতজ্ঞতা বোধ আছে।

এ রকম ছোট ছোট অনেক ঘটনার কথা ভাবতে গিয়ে ওর মনে হলো- আব্বার অনুপস্থিতিতে কখন যে ও নিজের সবচেয়ে বড় আশ্রয়স্থলে আবিরকে প্রতিস্থাপন করে ফেলছিল, নিজেও জানে না। আবিরের কাছে থাকলে ও কখনো একটা ছোট্ট শিশু হয়ে উঠতো; কখনো চঞ্চল-ছটফটে-জেদী বালিকা, কখনো বা উন্মাদ কিশোরী, কখনো এক নিষিদ্ধ প্রেমিকা, আর কখনো বা মায়ের মতো মমতাময়ী। পৃথিবীতে আবিরই একমাত্র পুরুষ যে এক প্রচণ্ড ইনটেন্স জার্নির মধ্য দিয়ে গত দুই বছর ওর সমস্ত বয়সের এক্সপেরিয়েন্স একইসঙ্গে ফিল করানোর সামর্থ্য আর ক্ষমতা রাখছিল। আবিরের ইমোশনাল ইলিটারেসি কিংবা ওর বিহেভিয়র প্যাটার্ন থেকে শুরু করে নানা কিছু নিয়েই ওর হাজারটা অভিযোগ থাকতে পারে, আবিরেরও নিশ্চয় ওকে নিয়ে হাজারটা অভিযোগ আছে। কিন্তু মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত ও পরিপূর্ণ সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করার পাশাপাশি দ্ব্যর্থহীনভাবে স্বীকার করে আবিরকে কৃতজ্ঞতা জানাবে এই কারণে যে- পৃথিবীতে আব্বার পর একমাত্র আবিরই ওর সমস্ত পাগলামী-রাগ-জেদ-অভিমান সহ্য করছে। ও এটাও জানে, আব্বার পর যদি কেউ সত্যিই ওর ক্যারিয়ার, জীবন, যাপন ব্যবস্থা, সুস্থতা নিয়ে জেনুইনলি কনসার্ন ছিল- সেটাও একমাত্র আবিরই।

আব্বার মতোই ঠিক একইভাবে মাথায় হাত দিয়ে আবির ওকে আদর করে দিতো, চুমুও খেত কপালে। একজন পুরুষ কেবলমাত্র তার পছন্দের নারীর ক্ষেত্রেই এ রকম জেসচার শো করেন। মৃত্যুর আগে কোনো কিছু নিয়ে যদি ওর আফসোস থাকে, সেটা একমাত্র আবিরের হাত ওর মাথা থেকে উঠে যাওয়ার আফসোসটাই থাকবে। আবির কখনো জেনেশুনে এক মুহূর্তের জন্যও ওর খারাপ চায় নাই বা ওর কষ্ট হোক, এমন প্রত্যাশাও করে নাই। ও এটা খুব ভালো করেই জানে। কিন্তু মানুষ যা প্রত্যাশা করে, এর প্রতিফলন সবসময় ঘটে না। অথবা তারাই হয়তো নিজেদের সীমাবদ্ধতার কারণে ঘটাতে পারেন না। স্নেহা ওই দিনগুলার কথা মনে করার চেষ্টা করে। আব্বা মারা যাওয়ার মাত্র ১২ দিনের মাথায় ও নিজের শরীরে পরিবর্তন টের পায়। প্রায় দুই মাস যাবত ওর পিরিয়ড হইতেছিল না। কিন্তু আব্বাকে নিয়ে ঢাকা-কলকাতা-ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে দৌড়ঝাঁপে ওই বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার সময় তখন ওর হয় নাই। আব্বা চলে যাওয়ার পরপরই অনেকগুলা ঘটনা খুব দ্রুতই ওর সঙ্গে ঘটে- একদিকে আবিরের সঙ্গে মিউচুয়্যাল সম্মতিতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নের সিদ্ধান্ত হলো; এর কিছুদিন আগেই, নিজের শরীরের ভেতর ও আরেকটা প্রাণের অস্তিত্ব টের পেল।

৩৬ বছর বয়সের একজন সিঙ্গেল নারী সন্তানসম্ভবা! বাংলাদেশের মতো দেশে বসে এমআর ব্যতিত আর কোনো বিকল্প ভাবার অবকাশ ওর ছিল না। এই দায় থেকে আবিরকে ও মুক্ত রাখতে চাইছিল, যেহেতু এই ইনসিডেন্টে ওর নিজেরও সমান দায় আছে। ওর বরং তখন মনে হইছে, আবিরের চেয়ে ওর দায়টাই ওইখানে বেশি। এ কারণেই ও আবিরকে কিছু জানায় নাই। ৮ মার্চ ২০২৪ রাতে প্রেগন্যান্সি টেস্টের পজেটিভ রিপোর্ট আসে। পরদিন সকালেই ও চলে যায় ধানমন্ডির মেরী স্টোপস ক্লিনিকে। আল্ট্রাসনোগ্রাফির রিপোর্টে জানা যায়, ভেতরের প্রাণটার ততদিনে হার্টবিট চলে আসছে। আল্টাসনোর রুম থেকে বের হয়ে স্নেহা ওয়াশরুমে ঢুকে। বেসিনের কলটা ছেড়ে অনবরত মুখে পানির ঝাপটা দেয়। চোখের পানি আর কলের পানি এক হয়ে বেসিন ওয়েস্ট দিয়ে চলে যাইতেছিল কোনো এক অজানা নর্দমায়। দুইটাকে আলাদা করে নিজেকে ওই মুহূর্তে দুর্বল করতে চাইতেছিল না ও।

একটা অদ্ভুত জার্নির ভেতরে মেরী স্টোপসের দুপুর থেকে বিকালের কয়েক ঘণ্টা কাটে। ধীরে ধীরে কাটতে থাকে এনেস্থেশিয়া। অপরাধীর মতো ওর ছটফট মন তখন মেরী স্টোপসের ওই কেবিন থেকে বের হয়ে চন্দ্রিমার ফ্ল্যাটে ফিরতে অস্থির হয়ে উঠে। কিন্তু ডাক্তার এসে জানান- ওটিতে ওর ভয়ংকর ব্লিডিং হওয়ায় ওই রাতে ওকে রিলিজ দেওয়ার রিস্ক তারা নেবেন না। একদিকে ওর শরীরে স্যালাইন চলতেছিল, অন্যদিকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ। প্রায় ঘোরের ভেতর দিয়েই ৯ মার্চের রাতটা ওই ক্লিনিকে কাটিয়ে দেয় ও। এমন একটা ইনসিডেন্ট ওকে একা ডিল করতে হইছে- এর বহিঃপ্রকাশ একমাত্র লেখার মাধ্যমেই ও করতে পারতো। এর বাইরে কাউকে দোষারোপ করা অথবা কাউকে এই বিষয়ে দায়গ্রস্ত করা কিংবা কাউকে ইন ফ্যাক্ট এই বিষয়ে ইনফর্ম করাও ওর প্রয়োজন মনে হয় নাই।

এর মাত্র তিন দিন পর আবির টেক্সট করে দেখা করতে চাইলো ওর সঙ্গে। মেরী স্টোপসের ঘটনার বিষয়ে ও কিছুই জানে না। স্নেহা খুব সচেতনভাবেই এই বিষয় থেকে ওকে দূরে রাখতে চাইছিল। ও চায় নাই এই ঘটনা জেনে ও ভয় পাক অথবা অ্যাংজাইটিতে ভুগুক। কিংবা কখনো মনে করুক, একটা টিপিক্যাল নারীর মতো স্নেহা ওকে এই বিষয় জানিয়ে ব্ল্যাকমেইল করতে চাইছে। ততদিনে স্নেহা বুঝে গেছে; ওর হৃদয়ে আবিরের প্রতি যে অনুভূতি, ওইটা আর শুধু ভালোলাগার মধ্যে সীমাবদ্ধ নাই, বরং তীব্র ভালোবাসা বোধেই পুরা ইনসিডেন্ট থেকে ও আবিরকে দূরে রাখতে চাইছে।

দিন দুয়েক পর স্নেহা আবিরের সঙ্গে দেখা করে। আবির জানায়- হি নিডস টু মুভ অন। হি লাভস হিজ ফ্যামিলি, হিজ ডটার। স্নেহার কাছ থেকে মুক্তি চায় ও। তখনো তিন দিন আগের শরীরের ধকল পুরাপুরি সামলে উঠে নাই স্নেহা। শরীর-মন দুইটাই ক্লান্ত আর বিধ্বস্ত। আবিরের ওই মুক্তি চাওয়ার মিনতিতে ওর ভীষণ মায়া হয়। মুক্তির কথা শুনে ও মনে মনে হাসেও। কোনো মানুষকে কি আরেকটা মানুষ মুক্তি দিতে পারে? না সেটা দেওয়া সম্ভব? মানুষ তো জন্ম থেকেই চিরবন্দি। মৃত্যুর আগে কোনো মুক্তিই তো আসলে পার্মানেন্ট না। নিজের এইসব ভাবনার কিছুই ও আবিরকে বলে না। আবিরের মুক্তি প্রার্থনার উত্তরে শুধু একগাল হেসে বলে- আমার কাছ থেকে তুমি মুক্ত। ওইদিন রাতে চন্দ্রিমার ফ্ল্যাটে ফিরে টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্ট ডিলিট করে দেয় ও। ওইটাই ছিল আবিরের সঙ্গে ওর একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম। আব্বা চলে গেলেন; শরীরে একটা নতুন প্রাণ আসলো, যাকে এই দুনিয়ায় একা আনার সাহস ওর হলো না, অপরাধীর মতো বিদায় দিতে হলো। এরপর চলে গেল আবিরও। পুরা পৃথিবীটাই ওর কেমন যেন থমকে যাইতেছিল।

অফিস যাইতেছে, বাসায় ফিরতেছে…একটা অদ্ভুত অনুভূতিশূন্য সময় ওকে কাটাতে হইতেছিল। ক্রমাগত ওই শূন্যতা ওর এগজিসটেন্স সম্পর্কেই ওকে সন্দিহান করে তুলতেছিল। মানসিক অবসাদের ডালপালা চারপাশ থেকে ওকে ঘিরে ধরতেছিল প্রচণ্ড বিশ্রীভাবে। ভেন্টিলেশনের কোনো জায়গা ছিল না ওর। নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলা কারো সঙ্গে শেয়ার করার সুযোগও ওর ছিল না আবিরের প্রাইভেসির কথা চিন্তা করে। এর মাস খানেক পর এক রাতে এক বসাতেই এইসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে ও ম্যারিড, হেয়্যার ফর ফান নামে একটা ফিকশন লেখে। পরদিন সকালে একটা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তা পাবলিশডও হয়। ঘুণাক্ষরেও ওর ধারণা ছিল না, ওই এক মাসের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার মাঝেও আবির ওর সোশ্যাল মিডিয়া স্টক করে যাইতেছিল। খুব স্বভাবতই ওই ফিকশন আবিরের চোখ এড়ায় না। ও সেটা খুব মনোযোগের সঙ্গেই পড়ে। ওই ঘটনার অংশীদার যে ও নিজে, এটা বুঝতেও ওর অসুবিধা হয় না কোনো।

রোজার মাস চলতেছিল। বিকেল ৪টায় অফিস ছুটির পর স্নেহা সোজা বাসায় চলে যেত। একদিন বিকালে বাসায় ফিরে ফ্রেশ হতে যাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে ওর কাছে আবিরের টেক্সট আসে, তাও আবার ডিরেক্ট ফোন নম্বর থেকে। আবির লেখে- আই নিড টু টক, ক্যান ইউ নক মি অন টেলিগ্রাম? শুধু পারসোনাল নম্বর থেকেই না, অফিশিয়াল নম্বর থেকেও ওই একই টেক্সট পাঠায় ও। ওই টেক্সট স্নেহার কাছে একদমই এক্সপেক্টেড ছিল না। এর কিছুদিন আগে কিংফিশারে বসে ও মুক্তি চেয়ে চলে যাওয়ার পর ওদের একসঙ্গে কাটানো স্মৃতি নিয়েই বাকিটা জীবন কাটিয়ে দেবে ভাবছিল ও। কিন্তু ওই বিকালের ওই টেক্সট ওই ভাবনায় চ্ছেদ ঘটালো।

চেজিং দ্য ড্রাগন: ডোন্ট ট্রাই টু ফাইন্ড মি

Comments

    Please login to post comment. Login